Skip to main content
Internet Archive's 25th Anniversary Logo

Full text of "Prabandhastock"

See other formats







কলিকাতা 


মূল্য ॥৮/* মাত! 


মহিলা প্রেস্‌ 
২৭, ২৯ প্টলডাঙ্গা স্ত্রী, কলিকাতা । 
চর 


শ্রীবিপিন বিহাবী নাথ কর্তক মুদ্রিত । 
এবং 
শ্ীউপেন্দ্রনাথ পাল চৌধুৰী কর্তৃক 
২০নং পটুষাটোলা! লেন হইতে প্রকাশিত। 


১1 
চা 
৩। 
৪ | 


৫। 
ঙ। 


থু 


সূচীপত্র । 


প্রথম প্রবন্ধ-__শিক্ষিত সম্প্রদাষের প্রতি 
দ্বিতীয় প্রবন্ধ-__মাধুনিক সংস্কৃত শিক্ষা সমাতোচনা 
তৃতরীষ প্রবন্ধ__-ভট্িকাবোব গ্রস্থকাঁব 
চতুর্থ প্রবন্ধ--কালিদীসেব কাহিনী 
(১) বিবা 
(২) বিদ্ালাভ 
(৩) কর্ণাট বিজয যাত্রা 
(৪) কর্ণাট ব|জ প্রশস্তি £ 
(৫) নানা সমস্যা পৃবণ 
(৬) উপসংহ্রাব 
পঞ্চম প্রবন্ধ-শকাঁদশ্ববীব উপণাদান 
৬ষ্ঠ প্রবন্ধ__পূর্ণানন্দ গিবি 9 কামাখা। যতাগীঠ 
সপ্তম প্রবন্ধ__বকিব শাহজলাল 
(১) সময নিপণ 
(২) জীবন কাহিনী 
অষ্টম প্রবন্ধ_সুথ ও দুঃখ 


১২ 
ন5 


৩৮ 
৪৭ 
৫৪ 
৬ 
৬৯ 


৭৯ 


৯৬ 


১১০ 


১২১ 
১৪২ 


শ্রীপঞ্চাননো জনকো মাতা শ্রীহবন্থন্দরী | 


স্বর্গতৌ €তী মতে ভক্ত্যা জগতঃ পিতরাবিব ॥ 





পা টি ই 


রা 


নী 
সি 


স্যু্পম্বন্জ | 


কিক 


ভাবতীব ববপুভ্র কালিদাসই যখন তদীয মহাঁকাব্য বঘুবংশের প্রাবস্তে 
লিখিয়াছেন, “মন্দ: কবিষশঃ প্রা্গী গমিব্যাম্মুপহাশ্ততাম্”, অথচ রঘুবংশ 
তাঁহার সর্বপ্রথম গ্রন্থ নহে বলিাই সকলেব বিশ্বাস, তখন, যে ব্যক্তি 
অদা ক্ষুদ্র একখানি প্রবন্বপুস্তক হস্তে লইয়া সাহিতপ্রাঙ্গনে প্রবেশ 
লাভার্থ রতোদ্যম, সে আব কি বলিবে ? 

জননী মাতৃভাষাব চবণ প্রান্তে, ধাহাবা কৃতিসস্তান তাহারা বহুমূল্য* 
মণিমুক্তাদি অর্পণ কাঁবিষা কৃতার্থ হন , যাহাব শক্তি সামান্ত সে অকিঞ্চিৎ- 
কব কোনও কিছুমাত্র প্রদান কবিতে পারিলেই নিজকে ধন্ত-মনে কবে , 
ননী কখনই সন্তানের ভক্তি উপাঁব উপেক্ষা করিতে পাঁরেন না। ইহাই 
প্রবন্ধাষ্টরক প্রকাশে ভরসা । 

এই পর্যান্ত বাঙ্গালা পত্রিকাদিতে যে সকল প্রবন্ধ লিখিযাছি তাহাঁব মধ্যে 
মাটটি প্রবন্ধ লইয়া এই প্রবন্ধাষ্টক সংকলিত হইল । 

“সারম্বতপত্র” ও “সাহিত্যসেবকের” সঙ্গে আমাৰ সম্পর্ক একটু ঘনিষ্ঠ 
ছল, অবান্তব হইলেও এতং সম্বন্ধে ছুই একটি কথা এই স্থলে বলা 
মাবস্তক মনে করিতেছি । 

ঢাকাস্থ সুবিখ্যাত সাঁরস্বতসমাজের সম্পাদক মহামহোঁপাধ্যায় শ্রীযুক্ত 
্রসন্জ্্ বিদ্যারত্ব মহোদয় উক্ত সমাজের মুখপত্র “সারম্বতপত্রের” স্সপাদন 
ভার কিয়দ্দিবসের নিমিত্ত তাহার এই অকৃতী ছাত্রের উপর অর্পণ করেন। 


2৬ 





তখনও আমাব বিশ্ববিদ্যালয়েব পরীক্ষোত্তরণ কার্য্যের সমাপন হয় নাই, 
এবং তৎকাল পর্যস্ত আমি বাঙ্গাল! ভাষায় কোনও প্রবন্ধ রচন। কবি নাই। 
সেই সাপ্তাহিক পত্রে নৃতন উদ্যমে লিখিত প্রবন্ধাবলীব মাধ্য দুইটি, নিতান্ত 
ক্ষুত্রায়তন হইলেও, এই গ্রন্থে অস্তনিবিষ্ট হইল । দুংখেব বিষয় সাবন্ব্ত 
পত্র বহুকাল হইল কালেব কুক্ষিগত হইয়া গিয়াছে । 

বাজকার্যোপলক্ষে সর্বপ্রথম আমাকে আলমামের বাজধানী খাঁসিয়। 
পাঙ্গাডেব মণ্যবত্তী শিলং সহরে যাইতে হইযাছিল। সেইস্বলে কতিপয় 
বঙ্গসাহিত্তাঙ্বক্ত ব্যক্তি করক সংস্থাপিত “শিলং সাহিত্যসভ1” নামক 
একটি পুস্তকাগাব ছিল , ইভাকে ম্বর্থনামা কবিবাব জন্ত ইহাব একটি 
সমালোচনী শাখা স্থাপিত হইয়াছিল, এব" তাহাতে মদ মব্যে সাহিত্য 
'বিষষক প্রবন্ধ পাঠ হইত | তস্মপ্ধা একটি প্রবন্ধ “ভষ্টিকাবোব গ্রস্থকাব” 
“তদানী* বঙ্গবা্ী পত্রিকার কর্তপক্গী়গণকরুঁক সুদক্ষ ভাবে পবিচাঁলিত 
“জন্মর্ম” পত্রিকাষ প্রকাশিত ভঈযাছিল | এই প্রবন্ধটি ও প্রবন্ধাষ্টকেন 
একতমবূপেন্পুনঃ প্রকাশিত হইলএ 

এই সাহিত্য সভার সদস্যগণ “সাহিত্যসেবক” নামে একখানি মাসিক 
পত্র কিঞ্চিদদিক ছুই বংসবকাল প্রকাশিত কবিয়াছিলেন , ইহাব সম্পাদক 
সমিতিব সভারূপে আমাকে কাজ করিতে হইয়াছিল । সেই পত্রিকায় 
মল্লিখিত প্রায় সমস্ত প্রব্ন্ধই এই গ্রস্থমদ্যে স্পিবেশিত কৰিব “সাভিত্য- 
সেবকের” এবং অধুনা! বিলুপ্ত “শিল" সাহিত্যসভাব" স্ৃতি সংরক্ষণার্থ কথঞ্চিৎ 
প্রয়াস করিয়াছি । 

আসাম প্রদেশের ইতিবৃত্ত সম্বন্ধে এব* মোসলমান মহাপুরুষগণের বিষয়ে 
বঙগদেশীয় জনসাপারণ অতি মল্পই অবগত আছেন। এই নিমিত্ত ময়মন- 
সিংহ চ্ষইভে প্রকাশিত “আরতি” পত্রিকায় লিখিত “পূর্ণানন্দগিরি ও 
কামাখ্যামহাপীঠ” নামক প্রবন্ধটি এবং ইদানীং নির্ববাপিত “প্রদীপ” 


৩/১ 











পত্রে প্রকাশিত “ককিব শাহজলাল” সঙ্বন্ধীয় প্রবন্ধ এতদ্‌ গ্রস্থতৃক্ত করিয়া 
পুনশ্চ বঙ্গীয় পাঠকবর্গের সমক্ষে উপস্থাপিত কৰা হইল। 

সমন্ত প্রবন্ধেই অল্প অঙ্গ সংশোঁধন করিতে হইয়াছে । কিন্তু কুত্রাপি 
বিশেষ ভাবে পরিবজ্জন বা পবিবর্ধনের প্রয়াস পাই নাই। সুদূববদধিস্থান 
হইতে প্রাক দেখিতে হইয়াছে, তজ্জন্ত ছুই চারিটি স্থলে অশুদ্ধি থাকিয়া গেল। 
সহ্ৃদয় পাঠকবর্গ তাহা নিজগুণে সংশোধন করিয়া লইবেন । 

ইতি-_ 


কটন কলেজ, গৌহাটি। 1 ভ্রীপদ্মনাথ দেবশর্ম্মা। 


১৩১৭ বঙ্গাবাঃ। 






৯, | ৰ সা. প ৃ 
৪ উপ 5 জা, মা ১৮ 
। উপন্ধত জা” ই৯ ৪) 
শিক্ষিত সম্প্রদায়ের প্রতি । 
2০. এ: 


সকল কাজেরই একটা উপক্রম আছে। অধিকাংশ স্থলেই 
দেখা যায, একাধিকবাব উপক্রমের পর কার্য্যেব স্চাক সাধন 
হইয়। থাকে । সকুদ্ুপক্রমের ফলাফলেব উপর নির্ভর করিলে, 
এ জগতে আনেক বড বড কাজ অগ্য পর্যন্ত স্থুসিদ্ধ দেখিতে 
পাইতাম না। 
বাহবা আজ ক।ল ব্্ভাষাধ মাসিক পরাদিতে প্রবন্ধ লিখি- 
বার নিমিন্ত তনু নদ্ধ হইনে সঙ্কুচিত চিন্তে পরিহার প্রার্থন। করেন, 
সেই সকল স্তরশিক্ষিত বা্ির্গেব নিকট ছুই একটি কথ! বলাই 
এই প্রস্তাবের উদ্দেশ্য । উপবি লিখিত কথাগুলি অবশ্যই 
তাহাব। বিদিত আছেন। লিখিবাব উদ্যম মাত্রই যে কেহ 
বঙ্কিমচন্দ্র কি কালীপ্রসন্ন হইযা বসিবেন, ইহ। প্রত্যাশ। করিতে 
পাবা যাঁধ না, এনং চেন্ট। কবিলেও, সকলেই যে “হলেখক” 
জ্।ভাক্‌ ভইবেন, এ কথাও বিশ্বাসযোগ্য নহে । তবে, সাধা- 
রণেব নিকট সকলেবই অপেক পম কিছু কিছু বলিবাব থাকিতে 
পাবে , তাহা প্রাযশঃ মৌখিক বলিবাৰ সুযোগ ও স্থৃবিধা ঘটিযা 
উঠে না, ঘটিলেও তাহা! সচবাচব নিতান্ত ক্ষ-স্থাবীই হয়। 
স্তবাং যাহ! বক্তব্য, হাতে কলমে তাহ! বিজ্ঞাপিত করাই সুবিধা । 
সকলেই, চেব্ট! করিলে, “স্থুলেখক” না হউন, মনের কথাটা 


২ প্রবন্ধাষ্টক। 

ভালবূপে সাধ।বণের পবিজ্ঞানার্থেপত্রস্থ কবিতে পাবেন, ইহা এক 
প্রকার ফ্রব। এবং তন্নিমিন্ত উপক্রম কবা সুশিক্ষিত ব্যক্তি- 
মাত্রেরই অবশ্যকর্তবা 1 

কৃতৰিদ্ক নম্প্রদাধেৰ নিকট লোকে অনেক প্রত্যাশা কবিষা 
থাকে £ তাহাব। কোন্‌ বিষযে কি মতামত প্রকাশ কবেন, ইতব- 
সাধারণ উহ! জানিবাব নিমিভ্ উদগ্রীব হইয়া থাকে । সদাশব 
ইংবাজ-রাজেব কৃপায, শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গ নানাদেশের নান: 
জাতিব যে সকল জ্ঞানরাশিব অধিকাবা হইবাছেন, দেশস্থ সাধাবণ 
ব্যক্তিবর্গেব সমীপে উহাব প্রচার কৰা কি বিধেয নহে? অজ্ঞতা 
বা কুশিক্ষা প্রভাবে দেশে ও সমাজে বে সকল কদাচাব প্রবর্তিত 
হইযাছে বা হইতেছে, স্বদেশীঘ ও বিদেশীষ শীল এবং ধন্্নীতি 
প্রস্তুতির আলোচনাদ্বাব৷ মা্িতনুদ্ধি সুশিক্ষিত সম্প্রদীঘের 
উহা দৃবাকরণার্থে লেখনী ধাবণ কব! কি কর্তব্য নহে ?_-এবং 
বদি ইহ! বিহিত কম্ম বলিব! বিৰেচিত হয, তাহা হইলে শিক্ষিত 
ব্যক্তি মাত্রেরই মনেব ভাব সুন্দবপে লেখনী-মুখে ব্যক্ত করিতে 
যত্র করা কি উচিত নহে? 

বর্দমীনে অন্মদ্দেশীয়, কৃতবিছ্া সম্প্রদাধেব একট। বড়ই 
কলঙ্কের কথা শুনিতে পাওযা যায 1 বিগ্ভালযেব নিসীম: 
অভিক্রম কবিয়। বাহাব। শিক্ষাবিভাগের বহির্ভাগে বিচরণ কৰেন, 
তীহাদের অধিকাংশেই পুর্ববাধীত বিদ্ধা একেবারে ভুলিয়! যাঁন ; 
অপর সাধারণ লোকহুইতে তাহাদিগকে ৰাছির! বাহির কর 
এক প্রকার দায় হইযা উঠে। কেন এমন হুইল ? 


শিশিত সম্প্রদাষেব প্রতি । ৩ 


বাইবেলে একটি উপকথা আছে। কোন প্রভু তদীয ভূত্য- 
ত্রযকে বথাক্রমে পাঁচটি দুইটি ও একটি মুদ্রা প্রদান পুর্ববক 
বিদেশ চলিয! বান। এখম ভূত্যটি তাহাব পাঁচটি মুদ্রাদ্ধারা 
ব্যবসাধ করিব! আব পাঁচটি লাভ কবিল। দ্বিতীয ভত্যও এঁরূপে 
আব ছুইটি মুদ্রা উপাচ্ন ববিল। হৃতীব ব্যক্তি, পাভুব মুন্রা 
প্রভুকে ফিরাইয! দিতে হইবে ভাবিযা, তদ্দ্ধনার্থে কোনও চেষ্টা 
কবা বিধেষ বিবেচন! কবিল না। বথাসমধে প্রভু প্রত্যাগত 
হইলে আপন আপন বুণ্তান্ত নিবেদন করিযা প্রথম ব্যক্তি 
দশটি, দ্বিতীব ঢাঁবিটি এবং তৃতীর একটি মুদ্র। আনিয়া, তীহাকে 
প্রত্যর্পণ কবিল। প্রথম ও দ্বিহীষেব প্রতি প্রভু নিরচিশয 
প্রীত হইযা বখোচিত পুবস্ব]নই বিধান কবিলেন; পরন্তু তৃতীব 
ভৃত্যকে নিতান্ত জকন্মণ্য ভাবিয। িরস্কাব পুর্ববক দুব করিয! 
দিলেন। 

আমাদের ধর্তমান-কালীন শিক্ষিতের দলও প্রভুর ভৃতীব 
ভূত্যেব সম-শ্রেণীস্থ নছেন কি? তীহাব৷ বিদ্ভালযপ্রদত্ত জ্ঞান 
সাধারণ মধ্যে প্রচাব বপ ব্যবসায দ্বাব৷ পরিপুষ্ট করেন না, তাই 
স্থবীসমাজকর্তৃক তিরস্কীরের ভাজন হইয়া থাকেন। ভাহাদেৰ 
নিকট এই মাত্র নিবেদন,__ভীহাব। একটু আলম্ত পবিত্যাগ 
করুন ; একবার অধীত বি্কাব আলোচনা ককন , এবং দেশ- 
মধ্যে উহা শ্রাচার করিষ! উপাঁব লিখিত কলঙ্ক অপনোদন ককন। 

গ্রস্থারজি্িত-জ্ঞীন বিশ্ববিগ্ভালয-বিনির্গত ব্যক্তি-বুক্জই ফে 
কেবল এই প্রবন্ধের বিবয়াভূত, এমন নছে। “শিক্ষিত 


৪ প্রবন্ধাইক ॥ 


পর্যযায়ে এমন সকল ব্যক্তিকেও ধরা গিযাছে, ধীহারা নিজের 
ভূয়োদর্শনের ফলে অভিজ্ঞতা লাভ করিযা মানব সাধারণকে 
শিখাইবার ও বুঝাইবার উপযুক্ত অনেক বিষয় শিখিয়াছেন ও 
বুঝিয়াছেন, ধাঁহাদের চরণসমীপে বসিষ! অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের 
বরপুকজ্র, সংসার, সমাজ, ধন্মনীতি প্রভৃতি গুকতব বিষষের সমীচীন 
মীমাংসা শিক্ষা করিতে পারেন । অর্ববাঁচীন সমাক্ষেব উপদেশার্থ, 
উল্লেখিত প্রাচীনগণেব লেখনী ধাবণ কব! কি উণ্চত নহে ? 
এক্ষণে দেখা গেল যে লিখিবাব জন্য, অর্থাৎ মনেব ভাব 
স্থন্দবপে লেখনীমুখে ব্যক্ত কষ্িবাব নিমিত্ত, চেষ্টা করা 
সকলেবই কর্তব্য। বিষষটি একটু তল/ইযা দেখিলে বিছু সহজ 
বলিষাই অনুমিত হইতে পাবে। ঘ্বানব মাত্রই আমঝ। নিজ 
নিজ মনের ভাব বাগযন্ত্র কিম্বা লেখনীযান্ত্রব সাহায্যে আশৈশব 
প্রকাশ করিঘা আসিতেছি । বিশেষতঃ ধাছাব। সুশিক্ষিত, 
তীহাব! ছাত্রাবস্থায দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক, সাংবসবিক, 
বৈশ্ববিদ্ভালযিক ঞরভূতি অগণন পবাক্ষাসু্ধে উক্ত যন্তদ্ধযেব মত্যুদার 
ব্যবহাব কবিযাছেন; সম্প্রতি সংসাব-মঞ্চে উকীল হাকিম, 
কেরাণী ও শিক্ষক ইত্যাদিবিব্ধি বেশে এ দুই ঘন্ত্রেবই সহাযতায 
বিচরণ করিতেছেন, এবং এতদ্দাৰা মনের নান ভাব ব্যক্ত কবিব! 
আদিতেছেন। স্থতবাং ইহাব নিমিত্ত প্রযাসের কথ! কেন ?£ 
কথাট! এই যে, যাহ। সাধাবণেৰ দমালোচনার অবীন কদিয! পত্রস্থ 
করিতে হইবে, তাহা যেবপে একটু সংযত করিযা ও বিশুদ্ধভাবে 
প্রকাশিত হয, ত্পক্ষেই চেষ্টার প্রয়োজন; কেন না বিষষকর্মে 


শিক্ষিত সম্প্রদায়ের প্রতি । ৫ 


ৰা চিঠিপত্রে, আমর। ভাষার সংযত ও বিশুদ্ধ ভাবের প্রতি মনো- 
যোগ দিবার অবসর সচরাচর পাইয়া উঠি না। 

কিন্তু আরও একটি কথা, একটু গুকতর কথাই বক্তব্য রহি- 
য়াছে। পূর্ব্বে ষে বাগযন্ত্র ও লেখনীযন্ত্রের পরিচালনার কথা 
উল্লেখিত হইযাছে তাহার অধিকাংশ স্থলেই, মাতৃভাষার সঙ্গে 
অধুনাতন শিক্ষিত সম্প্রদীষেব সন্থন্ধ থাকে না । বাল্যে বিদ্যালয়ে 
এবং সম্প্রতি বিষষকন্ম্ে ইংবাজী ভাষারই চর্চ1 করাতে, তাহাদের 
অধিকাংশই নিজেব মাতৃভাষার আলোচনায নিতান্ত পরামুখ , 
ইংবেজী ভাষ! যেন তাহাদেকু চিত্তট! যুডিযা রাঁখিযাছে, স্বদেশের 
ভাষা যেন স্থিতিবিরোধিতা নিষমে উহার কাছেও ঘেঁ'সিতে 
পারিতেছে না । “বিবাহ-বিভ্াটের* মিঃ সিংহেব স্যাষ প্রকৃতই 
সাহাদেব বাঙ্গাল! বলিতে এন কষ্ট হয, এবং যাহা বলেন, তাহা 
ষেন মনে মনে ইংবাজী হইতে তরজমা করিযা! এবং শতকরা 
নিবনববইটি ইংরেজী শবে বুকনী দিয়! বাহির কঁরিযা থাকেন। 
তাহারা সংবাদ পত্র পাঠ করিবেন ইংরেজীতে, পুস্তকাদি পাঠ 
করিবেন ইংরেজীতে, পবস্পর আলাপ করিবেন ইংরেজীতে, এমন 
কি পিত। ভ্রাতা প্রভৃতির নিকট চিঠিখানাও লিখিবেন ইংরেজীতে । 
স্থৃতরাং ইহারা বঙ্গভাষায কোন কিছু বলিতে বা লিখিতে গেলে 
তাহা পারিবেন কেন ? বখন তাঁহাদের মনে সাধারণকে বিজ্ঞা- 
পিত করিবার উপযোগী কোন ভাবের উদয় হয়, তাহা অগত্যা 
ইংরেজীতেই ব্যক্ত হইযা থাকে, বঙ্গভাষায উহা! প্রকাশ করিবার 
উপযুক্ত ভাষ৷ উ হার! খুঁজিয়াই পান না। 


৬ প্রবন্ধাষ্টক। 


উপরি লিখিত প্রথাব পক্ষে প্রাষশঃ একটি যুক্তি শুনিতে 
পাওয়া বায । ইংরাজ আমাদের বাজ! ; শিক্ষিত বাক্তিবর্গের কাজ 
কম্ম প্রা অধিকাণশ স্তলে বাজভাঘাতেই সম্পাদন কবিতে হয; 
এবং রাঁজপুরুষগণেব নিকট সমাদ্রব লাভ কবিতে তইলে, উত্তম 
বপে বাজভাষা লিখনেব ও কথনেব অভ্যাস কলা আবশ্যক . 
অতএব ই'বেজা ভাষার সমাক আলোচনা কৰা আবশ্যক । 
আবশ্যক তাভাতে সন্দেহ নাই , কিন্ছু ভাই বলিয! সঙ্গে সঙ্গে 
দেশে ভ!পাটাবও ব₹কিধি"ত আলোচনা বাথ কি সঙ্গত নহে ? 
শিক্ষিত ন্ক্তিগণই খন দেশের যুখ্পাত্র, ভাঙাবা বদি মাডীভাষা 
পবিচর্ধা না কবেন, ভবে উহা আব বাহন নিকট আশ্রুব লাত 
করিবে ? বিশেষত, উাভাদিগেব স্মুবণ বাখ। উচিত এন ইদ্দানীন্ডুন 
কালে খাঁভাব! বজভাষান পুগ্ি সাপন 'কবিযাছেল, ভ্াভাদের প্র 
সকলেই ইংবেজা ভাঁধাহ বিশ্ব ্রতা এব” শানেকেউ বাজপুক 
গণেব সঙ্গেও বিশেষ ঘনিন্টভাঁপে সন্বদ্ধ। কবে মধুসুদন 
হেমচত্্র, নবীনচক্দ্র, উপন্যাসে বঙ্গিনচন্র, ব সৈশচন্দ্, সাধাবৎ 


সাহিত্যে ভূদে, চন্দরনাপ) হব প্রনাদ, ঠা বগা বোখ হয আব 
বিশেষ কবিধা বলিহে হইবে না" ফলত এ নে মাতভাষানু 
শীলনে শুদাস্ত, উভা দেশের র্ভাগাবশ ত শিক্ষিত সন্প্রদ্ধাবেদ 


এক মভণ্া জডতাব পনিসুচক ভাব মান, নচেৎ হাহা 
স্থশিক্ষিত, তাঁভাবা একটু মনোবোগ দিলেই এহদিষযে ন্যুনাবি 
কৃতিত্ব-লাভ অবশ্যই করিতে পাবেন ॥ 

অনেকে এই বলিবাও গুদাসাহ্য প্রাদর্শন কবিয। পাকেন যে, 


শিক্ষিত সম্্রদাষেব প্রাতি। ৭. 


দেশী ভাষায পাঠোপবোগী গ্রন্থ বা পত্রিকা আদৌ নাই। 
পঞ্চাশ বুসর পূর্বে এপ বলিলে এক প্রকার মানিযা লইতাম ; 
বর্ঘমানে বঙ্গ ভাবাব অনেক পুষ্টিসাধন হইযাঁছে, এখন সে কথা 
স্ীকাধ্য নহে কিন্ত তণাপি বঙ্গভাবাব অনেক অভাব আছে, এব? 
সেই সকল অভাব দূৰ কবিবার জন্যইত শিক্ষিতগণকে আহ্বান 
নবা যাইতেছে । যে সকল সুশিক্ষিত বাক্তিগণেব দ্বাবা এই অদ্ধ 
শতাব্দী মধ্যে বঙ্গভাষাব ঘুগ্রান্তব সাধিত ভইযাভে, তাহারা বদি 
এবপ যুক্তি ধবিঘা নিশ্চেক্ট থাকিতেন, ন্ভাহা হইলে বঙ্গভাষ 
ভারতবর্ষের অধুনাতন গুচল্নিত ভাষাবলীব মধো আজ এক অতি 
প্রধান স্টান অধিকীব কক্তে পাবিত কি? হাই নিবেদন, ভবিষ্য 
বংশে শিক্ষিতগণ বাহে মাতৃভাষায় পড়িবাব জিনিস আরও 
অধিক পরিমাণে পান, বর্শমান শিক্ষিত সম্প্রণীঘের ততপক্ষে 
বত্্রবান হওযা অবশ্য করন) । 

" যে সকল শিক্ষিত ব্যক্তি 'বঙগভাষার লিখিবাব জহ্য অভ্যাস 
করিতে ইচ্ছৃক াভারা কিনপে উহা! কবিবেন, ভাভ। প্বযংই বাছিব! 
লইতে পাবেন । তথাপি এত সন্বঙ্গে ছুই একটি কণা তীহা- 
দিগের বিবেচনাপান কঝ বাইতেছে -- 

€১) প্রাচীন ও আধুনিক বিখ্যাত বঈ'্ষ লেখকগণেব বচিত 
গ্রন্থাবলী অধ্যঘন করা সর্ববান্রো কর্তব্য। ইদানীং যে সকল 
গ্রন্থকারুব বচন! বিশ্রুদ্ধ ও প্রাপ্তল বলিয! বিখ্যাত তাহাদের 
বচনাপ্রণালী দৃষ্টে স্বীঘ রচন! গঠিত বা মাঙ্ভিত করিতে হইবে । 

(২) বঙ্গভাষানভিভ্ত ব্যক্তিবর্গেব সঙ্গে আলাপ কবা কি চিত্ত 





৮ প্রবন্ধাষ্টক ৷ 


গত্র লেখা, এবং রাঁজকাধ্য পরিচালনা পক্ষে ইংরেজী ভাষার 
ব্যবহার অপরিহার্য ; কিন্তু তদ্দিতর বিষয়ে মাতৃভাষারই অনু- 
শীলন কর্তব্য । কথাবার্তায় তবু শিক্ষিত সম্প্রদায়, অবিমিশ্র 
না হউক, বন্গভাষা কিয় পরিমাণে ব্যবহার করিয়া থাকেন ; 
কিন্তু চিঠিপত্রে আদৌ উহার প্রচলন নাই। পিতা পুভ্রের নিকট, 
এবং পুত্র পিতার নিকট পত্র লিখিতেও “মাতৃ” ভাষা বর্জন 
করেন, ইহা অপেক্ষা আর আক্ষেপের কথা কি হইতে পারে ? 

শিক্ষিত সম্প্রদায়ের মধ্যে দিনলিপি (0)27৮ ) ও স্মাবক লিপি 
(10৮৪-০০০% ) প্রভৃতি লিখিবার খীদ্ধতি দেখিতে পাওয়া যাষ। 
ইংরেজীর পরিবর্তে এ সকল বঙ্গভাষাতেই লেখা উচিত | চিঠি 
পত্রাদি অপরেৰ গোচরীভূত হষ, কিছু এ গুলি কেবল নিজের 
নিকটেই থাকে, সুতরাং শিক্ষানবিশেধ পক্ষে একপে বচনাভ্যাসে 
কোনবপ সঙ্কোচের ভাবও আসিতে পারে না । 

(৩) বিবিধ ভাষার গ্রস্থরাঁজির অংশবিশেষ বন্ভাষায অনু- 
বাদ করা উচিত। প্রথম শিক্ষার্থীৰ পক্ষে রচনা শিক্ষার উহা 
একটি স্থগম উপায় । বিশেষতঃ, নানা ভাষায লিপিবদ্ধ জ্ঞানরাশি 
হইতে ভাবসংগ্রহ পূর্বক মাতৃভাষার পরিপু্ি সাধন করা. 
ভাষার এই ক্রমিক উন্নতির অবস্থায, শিক্ষিত সম্প্রদায়ের এক 
অতি প্রধান কর্তব্য । দর্শন বিজ্ঞান ইতিহাস প্রভৃতির ষে অভাব 








ক থুপ্রসিদ্ধ রাজনারায়ণ বহু হহোদয় “সাহিতা-পতিধদে র সঙাগণকে পরম্পন্ধ 
আলাপ ও চিটি পত্রাদিতে বঙ্গভাষার বাবার ক্িতে অনুরোধ করিয়।ছিলেন ! উ্ 
(িষয়ে পরিষদের সভ)গণ কতদূর মনোযোগ দিতেছেন, জানা বায় লাই 


শিক্ষিত সম্প্রদায়ের প্রতি ৷ ৯ 


২ শ্ীশশীশিশীশিশ্ীী শশী শিট শি শিীবিশীশিশীশা শািাীীশীশীীঁাা 


বর্তমানে অনুভূত হইয়া! থাকে, তাহা! এ রূপেই পুরণ করিতে 
হুইবে, এৰং অনুবাদ অভ্যাস থাকিলে তগুপক্ষে বিশেষ সহায়ত! 
হইতে পাঁরে। 

(৪) রচনাবিশুদ্ধি এবং শব্দসম্পত্তি লাভের নিষিত্ত সংস্কৃত 
ভাবার আলোচনা কর! আবশ্যক । সংস্কৃত অতি জটিল ভাষা! 
এবং সম্যক আয়ত্ত কহা কঠিন, সন্দেহ নাই। কিন্তু ধাহারা 
বিশ্ববিষ্ভালয়ে কিয়দুব প্রবেশলাঁভ কবিযাছিলেন তাহাদিগকে 
অবশ্যই কিছু না বিছু সংস্কভীলোচনা করিতে হইযাছিল ; এবং 
যদিও বিষযবাধ্যে লিপ্ত হইযাকি তৎপুর্বেবই তাহার! সংস্কৃতের 

ংত্বব পরিত্যাগ করিযা৮ন, তথাপি, জুডতা পবিহার করিয়। 
পূর্ববাধীত গ্রন্থগুলির কিথিৎ, আলোচনা কবিলেই, বোধ হয়, 
অনেকে সাধারণ সংস্কৃত বুঝিতে পারিবেন । এইবপে কিছু বুযুৎ" 
পত্তি জন্মিলে এবং সঙ্গে সঙ্গে একটু আবাস স্বীকার করিলে, 
তাহারা শকুন্তল্! প্রভৃতি উৎকৃষ্ট গ্রন্থেব রসাস্মাদন কবিয়া পরি- 
শ্রমের সফলতাও অনুন্ৰ করিতে পারিবেন । সংস্কৃত না জানাতে 
অনেকে সামান্ত পত্রখান লিখিতে গিষাও যে কত বর্ণাশুদ্ধি, শব্দের 
অপপ্রযোগ প্রভৃতি অমার্জনীয় দোষ, ঘটাইয| থাকেন, তাহার 
ইন্ত্া। কর! দুঃসাধ্য । 

€ ৫) প্রবন্ধের প্রারস্তেই বল! হইযাছে, উদ্যমমাত্রেই কৃতিত্ব- 
লাভ কব! দুঃসাধ্য । উদ্ভমকারী যে সকল বচন! করিবেন, তাস্া 
দুই একবার নিজে সংশোধিত করিয়া, অপেক্ষাকৃত খ্যাতিমান্‌ 
লেখকদিখের মধ্যে কাহাকেও দেখান উচিত । অতিশয শালীন- 





9 প্রবন্ধাুক। 





শীলতা কিংব! প্রভূত আন্মনির্ভবতা অবলম্বন পরর্ববক স্বীয রচনা 
অপরকে না দেখাই» অভিনব রচধিতা' যেন সহসা উহ! 
বিৰর্ভিত বা প্রকাশিত না কবেন , কেনন! নিজেব দৃষ্টিতে যাহা 
ৰিসংবাদিভাৰে মন্দ বা ভাল ৰলিযা বিবেচিত ভয, অপবেব 
চক্ষুতে তাহ! তদ্দিপবীত প্রতীযমান হইতে পাবে । 

প্রবন্ধাদি লিখিতে গেলে ঢইটি বিষষেব গ্রযোজন-_ভাব ও 
ভাষা ; প্রবন্ধকে একটা চেতন পদার্গ ভাবিষ। ভাবাকে উহার 
শবীব ধবিলে ভাববে উনান প্রাণ বলিতে হইবে! ভাষাবপ 
শবীবেব উপাদান বিঘঘে ববং মহালত গাদান বব] লাইতে পাবে, 
এবং এতহপ্রাৰন্ধে এ বিষ্ষেই দই একটি কৃগ। বল। হইল, কিন্তু 
ভাৰবপ প্রাণ সন্বন্ধে কোন কম্া বল বউ বঠিন। ভাব 
দ্বিবিধত-্রতিভা-জাত এব অভিভ্ঞত।-লপ্দ । জদষে যাঁর সন্ঞ' 
থাকিলে ভাষা আপন; আাপশি বভিগহ তব? সেই ভাব 
গ্রতিভা-সন্ুত। উহা থাতাব আচে, চে প্রতিভ্াশাল ব্যক্তিকে 
লিখিবাব নিমিন্ অন্রবোধ কবিতে ভঘ নও ভাষ। বিবষে ও উপ- 
দেশ দিতে তব ন'। তিনি বাহ! ভিখিবেন তাহাই উত্রুষ্ট 
সাহিত্য, ভাহান ভুল ভ্রান্তিও আল বলিবা আদত হইযা থাকে । 
পবন্থু বেসবল স্শিক্ষিত বালতি ভুযোফনদনেব ফলো এবং প্রন্তাদি 
অধ্যঘন দ্বাবা ভাব-সণ্গ্রভশাল, সেই সবছা ব্যক্তিই এতৎ 
প্রবন্ধের লক্ষা। 

জগতে প্রতিভ।বান্‌ বান্তিগণ ভাব সৃষ্টি কবি! থান, অপর 
শিক্ষিত ব্যক্তিগণ তাগ আন্ত ববিযা আলোচনা ও আন্দোলন 


5১১ 
আচাধ্য ধাষিগণেব খণ স্বাধ্যায অধ্যাপনা তপস্ঠা প্রভৃতি দ্বার! 
পবিশোধ কবিবার ব্যবস্থা আছে, ভাবশান্ত্রেও তঙ্রপ গ্রতিভাব 
খণ আলোচন। ও প্রচাব কার্ধা দ্বারা পরিশোধ কবিতে হইবে। 
আামাদেব শিক্ষিত সম্প্রদাষ ইভা স্মবণ বাখিযা, যথীশক্তি এত 
কার্যে এই সাহিত্য-সেবকেব সঙ্গে যোগদান করেন, ইহাই 
প্রার্থনা । 


[ সাহিত্য-সেনক, ফান্ঘন ১৯০২1] 


আধুনিক সংস্কৃত শিক্ষ। সমালোচনা | 


পক্ষ 





এমনও দিন গিয়াছে যখন নব্যবঙ্গ, সংস্কৃত গ্রন্থ কি সংস্কৃত 
শিক্ষার প্রেতি অশ্রদ্ধার ভাব পরিপৌধণ করিতেন । সম্প্রতি 
সে ভাবের তিরোধান হইয়াছে এবং তগুপরিবর্তে, অনেকেরই 
পুরবব পুকষদিগের ভাষার প্রেতি শ্রদ্ধা ও অন্তরাগের উদ্রেক দেখা 
যাইতেছে । দেশের লোক বুবিযাছেন, সংস্কৃত চর্চাই স্বদেশের 
প্রাচীন ইতিহাসের অবগতি এবং পৈতৃক সনাতন ধর্মের অনুশীলন 
ইত্যাদি বিষয়ে কৃতকার্য হইবার একমাত্র উপাষ । কিন্তু বুঝিলে 
কি হইবে, একমাত্র সংস্কৃত শিক্ষা জীবন উৎসর্গ করিতে হইলে 
যেত্যাগ স্বীকারের প্রযোজন, তগুকরণে বজদেশীয় ব্যক্তিগণ 
দর্ববথা পরাঘুখ । অর্থকরী ইংরেজী বিদ্যার অনুশীলনেই সর্বদা 
তাহাদিগকে যত্রশীল দেখা যায়। 

অনেকেই আক্ষেপ করিয়! বলির! থাকেন, পুবেব বে সমস্ত 
যোল আনী পণ্ডিত দেখা যাইত এখন তেমন পণ্ডিত আব দেখিতে 
পাই না। কালধধ্মবশতঃ লোকের ধারণা শক্তির হ্রাস হইতেছে 
ইহাও উহার অন্যতম কারণ বটে ; কিন্তু প্রধান কারণ এই ষে 
আমাদের অনেক পুক্র থাকিলে যেটি সর্বাপেক্ষা নির্বেবাধ 
সচরাচর তাহাকেই আমরা সংস্কৃত শিক্ষার্থে উত্ন্ষ্ট করিয়া 
থাকি।' অপেক্ষাকৃত বুদ্ধিমান অপর সন্তানগুলিকে, অর্থহেতু 


আধুনিক সংস্কৃত শিক্ষা সমালোচন!। ১৩ 


ইংরেজী শিক্ষায় নিয়োজিত করি। এমন ব্যক্তিদিগের ছার! 
পণ্ডিতবর্গের পূর্ব্ব গৌরব অক্ষুণ্ন রাখিবার আশা করা বুথ! । 

বুদ্ধিমান্‌ ছাত্র যে সংস্কৃত শিক্ষায় জীবন উতসর্গ করে না 
এমনও নহে। কিন্তু আজকালকার সংস্কৃত শিক্ষার যে প্রণালী 
বঙ্গদেশে প্রচলিত তাহাতে অনেক বুদ্ধিমান ছাত্রকেও পরিশেষে 
হতবুদ্ধি হইতে হয়। 

সর্বাগ্রে ব্যাকবণ অধ্যবন করাই সংস্কৃত শিক্ষার রীতি; 
তাহ প্রশস্তই বটে । বিন্থু বর্তমানে ব্যাকরণ শিক্ষার প্রণালীতে 
ষে গলদ প্রবেশ করিষাছে তাক্ক! স্বীকার করিতেই হুইবে। বঙ্গ- 
দেশে মৌলিক ব্যাকরণ অধীত হয না। পাঁণিনীয় প্রভৃতি 
ব্যাকরণেব খু'জ খবরও অন্নেকে রাখে না । কলাপ ব্যাকরণকে 
সম্পূর্ণাবযব মৌলিক ব্যাকবণ' বলিতে পারি না ।* অজ্ঞ রাজাকে 
অনধিক আযাসে সংস্কতের মোটামুটি জ্ঞান দিবারু জন্যই এই 
ব্যাকবণের শস্তি। স্থৃতরাং কলাপ ব্যাকবণে মোটামুটি মাত্র 
জ্ঞান জন্মিতে পারে । চুড়ান্ত জ্ঞান জন্মাইবর জন্য, পরিশেষে, 
পরিশিষ্ট, পণ্ভী, কবিরাজ ইত্যাদি অধ্যযন করিতে হয । এ সমু- 
দয় একত্র কবিলে মৌলিক পাণিনীয* ব্যাকরণের প্রা দ্বিগুণ 
আয়তন হয, অথচ একমাত্র পাণিনীয ব্য।/করণ পিলেই, অধিক 
না হউক, অন্ততঃ সেই জ্ঞানটুকু অবশ্যুই হইবার কথা । 

তারপন্প ব্যাকরণের ভাষা । অবশ্য, প্রথম শিক্ষার্থীকে যে, 





কচ পূর্ব বঙ্গের চতুষ্প।ঠীর ছাত্র ও অধ্যাপকমহোদয় দিগকেই লক্ষ করিয়া এই 
প্রধন্ধ লিখিত হইয়াছিল ; তাই কলাপ ব্যাকরণেরই মাত্র উল্লেখ কর! হুইয়াছে। 


১৪ প্রবন্ধা্টক । 





অনেকটা! ন| বুঝিয়া ক্ন্থ করিতে হইবে তাহা অপরিহার্য । 
কিন্তু প্রথমতঃ, বঙ্জভাষাষ বিষ্ভাসাগর মহাশযেব উপক্রমণিকাব 
স্কায় ব্যাকবণেব অধ্যঘন দ্বাবা শব্দ, ক্রিষা, কারক, সমাস 
প্রভৃতির সাধারণ একটু জ্ঞান জন্মাইতে অতি অল্প বয়স্ক শিশু- 
দ্বিগেরও অধিক দিন লাগিতে পারে না; অথচ “সিদ্ধ বর্ণ 
সমান্বায়ঃ* প্রভৃতি সূত্রের অর্থ বোধ না হউক, অন্ততঃ অন্থয় বোধ 
অনায়াসেই হইবে এবং এতদ্বারা শীত্র শীগ্র নুত্রাদিব অর্থ পবিগ্রহ 
ও আযত্তীকরণেব অনেক সাহাব্য হইতে পাবে। কিন্তু সংস্কৃত 
শিক্ষার এই বীতি প্রচলিত নাই৭ সন্ধি ও চতুষ্টয় পধ্যন্ত 
কেবল শুকবৃত্িই অবলম্থিত হয়, তাঁবপব বদি ছাত্রেব অদৃষ্টে 
থাকে আখ্যাতে খ্যাতি লাভ কবিতে প্পারে। কলাপ পড়িযা পাঁচ 
ৰৎসবের ন্যূনে অতি বুদ্ধিমান্‌ াত্রকেও ব্যাকরণে পাবদ্শী হইতে 
সচরাচর দেখ! যায না। পাণিনীয় ব্যাকরণ যে এতদপেক্ষ' 
অনেক অল্লতব সময়েই আরম্ীকৃত হইতে “পাবেঃ তাহা 
নিঃসন্দেহ ; অথচ ইহাতে একটা মৌলিক ব্যাকরণ অধীত তষ 
বিশেষতঃ কলাপ পড়িযা যখন ছাত্রগণ সাহিত্যাদি পড়িতে যায, 
তখন মল্লিনাথ প্রভৃতি মহামহোপাধ্যায়গণের টীকাতে কলাপেব 
সুত্রাদির নাম গন্ধও না দেখিবা হতাশ হয়, এবং নৃতন কবিয়। 
তাহাদিগকে ব্যাকরণান্তবের সুত্রা্ি পুনরভ্যস্ত করিতে হয়? 
গোড়া হইতে পাণিনি পড়িলে এই বিড়ম্বনা ভোগ করিতে 
হইত না। 

এই গেল ব্যাকরণের কথা। দর্শন স্ক্রতি প্রভৃতি অধ্যয়নে ও 


আধুনিক সংস্কৃত শিক্ষা সমালোচনা । ১৫ 





এ ঝপ গলদ । গ্ঠায় ছাডা বঙ্গদেশে আর কোনও দর্শন প্রচলিত 
নাই বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। বেদশান্ত্রবিবর্জন যে অনেক 
দিন হইল হইয়াছে, তাহা আব উল্লেখ করিব ছুর্দশার স্মৃতি- 
দ্বারা মনকে বৃথা ক্রিষ্ট কবিতে চাই না । এ যে সন্ধ্যা উপাসনাব 
সময় গোটা কতক মন্ত্র, শ্রাদ্ধা্দির সময় পঠিত কতকগুলি বচন, 
তাহাও সাপেব মন্ত্রের ম্যাব অর্থ গ্রহণ না করিযা উদশীর্ণ করা 
হয; ইহাতেই আমাদের বেদভ্ান পর্যবসিত । বেদ্েব অক্তেব 
সঙ্গে সঙ্গে বেদান্তেবও তন্তদ্ধীন এবং বেদাঙ্জেবও অজহীনত। 
ভইযাছে। বে বলে বলীযান্‌ ছইযা ভগবান্‌ এঙ্কবাচাধ্য ধণ্মেব 
যুগান্তর উপস্থিত কবিযাছিলেন, যাহাব মহিমায আধ্যগণ অসার 
বিষয় সুখে জলাঞ্জলি দিযা একমাত্র ধর্ীলোচনাব প্রবৃত্ত হইতেন্ব, 
সেই বেদান্ত ও উপনিষদাবলীব আলোচনা চিবতবে পরিত্যাগ 
করিঘ৷ নিগ্ষল তর্কাদি শাস্ত্রে ,আশ্রব গ্রহণ কবেই বর্তমান 
রাহ্মিণ পপ্তিতগঞ্জের অধ্চপতন ঘটিযাছে , ত্রাহাবা বিষযলোলুপ 
হইয়াছেন এবং বিধন্ম ও উপধন্মের আক্রমণ হইতে সনাতন 
খ্রের রক্ষা সাধনে অক্ষম হুইযা পতিয়াছেন। 

জ্যোঠিংশান্ত্রের দুরবস্থার কথা আর কি বলিব? মুলগ্রস্থ পরি- 
ত্যাগ করিয়া কতকগুলি সন্কেতাবলম্বনে নিবক্ষরপ্রায় গণকগণের 
দাবা ইহার চর্চা হইতেছে । % আযুর্ব্ধ্দ শাস্ত্র সৌভাগ্যক্রমে 


শপ স্প্পীপিসীাপিস পাপী পিশিপপশ পপ? পপি পল 





সু এই সক কথা এই পত্রের বিগভ সংখ্যায় “ বিগুদ্ধা সিদ্ধান্ত পণ্রিকা” সগালোচনাথে 
লিখিত প্রস্তাবে আমাদের যাননীর় অধ্যাপক শ্রীযুক্ত রাজকুমার সেন গুণ এব+৪এ মহোদয় 
বিশদভাবে দেখাইয়াছেল। 


১৬ প্রবদ্ধাষ্টক ৷ 





বৈষ্ভ মহোদয়গণের হস্তে স্াস্ত স্ত হইয়াছিল, তাহাতেই এই ঘোরডর 
প্রতি্বশ্বিত'র দিনেও উহার বিলোপ ন৷ হইয়া একটু উন্নতিই 
দেখা যাইতেছে । কিন্তু অগ্থচিকিতস! চিরকালের জন্য বিলুপ্ত 
হুইয়াছে। আগম শাস্ত্র হাতুডেদের হাতে পড়িয়া প্রায় পটল 
ভুলিয়াছে। আরও কত শাস্ত্র যে বিলুপ্ত হইয়াছে ও হইতেছে 
তাহ! কে বলিতে পারে ? 

ব্যাকরণ বাতীত আজ কাল যাহা কিছু আলোচিত হয় তাহা! 
কেবল স্মৃতি, পুবাণ, স্যাষ এবং কিয় পরিমাণে সাহিত্যগ্রস্থ । 
স্মৃতিশাস্তু কিঞ্িৎ অর্থ প্রাক, কেননা তৈলবটাদিতে কিছু কিছু 
প্রাপ্তির সন্তাবনা , সুতরাং তাহাব আলোচনাদিও হইয। থাকে ; 
কিন্তু অধিকাংশ লেক মূল প্রাচীন স্মৃতি গ্রস্থাদি উপেক্ষিত 
হুইয। থাকে । খবিপ্রতিম বন্ুনন্দন ভাগ্যে একখান! সংগ্রহ 
গ্রন্থ রাখিযা,.গিঘাছিলেন তাই আমাদেব স্মৃতি ব্যবসাধীদের বেশ 
একটু পার চলিতেছে , নতুবা যে কি হইস্ব বল! যায ন1। 
সংহিতাির আলোচন!| বর্তমানে সম্যক হব না! বলিলেও অন্যায় 
হয না। পুবাণ শান্ত্রও কিছু একটু অর্থদায়ক ; কেননা, 
পাঠকত। করিতে গেলে এবং শিষ্যাদি বাখিতে গেলে পুরাণের 
অধ্যবন প্রযোজনীয ; কিন্তু তাহাও বড বেশী লোককে পড়িতে 
দেখা যায় না। ন্যাষশাস্স্রের দুর্দশ|! ও বিডদ্বনার কথা 
এক মুখে আর কত কহিব? গোৌতমাদি খধির মৌলিক সূত্রা- 
দির চর্চা! অতি অল্প মাত্রই হইয! থাকে । বিশেষতঃ কি কুক্ষণ্ণে 
কি ও পাত্‌ড়! রূপিণী দুইটা রাক্ষসী আসিয়াছিল, যে ধাঁহার! 





আধুনিক সাত শিক্ষা সমালোচন? | ১৭ 


ম্ায়গহনে প্রবেশ করেন, ভাহারাই হয় অন্ধ পথ হইতে পলায়ন 
করেন, নয একেবারে মাথাটা হারাইযা আইসেন ; দৈববশে 
রুচি কেহ রাক্ষসীর সংগ্রামে জযলাভ কবিয়া প্রত্যারুন্ড হন, 
কিন্তু তাহাদের সংখ্যা! অতি অল্প। 

বর্তমানে কাব্াদির এবং তৎুসঙ্গে অলঙ্কাব শাস্ত্রের সমধিক 
আলোচনা আরন্ত হইযাছে। তবে কি পণ্ডিত মহাশরের! কাব্ামত 
রসের আস্বাদ করিতে ভালবাসেন £ 

ইংরেজী বিদ্যালযে সংস্কৃতের বাহ কিছু চর্চা হয তাহা 
কেবল সাহিত্যেরই । স্কুলগ্ককলেজে সাহিত্ গ্রস্থাদি অধীত ও 
অধ্যাপিত হইয়া থাকে । হাই পণ্ডিঠিব আশা অনেকে কাব্যের 
প্রতি মন দিতেছেন এবং অলঙ্কার ন। জানিলে সাহিত্য চলেনা, 
স্থতরাং তাহারও কিয় পধিমাণে আলোচন! বরিয়া থাকেন। 
কঠোর ও নীরস ন্যায়, স্মৃতি প্রহঠি ঠর সঙ্গে সঙ্গে কোমল মধুর 
বাধ্যের কিছু কিছু আলোচনা হওযা সর্ধ্বথ। নাস্থনীয়। কিন্ত 
ভয় হর পাছে কাব্যের রসে বিভোর হইব অন্ান্ত শাস্ত্রের 
আলোচন। পরিত্যাগ পুর্ববক ব্রাঙ্গণ পণ্ডিতগণ পূর্ণ মাত্রায় 
বিলাসী হইয়া পডেন। খেকপ কালুমাহাত্থ্য দেখা যায়, ইহা 
যে ন। ঘটবে, তাহা কে বলিতে পারে £ তবেইত হিতে বিপরীত 
হইবার জস্তাবন| | 

উপন্ংহারে মামাদের এই বক্তব্য যে আজ কাল ক্রমশঃ ব্রাহ্মণ 
পণ্ডিতগণের যেরূপ হাস দেখা বায তাহ।তে শঙ্কা হয় পাছে ঝা 
ক্রিল্লা কাণ্ডেরই লোপ হয়। এই বপতভ্রাসের কারণ” এই বে 

চু 





১৮ প্রবন্ধা্টক ৷ 





ব্রাহ্মণগণ এক্ষণে সংবম-ধন নহেন, সেই “অসম্ভষ্টা ছ্িজা নষ্টাঃ, 
প্রভৃতি নীতি ভুলিয়া! জীবনসংগ্রামে ব্যাকুল হুইয়া পড়িয়াছেন। 
ইহা কালের ধর্ম এবং সমাজের ছূর্ভাগ্যের হেতু সন্দেহ নাই। 
অতএব সংস্কত শিক্ষার রীতির জটিলতা ও বিষয়ের গভীরতা 
একটু কমাইয়া, যাহাতে অল্প বুদ্ধিমান্‌ ব্যক্তিও ভাবা এবং বিষয়ে 
একটু প্রবেশ লাভ করিতে পারে তদনুষ্ঠানে ফত্ববান্‌ হওয়া 
অধাপক মহোদযগণের কর্তব্য । যে সকল ছাত্র ইচ্ছা সত্বেও 
সংস্কৃত শিক্ষা! প্রণালীর ও বিষয়াবলীর ছুবহত্বে ভীত হইয়া! স্তুখ- 
পাঠ্য ইংবেজী নিদ্যার আশ্রয় গ্রছণ করে, বিষয় ও প্রণালীব 
পরিবর্তন হইলে তাহার! সংস্কৃতই অধ্যয়ন করিবে এমন আশা 
কর! যাইতে পারে । সেবপ পরিবর্ধন কি উপায়ে করিতে হইবে, 
তদ্বিষয়ে উপাধ্যায় মহে।দয়েরাই করব নির্ধারণ ককন, আমর! 
তশুকরণে অনুধিকারী 1 তবে এই মাত্র বলা যাঁয, যে এক্ষণে আর 
ফাঁকি পাভ্ডার দিন নাই, স্থৃতরাং এই মকল আগাছা পরিত্যাগ 
করিয়া যেবপে মৌলিক দর্শন, স্বৃতি, ব্য/করণ প্রভৃতি গ্রস্থাদি 

আলোচিত হয এবং সঙ্গে সঙ্গে কাব্য পুবাণ ইত্যাদি অধ্যাপিত 
হয় তাহ। করিতে হইবে। র্রিশেষতঃ এই ধন্মন বিভ্রাটের সময়, ছাত্র- 
গ্রণ যাহাতে ন্ববর্ম্মেব মাহাত্ম্য প্রথমতঃ নিজে বুঝিয়াঃ পশ্চাৎ উন্মার্গ 
প্রন্থ।নোম্মুখ সামাজিক ব্যক্তিদিগকে বুঝাইতে পারে, অধ্যাপক 
মহাশয়েব! উহাদিগকে সেইবপ ভাবে শিক্ষা প্রদান "করিবেন 
বর্তমানে প্রয়োজন, যে ব্রাঙ্গণ পণ্ডিতকে একাধারে নৈয়ায়িক, 
শাব্দিক, স্মার্ত, ধর্ম্োপদেষ্টা সমস্ত হইতে হুইবে; এ ছাড়া 


আধুনিক সংস্বতে শিক্ষা সমালোচন! । ১৯ 


ব্রাহ্মণরৃত্য বাজনিক ক্রিয়া কাণ্ডেও পারদর্শী হইতে হইবে। 
সুতরাং কেবল শ্যায়-ব্যাকরণের ফাঁকি পাতড়াষ দিন কর্তন 
করিলে অবশেষে ছুববস্থাব পরিসীমা থাকিবে না । বিচারমল্লের 
বিজধেব দিন চলিয! গিযাছে, সেই জন্য মনুশৌচনা করি না, 
কিন্তু ব্রাঙ্গণ পঞ্ডিতেব। যে নান! শান্সের সারচ্ল হয়েন না এবং 
তাহাদেব নিকট যাইযা ধণ্ধতন্তপিপাস্ ব্যক্তিরা যে পরিতৃপ্ত 
হুইতে পাবেন না, উভাই ছুঃখের বিষষ । 

[ সাবস্বত পত্র, ২৬শে বৈশাখ ১২৯৯ । ] 








ভটি কাব্যের গ্রন্থকার | * 


পাশে কীট 


“কাব্যং বশসেত্থরুতে ব্যবহাববিদে শিবেতরক্ষতয়ে 
সদ্দাঃপর নির্ববৃতষে কান্ত।সন্মিত তযো পদেশযুজে ॥” 


কোন কাব্যের টীকার্দি লিখিবাব পুবের প্রাচীন টাকাকাবগণ 
প্রায়শঃ মম্মটভট্রেব এই কবিভাটি উদ্ধত করিধা থাকেন। 
উক্ত কবিতাতে কবিব কাবা লিখিবাব প্রযোকন এবং পাঠক 
সাধাবণেব উহাব আলোচনা কবিবার আবশ্বকত। প্রতিপাদিত 
হইযাছে । কবি কাবা লিখ্ন"-€ ১) “্যশসে » -সনর কীত্তি 
লাভ করিবার নিমিভু , (২) ণঅর্থপ্লতে” ধন লাভের জন্য ,_- 
উদ্দাহরণ স্থুলে ““্রীহর্ধাদের্বাবকাদীনামিব ধনং” বলা হয়। 
কাশ্মীরাধিপতি শ্রীহর্দদেবে কবিযশংস্পুা বডস্টু বল্‌্বতী 'স্থিল, 
অথচ তদনুব্প কবিত্ব শক্তি ছিল না, তাই দকিদ্র ববি ধাবককে 
প্রচুর ধনদান পূর্ননক বত্বাবলী নাগানন্দ প্রভৃতি প্রণয়ন কবাইয়া 
“্রীহর্ষে নিপুণ কবিঃ” ,এই খ্যাতি লান্ত ববিয্বাছিলেন। ণ* 
করির কাব্য লিখিবাব তৃতীয প্রযোৌজন--_ “ শিবেতরক্ষতয়ে” 
অমঙ্গল বিনাশনের নিমিত্ত ₹ যেমন মধূরভট সূর্্যশতক প্রণয়ন 





* শিলং সাহিত্য সভার সগালোচনী শাখার বিশেষ অধিবেশনে” প্রীযুক্ত পল্মনীথ 
সষ্টাচাধ্য বির্যা বিনোদ, এম, এ কর্তৃক পঠিত হইত । জস্মভৃমি-চঞ্পদক | 
+ এই উপাহরণের যাথার্ঘ্য সম্বন্ধে অনেকেরই কিন্ত সন্দেহ আছে। 





কাব্যের গ্রন্থকার । ২১ 


করিয়া দুবারোগ্য কুষ্ঠন্যাধি হইতে মুক্তি লাভ কবিযাছিলেন। 
এই গেল কবির কণ।। তাঁবপব পাঠকেব কগ!। উহার 
কাব্যালোচনা করিবেন,--(১) পব্যবহাববিদে” --লোকাচার 
পরিজ্ঞানেব নিমিত্ত ; মেমন মুচ্ছকটিক নাটক পডিলে বাজা 
শৃদ্রকের সমযে (প্রা ৩৭০ খুঃ পু) ধশ্মাধিকবণে কিকপ বিচাব 
প্রণালী প্রচলিত ছিল, শাহ জানা নাব। (২) “সদ্য 
পরনির্বব তযে কাবাপাঠমাে৯ কি এক আঅনিববচনীয আনন্দ- 
বসে ছদষ আপ্ত হইয়া সাব, তাহার অন্রভবেব নিমিভ | 
বিশেষতঃ € ৩) “বান্তাসম্মি তয়োপদেশযুজে'”--হ্ষুতি প্রভৃতি 
আমাদিগকে প্রভুর নাধ সাঁদেশ কবেন, পুবাঁণেতিহাঁস বন্ধুব শ্টাষ 
উপদেশ প্রদান কবিষা থাকেন, কিন্তু পতি হিতৈষিণী প্রাণয়িনলী 
যেকপ উন্মার্গগীমী ভর্ভীকে বসব বুঝিবা নানার্ভী্দে বিনাইয়া 
কোমল মধুর স্ফটাম্দট বচনাবলীঘ্বাবা ধীরে ধীবে সশপথে 
কঁঙিতে উপবোর্দা কবিযা থাকেন? জপ বাবাও পাঠকেব মনে 
নানা রস ও ভাবেব অবতাবণা কবিষা, তাভাবই ভিতব 
দিযা মহ চবিত্রেব সাধু আদর্শ প্রভৃতি অলক্ষিত ভাবে জদঘ-পটে 
মুদ্রিত করিযা, অল্লাধিক উপদেশ প্রন করিষ। থাকে । 
উল্লিখিত উদেশ্যাবলীব কোন্টি অবলম্বন পরর্বক ভন্টিকাব্যেৰ 
গ্রন্থকার তদীয় মভাঁকাৰ্া প্রণয়ন করিযাছেন এবং উহা পাঠ 
করিলে গ্লাঠকেরই বা কি হল লাভ হয়, তাহা প্রসঙ্ক্রঙ্গ 
যথাস্থানে আলোচিত হইনে। উপস্থিত, ভটিকাবা কাহার 
রচিত-_ইহাই আমাদিগেব গ্রাধানভঃ আলোচনার বিষয় । ভর্ভ- 


হই প্রবন্ধাষ্টক। 


হরিনামক কবি এই গ্রন্থের প্রণেতা বলিযা  নিদ্দিউ হন। 
তাহা হইলে সংস্কৃত সাহিত্যে দুইজন কবি ভর্ভহরি নামে খ্যাত 
ছিলেন * বলিতে হইবে ;€ ১) শূঙ্গার-শতক, নী'তি-শতক 
এবং বৈরাগ্য-শতক এই কোধকাব্যত্রযের গ্রন্থকার এবং (২) 
তট্িকাব্যের রচয়িতা । এস্থলে আপত্তি হইতে পারে যে, ছুই 
জন ভর্তৃহরি কল্পিত না হইয়া একজন কবিকেই শতকত্রয় এবং 
ভ্টিকাব্যের রচয়িতা বলা যায় না কেন? এই আপত্তি খণ্ডনেব 
নিমিত্ত ছুই প্রকার প্রমাণ প্রঘোগ কবা বায। প্রথম বাহ্য, 
কোষ-কবি ভর্তৃহরি এবং ভরি-ক্বি ভর্তৃহরিব ভিন্ন ভিন্ন জীবনা- 
খ্যায়িকা লোক সমাজে প্রচাবিত আছে । দ্বিতীয় আত্যন্তর; 
ভাহাদিগের বচিত কাবা মধ্যে বিভিন্ন ভাব ও কচি পরিলক্ষিত 
হইয়! থাকে। 

শৃঙ্গার-শতক প্রভৃতি রচয়িতা! ভর্তহরি রাক্তা ছিলেন। কথিত 
আছে, তিনি-_-ভারতের হাকণ-অব-রশিদ- রাজা বিক্রমাদিত্যের 
অগ্রজ ছিলেন। মধ্য যুগের রাজন্য বর্গের যেমন বীতি ছিল, তিনিও 
তক্রপ বিলাসী রাজ্জা ছিলেন। কথিত আছেঃ একদিন কোন 
সন্ন্যাসী একটি ফল আনিয়া রাজাকে বলিলেন বে এই ফল ভক্ষণ- 
কারী বাক্তি চিরযৌবনসম্পন্ন হইবেন। ভোগ-বিলাস-পরায়ণ 
সত্র রাজা, নিজে না খাইয়া, সেই ফল রাণীকে উপহার দিলেন । 
রাণীর এক উপপতি ছিল, তিনি তাহাকে দিলেন। এ ব্যক্তির 














* শঙ্দপান্ত্ের সম্্রদায়-বিশেষ-গুরু, বাকাপদীয় নামক প্র রচয়তা প্রসিদ্ধ ভর্ৃহরি 
এই দুইজনের অন্তর্গত কিনা, তাহা অনুসন্ধান কর! উচিত। শু” সং। 


ভঙিকাব্যের প্রস্থকার। তত 


' অপর এক উপপত্বী ছিল, সে উহ্হাকেই কল অপণি করিল । সেই 
রমণীর আবার রাজার প্রতি প্রগাঢ় আসক্তি ছিল, সে পরকীয়! 
ভাষের নিষ্ছামত্ব প্রদর্শনপূর্ববক রাজাকেই ফল প্রদান করিল। 
এইরূপে ফলটি পুনঃ প্রাপ্ত হইয়া রাজ। বিস্রিত হইলেন এবং অনু- 
সন্ধানপৃর্ববক আমূল বৃত্তান্ত জানিতে পারিয়া সংসারে বীতরাঙগগতা- 
বশত ততক্ষণাত অবধৃতাশ্রম গ্রহণ করিলেন। প্রবাদ--তদীয় 
নীতি-শতকের প্রথম প্লোকে এই ঘটনাই উল্লিখিত হইয়াছে-__ 
“ষাং চিন্তপ্লামি সততং ময়ি সা বিরক্তা 
সা চান্তমিচ্ছতি জ্রং স জনোইন্যরক্তঃ। 
অন্্ংকৃতেহপি পরিতুষ্যতি কাচিদন্যা 
ধিক্‌ তাঞ্চ তং মদনঞ্চ ইমাঞ্চ মাধ & 
এই ভর্তৃহপ্লির জীবনী * অনেক পরিমীপে শান্তিশতককার 
শিহলন মিশরের * অনুরূপ। শৃঙ্গার, নীতি ও বৈরাগ্য শতকের 
উঁদেস্ট ও ভাব, প্রায় শাস্তিশতকেরই ম্যার। এমন কি, ভর্তৃ- 
হরির অনেক কবিত৷ শাস্তিশতকে অবিকল দেখিতে পাওয়া 
যায়; উদাহরণ স্থলে নিম্ে এঁকটা শ্লোক উদ্ধৃত হইল। 
ইহাতে উত্তয় কবিই বেন সমস্বরে স্থীয় জীবনের পূর্ব কাহিনী 
এবং তাৎকালিক ভাব জন-সমাজে বিবৃত করিতেছেন । 
“যদাসীদজ্ঞানং স্মরতিমিরসংস্কারজনিতং 
তা জ্ঞাতং নারীময়মিদমশেষং জগদপি । 


রঙ শিহৰ ষিশ্রের জীবনী বিষদঙ্গন ঠাকুরের জীবনীর অবিকল অনুরূপ $ ধিক ফি, 
উত্তয়কে একই ব্রি বলিব। যেন সন্দেহ হয় । 


২৪ প্রবন্ধাষ্টক । 


ইদানীমন্মাকং পটুতরবিবেকারঞ্জনজুষাং 
সমীডৃতা দৃদ্ি স্রিভুবনমপি ব্রঙ্গ মশুতে ॥” 
, ভষ্টিকাব্যের গ্রন্থকারের জীবনী সম্প্ণ শ্বতন্ত্র। জিনি, পরম 
ভাগবত জ্ীমন্তীগবতের টাকাঁকাব প্রীধরস্থামীর পুত্র। তাহার অদ্ভুত 
শৈশব-কাছিনী বাঙ্গালা ভক্তমালগ্রন্থহইতে উদ্ধত কর! গেল-_ 
“ভ্রীল ভ্ীধর স্বামী জগতে বিদিত | 
জ্রীমস্তাগবত টাকা কৈল বিস্তারিত ॥ 








শান্করী বিরুদ্ধ গৌণ জক্ষণা ব্যাখ্যান। 
দৃষিয! স্তাঁপিলা শুদ্ধ মত বিলক্ষণ ॥ 
রর সি রা 
গৃহে এক স্ত্রী মাত্র পুর্ণ গর্ভবতী । 
তাজিয়া! যাইতে বন হুইল দু মতি ॥ 
হেন কালে নারী, পুন প্রীসব হইয়া ॥ 
কাল প্রাপ্ত হৈল তার বালক রাখিয়া ॥ 
সাধু উৎক্ঠাতে শুহে রহিতে না পারে । 
চিন্তিত, বালক এই কেব৷ রক্ষা করে ॥ 
ভাবিতে তাঁবিতে চৈবে এক জ্যেঠী-ভিন্ব 
চলি হতে পঠডে গেল বিনা অবলম্ব ॥ 
ভাঁজিয়া ভিতর ভতে বাচ্ছা নিকলিয়! | 
খাইল জন্মুখে এক মক্ষিক! ধরিয়া ॥ 
সাধু তাছা দেখি মনে বিচার করিল । 


ভট্টিকার্ব্যের গ্রন্থকাব। ২৫ 


সেই! শিশু রক্ষিবে যে ইহারে বক্ষিল। 1 
এতেক ভাবিয় ত্যজি গমন করিল। 
অনাথ বালক গ্রাম্য লোকেতে পালিল ॥ 
সেই শিশু, কালে মহা পণ্ডিত হইল। 
ভষ্টিনামে রাম-লীল! সাহিত্য রচিল ॥৮ 
গ্রন্থকার নিজ কাবোর উপসংহারে আত্ম পরিচয়স্থলে এই 
মাত্র বলিবাছেন_- 
“কাব্যমিদং বিহিতং মব1 বলভ্যাণ 
শ্রীধর সেন (৯) ধরেন্দ পাঁলিতীয়াম্‌ ॥৮৭ 
ইহাতে দেখা যায যে, ভট্টিকাব্যেব গ্রন্থকার বলভী-নগবাধিপ 
শ্ীধর সেন (?) ভরপতির আশ্রযে থাঁকিযা এই কাব্য রচনা! 
করেন। 

» উপবে যাহা বণিত হইল, *তদ্ডার! উভঘ কবির জীবনীতে 
বিলক্ষণ বৈবম্য* পরিলক্ষিত হইতেছে এবং উহাই উভয় কবি 
একই ব্যক্তি না হইবার যথেষ্ট প্রমাণ । ৮” এই গেল বাহ্ 
প্রমাণ ; আত্যন্তর প্রমাণও দই একটা প্রদণশিত হইতেছে । 

কোধকাঁবোর রচয়িতা ভর্ভৃছরির* উদ্দেশ্টু ভাল হইলেও, 
শৃঙ্গীরশতকে আদি-রসেব অযথা অনেক ছড়াছড়ি করিয়া উক্ত 





৮ বলতী এক সময় ভাযতবর্ষের মধ্যে হুসম্ৃদ্ধ রাজধানী ছিল, সেই দরের এবং 
তংস্থলীন্ রাজগণের বিস্ত ত বিবরণ অনুসন্ধান করিলে ভাল হয় । জং, সং। 

1+ উভয়ের আবিভাঁব-কালেরও বিলক্ষণ অন্তর বহিয়াছে। ভর্তুহরির অনুজ 
যিক্রমাদিতোর অনেক পরে শহনাচায্য এবং শঙ্ষরাচার্পব অনেক পরে ভটটিকীরের পিতা! 
শ্রীতরম্বামী জম পরিগ্রহ করেন । 


২৬ প্রবন্ধাষ্টক 1 


শতকের নাষ সার্থক করিয়াছেন এবং স্বীয় কচিরও বিলক্ষণ 
পরিচয় প্রদান করিয়াছেন। কিন্তু তট্টিকাব্যের রচয়িতা তদীয় 
প্রকাণ্ড গ্রন্থে অনতিস্থুল একটা সর্গে (একাদশে) মাত্র আদি 
রসের অবতারণা করিয়াছেন । তাহাতেও তীহার ছুইটী উদ্দেশ্য 
বুঝ! বায় ;-_প্রথম, সমস্ত রসের প্রধান আদি রস একট 
মহাকাব্যের অঙ্গী না হইলেও অঙ্গবপে থাকা আবশ্বীক ; * 
দ্বিতীয়, গ্রন্থের প্রধান উদ্দেশ্য শব্দশাস্ত্রের নানাবিষয়ক উদ্দা- 
হরপ-প্রদর্শন, তাই কাব্যমধ্যে আদি রসের উদ্বাহরপণেরও 
প্রয়োজন । টীকাকারও বলেন; _“মাধুধ্যমপি কাব্যস্ত গুণ 
উক্তঃ। ইতি তৎ প্রদর্শনার্থং লঙ্কা প্রভাতবর্ণনমধিকৃত্য আহ |” 
এস্থলে ইহাও উল্লেখ করা যাইতে পারে যে, এ বিষয়ে কৰি 
অনেক পরিমাণে সংযত কচির অনুসরণ করিয়া মাঘ, ভারবি, 
শ্রীহর্য প্রভৃতির অপেক্ষাও সমধৃক প্রশস্য হইয়াছেন । 
আর একটা আত্যন্তর প্রমাণ দেখা! বায । « কোষ-কাব্যের 

কবি ভর্তৃহরি প্রগাচ শৈব ছিলেন। তিনি বৈরাগ্য-শতকে 
শিবার্না-বিষয়ক ক্লোক-মালার একটাতে মুক্তকণ্টে বলিয়াছেন-_ 

“মহেশ্বরেনব। জগতামধীশ্বরে 

জনার্দনে বা জগদস্তকারণে । 

ন বন্তরতো মে প্রতিপত্তিরস্তি 

তথাপি ভক্তিস্তকপেন্দুশেখরে ॥” 

* গুদ বীর শীস্বানীষেকোহঙগী রস ইযাতে। জঙ্গানি সর্ধবেংপি রসাঃ 

স-সাহিভা-বর্্ । 


ভগ্তিকাব্যের গ্রন্থকার । ২৭ 


মহাকালাধিষ্ঠিত উজ্ভরিনীর তূতপূর্বব অধীশ্বরের এবং 
সম্প্রতি অবধৃতাশ্রমাবলম্বীর ইহা! হইবারই কথা । কিন্তু ভরি 
কাব্যের গ্রন্থকার একজন বিশ্ববিখ্যাত বৈষণবের সম্তান, তাহার 
অবশ্য বৈষ্ণব হুওয়াই স্বাভাবিক এবং “রামলীলা-সাহিত্য” রচন৷ 
করিয়া তিনি ঘোরতর বৈষুব ভক্তমাল রচয়িতারও প্রশংসা 
ভাজন হুইয়াছেন। বিশেবতঃ টাকা-মুখে ভট্টাকাব্যের টীকাকার- 
গণ সমস্বরে স্বীকার করিয়াছেন যে, কাব্যের প্রথম শ্লোকে 
“সনাতনঃ পিতরমুপাগমণ স্বয়ম্” এই বাক্য দ্বারা কৰি স্বীয় ইফ্ট- 
দেবতাকেই স্মরণ করিযাছেনপ 

ভষ্টিকাব্যের গ্রন্কারের নাম কি ছিল, তাস্থা ক্মদ্যাবধি 
বিতর্কের বিষয় হইয়া রহিয়াছে। টাকাকার জয়মঙলের মুতে 
গ্রন্থকারের নাম ভটু বা ভঁটু এবং কবির অনুকরণে তিনিও 
স্বকৃত টীকার নাম “জয়মঙ্গলা” রাখিয়াছেন। 
সস্তার টাকার উপক্রমণিক'য় আছে__স্পরীস্বামি স্নুঃ কৰি 
ভঁটিনামা রামকথাশ্রয়ং মহাকাব্যং চকার”। আবার পরি- 
সমান্ডতিতে লিখিয়াছেন, “ইতি *রম্বামিসূনোর্ডট্রমহাত্রাক্ষণস্য 
কুতৌ” ইত্যান্গি। বৈদ্য টাকাকৃৎ ভরতমল্লিক বলেন,_-“ভর্তৃ 
হরির্নাম কবিঃ ক্ট্রীরামকথাশ্রযং মহাকাব্যং চকার।” কবি আপন 
গ্রন্থমধ্যে আপনার নাম কুত্রাপি উল্লেখ করেন নাই; অপর 
কবিগণ হইতে ইহাও তাহার এক বিশেষত্ব । বঙ্গানৃ্দিত ভত্তু- 
মালেও * তাহার নাম দেওয়া হয় নাই। কিন্তু তক্তমালোদ্ধ্‌ত 


* মূল তক্তমালগ্রদ্থ দেখিবার নিমিত্ত বলবতী ম্পৃহা। সম্বেও এ বাঁবৎ লেখকের 
ভাগে তাহ! ঘটিগা উঠিল না । 








২৮ প্রবন্ধাষ্টক ৷ 


পিপাসা শাপলা ৮ শট লি ৮৮ শশা ০ পি পাসপপত শি তত পল সপ পিপিপি শিট 


বিবরণ পাঠ করিলে স্বতঃই অনুমান হয় যে, যেহেত্ত পবম ভাগবত 
পিতা ক্রীধরস্বামী অনাথশরণ ভগবান্‌ শ্রীহবির উপরেই নবজাত 
শিশুব ভরণেব ভারার্পণ করিয়া সংসারাশ্রম পরিত্যাগ করেন, 
তাহাতে কবির নাম “ভর্তৃহরি*হওযাই স্বাভাবিক । শৈশবে *গ্রীম্য 
লোক” দ্বারা প্রতিপালিত হওযাতে তঁদীষ নামেব প্রীককতাপভ্রংশ 
হইবা '“ভ্টি* এই শল্ভুত আকাব ধাবণ করাও নিতান্ত অসম্ভব 
নহে। অথবা, “কালে সেই শিশু মহাপণ্ডিত” হইলে “ভর্তৃহারি 
ভষ্ট” এই নাম ধাবণ কবিষা, পিতা ভ্রীধব স্বামী যেমন মাত্র "স্বামী? 
নামে পবিচিত হইবা থাকেন, তত্রপ; “টু” এই খ্যাতিতেই, বোধ 
হয, তগুকালে পবিচিত হইতেন এবং তজ্জন্ই তন্রচিত কাব্যও 
এভন্ত্িকাবা” এই সংহ্। লাভ কবিযাছে । এইবপ কল্পনা ছার! 
জয়মঙ্জল ও ভবতমল্লিকেব বিবাদেব এক প্রকার সমন্বব হইতে 
পাঁবিত, কিন্তু ভাহাতে এক মহান্‌ অন্তরা রহিয়াছে । সাহিত্য- 
দর্পণে মহাকাব্য লক্ষণে আচছে,_ 
“ক্বের্বব্‌ন্তস্য বা নাহ্না নায়কস্যেতরসা বা। নামাস্য-_” 
দর্পণ টাকাকাঁব বামচবণ  তর্কবাগীশ (১৬২৩ 
শকাব্দে ) উক্ত কাবিক্ব উদ্দাহরণ স্থলে লিখিয়াছেন-_. 
“কবিনামকং মহাকাব্যং ষথ! মাঘভারবিপ্রভৃতি ; বৃত্তনামকং 
কুমারসন্তবাদি; নায়কনামকং বধুপ্রভৃতি; ইতরনামকং 
ভ্টপ্রভৃতি।” ইহাতে জয়মঙ্গলের মত সম্পূর্ণ বিপর্ধ্যস্ত“হুইতেছে। 
তবে, কুবির নামে নাম ন| হইলে, “াষ্রকার্য” এই 
সংজ্ঞার তাতপর্ধয কি? এত সম্বদ্ধে কাব্যের পরিঙমাপক 


কটিকাবোর গ্রন্থকার । ২৯ 











নিম্বোদ্ধত চ্ইটা শ্লোক দ্বারা ছুই প্রকার মীমাংসা : কল্পিত 
হইতে পারে। 
(১) “ব্যাখ্যাগম্যমিদং কাব্যমুত্সবঃ স্তধিয়ামলম্‌ ॥, 
হতা৷ দুশ্মেধসশ্চাম্মিন্‌ বিহ্ষাং ল্বীতযে ময়া ॥ 
ইহাতে এক প্রকার অন্তমান “করা যাইতে পারে যে, গ্রন্থ- 
কার পণ্ডিত ( ভট্ু ) গণেব পরিতোধার্থে কাব্য রচনা করাতে 
কাব্যের নাম “ভট্টকাবা” হইয়াছে । 
(২) “কাব্যমিদং বিহিতং ময়া বলভ্যাং 
শ্রীধর সেন *«নরেন্্র পালিতায়াদ্‌। 
কীন্তিঝতে। ভবতান্ন্পস্য তস্য 
ক্ষেমবরঃ ক্ষিতিপো বতঃ প্রজানাম্‌ ॥"" 
এতদার। অন্মমান করা যায যে, কাব্য-রচনার শ্রেঠতম ফল 
“কীন্ডতি”” আশ্রযদাতা ভটাবকের নামে উতসর্গাকুত হওয়াতেই 
জ্ভটিকাব্য' এই, নাম সিদ্ধ হইযাচ্ছে । 
যাহা হউক, ভরত মলিকের মতই সমধিক প্রামাণ্য বলিয়া 
এতদ্দেশে গৃহীত হইয়াছে এবং ভর্তহবি নামক কবি ভটিকাব্যের 
গ্রন্থকার, ইহা একবূপ সন্ববাদিসম্মুত। “সংস্কৃত ভাষ| ও 
ংস্কত সাহিত্য বিষযক প্রস্তাবে” স্বর্শীয ঈশ্বরচন্দ্র বিষ্ভাসাগর 
মহাশত্ব ভরতমল্লিকেয় মত পরিত্যাগ পূর্বক প্র প্রাচীন টাকাকার জয়- 


* বঙ্গীয় পুস্তকে এইরপ পাঠ দেখ। যায়। [কন্ত কত্ত ,ধরজেন' এই পাঠই যেন 
্স্থকারের অভিপ্রেত বৌধ হয়। লিপিকর প্রমাদে 'জ' স্থলে *স' হওয়া বিচিত্র নহে। 
জয়য্গল “গুধর দু"? এই পাঠ ব্যাখ্যা! করিয়াছেন! 


৩৩ প্রবন্ধাইক । 


মঙ্জলকে প্রামাণিক বলিয়। তাহার মত গ্রহণ করিয়াছেন; তিনি 
বলেন,_-“ভ্ট্রকাব্য ভর্কৃহরি রচিত-_ইহা! অসন্তব, কেন না ভর্তৃ- 
হুরি স্বয়ং রাজ হইয়! বলভীরাজের আশ্রয়ে ছিলেন তাহা হইতে 
পারে না।” বদিও উক্ত প্রমাণ বড় অকাট্য নহে, তথাপি 
তৎসম্বন্ধে আমার্দিগের মত বিরোধ নাই ; বরং উহা অপেক্ষা 
গুরুতর প্রমাণাবলীর দ্বারা প্রদশিত হইয়াছে যে, রাজা ভর্তৃহরি 
ভট্টিকাব্যের রচয়িতা নহেন। ভরত মল্লিকও এমন কথা বলেন 
নাই যে, কোষকাব্য প্রণেতা রাজ! ভর্কৃহরি ভট্িগ্রস্ত লিখিযাছেন। 
এই আপাত-বিরোধ মীংমাসার জগ্তই ছুইজন ভর্ভহরি কল্লিত কব 
গিয়াছে । অপর, জযমন্গল প্রাচীন টাকাকীর বলিয়াই যে 
প্রামাণিক হইবেন, একপ বলাও সঙ্গত নহে, তাহ! ভইলে কালি- 
দাসের “ছূর্ববাখ্যাবিষমুঙ্ছিত।” ভারতীকে সম্ভীবনী ছারা! উজ্ভীবিতা 
করিবার প্রম্না় অর্দ্বাচীন মল্লিনাথকে করিতে হইত না। যাহা! 
হউক, জয়মঙ্গল প্রীমাণিক সন্দেহ নাই; তথাপি হে ভরত মল্লিক 
অধুনাতন হইযাও তাহার মতের বিপরীত মত প্রকাশ করিতে 
সাহনী হইধাছিলেন, ইহাতে বোধ হয়, তিনি নিজ মত পৌষক 
সবিশেষ প্রসীণ অবশ্াই পাইযা থাকিবেন। বিশেধতঃ, প্রাগুক্ত 
দর্পন-টাকাকার প্রায় দ্বিশতবর্মপ্রাচীনা তর্কবাগীশকেও 
ভরতেরই তুল্যমতাবলম্বী দেখিতে পাওয়া যায়। জয়মগল যে 
তাতকাপিক কোন অমুলক কিংবনন্তীর উপর নির্ভর করিয়া 
যমৃচ্ছাক্রমে একট। মত স্থাপন করিয়া যান নাই, কে বলিতে 
পারে? অপি5 ইতিপূর্বে কাব্যের পরিসমাঁপক ষে দুই শ্লোক 


ভষ্টিকাব্যের গ্রন্থকাব । ৩১ 


উদ্ধৃত হইয়াছে+ তাহ! হইতে দেখ খায় যে, বিশ্বহর্গের পরি- 
ভূষ্টির জন্য এবং স্বীয় আশ্রয় দাত। বশন্বী হউন-_এই উদ্দেশ্টেই, 
'তিনি কাব্য বচনা করেন। কাবা লিখিয় নিজে নাম করিৰ-_ 
এমন ভাব তীহার দেখা যায না। এমন কি, অপব কবিগ্গণেব 
স্যাব তিনি সর্গসমাপ্তিসময়েও আপনার নামোল্লেখ করিতে 
সন্কুচিত হইয়াছেন, এবপ বিনীত নিষ্কাম কবি নিজ নাষে 
কাব্যে নামকরণ করিযাছেন_-ইহা আপাতদরষ্টিতেই যেন 
'অসঙ্গত বোধ হয । 

স্বর্গীয় বিদ্বাসাগর মহাশখ তদীয “সংস্কৃতি ভাষ! ও সংক্কুত 
সাহিত্য বিষয়ক প্রস্তাবে” সংস্কৃত ভাবায় সরল, মধুর, ললিত 
প্রস্ভৃতি রচনাৰ উদাহরণস্থলে তর্টিকাব্যের দ্বিতীয় সর্গের প্রথম 
হইতে উনবিংশ শ্রোক উদ্ধৃত করিযা! দেখাইয়াছেন। ফলতঃ 
ভট্িব দ্বিতীষ সর্গেব প্রথমাংশ পাঠ করিলে, বৌধ হয়, বদি কৰি 
সাঁধ করিযা ব্যাকরণেব নিগভবদন্ধ না! হইতেন, তীহার স্থান মাঘ, 
ভারবি, শ্রীহর্ষের, পূর্ন্বে না হউক, পার্থেই হইত। শব্দ শাস্ত্রে 
উপর তীহাব যেৰপ অধিকার ছিল, অপর কোন কবির তঙ্জঞপ 
ছিল কিন! সন্দেহ, অথচ সহ্গদয়ত। এবং কবিত্বও তাহাতে 
যথেষ্ট ছিল। কাবা লিখিয়া নিজের কবিস্ৃ খ্যাপন কর! অপেক্গণ 
যাহাতে ঠাহার শক্তি বিদ্যার্থার উপকারার্থে নিয়োজিত হয়, 
ইহাই যেন কবির একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল। 

এই কাব্য প্রণয়ন সম্বন্ধে অন্মন্দেশে এক অন্ভুত ক্রিংবদস্তী 
প্রচারিত আছে । কবি একজন অতি প্রসিক বৈয়াকরণ ছিলেন; 


৩২ প্রবন্ধাক। 


নান দিগ্দেশ হইতে অনেক ছাত্র তাহার নিকট অধায়নমানসে 
আদিত। একদা তিনি অধ্যাপন! করিতেছেন, এমন সময়ে 
উাহার ও ছাত্রধিগের মধ্য দ্যা ভঠাঙ্ একটা হস্তী চলিরা গেল 
এবং তজ্জন্ভ এক বতসর অধ্যাপনা বন্ধ রাখিতে হইল। বেদাঙ্জ- 
ব্যাকরণের পাঠ বন্ধ থাকিলেও কাব্যাদি উপশান্ত্র সম্বন্ধে তত 
আটা আঁটি নাই, এই শিমিন্ত, শিষ্যদিগেব উপরোধে, তিনি 
ব্যাকরণ শিক্ষার সাহাব্যকারী কাবা গ্রন্থের প্রণয়নে প্রবৃত্ত হন 
এবং সংবতসর কাল মধ্যে উহা! সমাপ্ত করিয়৷ ছাত্রদিগকে 
পভাইয়াছিলেন।* এই জনসশ্রতিবতথ্যানুসন্ধান সুদুর পরাহত। 

মন্ুংহিতার চতুর্থ অধ্যায়ে অনধ্যায-প্রকরণে বিধান 
তন্জছে ;- 

“পিশুমগ্ডুকমার্জাব গসপনকুলাখুভিঃ 
অন্তরাগধনে বিদ্যাদনধ্যাযমহনিশম ॥৮ 

“পশুরবানি+__(কুন্তুক ভট্ট )॥ গবাদিতে হস্তাও খাঁকি- 
বার কথা, তাহা হইলে এক অহোরাত্র মাত্র অনধ্যায় হওয়া৷ উচিত 
ছিল ;--সংবহদর অনধ্যাষের কোন হেতু দ্েখ। যাব না। তবে 
মুধিক, নকুল, ভেক, সর্পদি ক্ষুদ্র জন্তর অস্তবাগমনে যে ব্যবস্থাঃ 
একট প্রকাণ্ড জন্কুর পক্ষেও কি সেই ব্যবস্থা ? এইরূপ বিতর্ক- 





** এদেশে প্রচ।লভ প্রবাদ ,_অধ্যয়দে অনাবিষ্ট রাজপুত্র, ভর্তৃরির নিকটে 
অধায়নার্থ নিধুক্ত ছন। রাজপুত্রের বড় বস্ত্রেই পাঠকালে অধ্যাপক এবং রাজিপুথ্ের মধা 
দিক! ছন্তী চালিত হয়। তৎপরে ভর্তৃহরি দেই ব্ডযস্ত্র জানিতে পারিক্। কাবাচ্ছলে 
ব্যাকরণের উপদেশ দেন । জং সং 


ভট্টিকাব্যের গ্রন্থকার । ৩৩ 


কারী কোন তার্কিকদিগ্গজ গজপক্ষে অনুপাতক্রমে এক 
বৎসর অনধ্যায় বিধান করিয়া এই একটা অমূলক কিংবদন্তী 
রটাইয়াছেন কি না, কে বলিতে পারে ? 

অন্মদ্দেশীয় টোলের ছাত্রদিগের নিকট ভট্রকাব্যেক়্ বিলক্ষণ 
সমাদর দেখিতে পাওয়া যায়। তাহারা আশৈশব ব্যাকরণের 
সূত্রগুলি শুক্ধ উদ্দাহরণ সহ কণ্স্থ করিয়া থাকে; তাই, এই 
সকল সূত্রের সুপ্রযুক্ত সরন উদাহরণ-মালা দেখিয! তাহারা বড়ই 
প্রীতি সহকারে সেইগুলি আবৃত্তি করিতে প্রবৃত্ত হয়। কিন্তু 
ব্যাকরণবিমুখ ইদানীন্তন কাঁবামধুকরগণের পক্ষে ভাট্রকাব্য 
নিতান্ত নীরস ও কর্কশ বৌধ হইবারই কথা। বস্তুতঃ প্রথম 
কয়েক সর্গ ভিন্ন ভ্্ির অপব স্বর্গগুলি যেন ব্যাকরণের এক এঁক 
পরিচ্ছেদ । কাব্য-বিভাগে ভটরি যেমন দ্বাবিংশতি সর্গে বিভক্ত, 
ঝ্পকবরণ বিভাগে উহ! আবার, প্রধানতঃ চারি কাঞ্জে বিভক্ত ;-, 
প্রথম হইতে পঞ্চম সর্গ-_প্রকীর্ণ কাণ্ড, ষষ্ট হইতে নবম-_ 
অধিকার কাণ্ড, দশম হইতে ভ্রয়োদশ্ব__ প্রসন্ন কাণ্ড এবং চতুর্দশ 
হইতে দ্বাবিংশ__তিউস্ত কাগ্ড। প্রকীর্ণ কাণ্ড নানাবিষয়ক, 
স্থৃতরাং ইহাতে কবির কবিত্বের স্ুস্তিলাভের একটু অবকাশ 
ছিল; তাই প্রথম হুইতে পঞ্চম সর্গ * সাহিত্যসেবীর কথ্চিগ 
মনোরঞ্জন করিতে পারে এবং এই জঙ্ুই বিশ্ববিদ্যালয়ে এই কয় 
সর্গের অধিকতর আদর। অধিকার কাণ্ডে কৃত্দ্ধিতাঁদি 
প্রত্যয়ের উদাহরণ প্রদর্শিত হুইয়াছে। প্রসন্ন কাণ্ডে কৰি 


৩৪- প্রবন্ধাষ্টক। 


বাক্যের প্রসাদ সুচক অলঙ্কার প্রভৃতির অবতারণা করিয়াছেন, 
এবং তিউন্ত কাণ্ডে আখ্যাত প্রকরণ অর্থাৎ ক্রিয়াবপ প্রদর্শন 
করিয়াছেন। এই স্থুল বিভাগ ব্যতীত প্রত্যেক কাণ্ডের আবার 
নানা উপ-বিভাগ আছে, _-এস্থলে তাহার উল্লেখ নিশ্রযোজন । 
ব্যাকরণই কবির একমাত্র লক্ষ্য হওযাতে কাব্যের বিষয় নির্বাচনে 
তিনি মৌলিকত প্রদর্শনের অবসর পান নাই ; কিন্তু আধুনিক 
কবিগণের প্রধান উপজীব্য বাল্মীকির অমর গ্রন্থেব আশ্রয় গ্রহণ 
করাতে কাব্যের উপাদানের নিমিত্ত তাহাকে বড বেগ পাইতেও 
হয় নাই। 

এখন এই প্রবন্ধ-সূচনায উদ্ধত মম্মট ভট্রের কারিকাটির 
প্রৃতি লক্ষ্য করিয়৷ দেখা বাউক, এই মহা! কাব্য লিখিয়া গ্রস্থ- 
কারের কি প্রয়োজন সাধিত হইয়াছে এবং উহা পাঠে অধ্যয়ন 
কারীরই ঝ৷ ক্কি ফললাভ হইয়া থাকে । পূর্বেই বলা গিয়াছে, 
ভ্টকাব্যের গ্রন্থকার “কবি-বশঃ-প্রার্থী, ছিলেনণনা-_বরং তশ- 
কাব্যজনিত কীর্তি কৃতজ্ঞতার, উপহার ম্বব্প আশ্রয়দাতা নরেন্দ্র 
নৃপতিকেই উৎসর্গীকৃত করিয়াছেন । কিন্ত কৰি স্বয়ং কিছু 
প্রার্থী না হইলেও, উল্লিখিত নিষ্ষাম সহৃদয়তা প্রদর্শন করাতে, 
তর্দীয় ন্যাষ্যপ্রাপ্য কবিষশঃ সমধিক পরিবদ্ধিত হইয়াছে । 
ব্াকরণাধ্যায়ীদিগের ছুত্প্রাপ্য উদাহরণ রাশি রসাত্মক বাক্যাকারে 
গ্রথিত করিয়! প্রগাত পাণ্ডিত্য প্রকাশ করাতে, কবি-কীর্তির 
সঙ্গে তয় পাগিত্যকীত্তি সম্মিলিত হইয়া গ্রস্থকারকে অনন্য- 
পাঁধারগ যশোভাজন করিয়া তুলিয়াছে ; স্মৃতরাং ভট্টিকাব্য তদীয় 


ভট্টিকাব্যের গ্রন্থকার । ৩৫ 


প্রণেতার “বশসে'ই হইয়াছে বলিতে হইবে | * অধ্যয়নকারীরও 
বিশেষ ফল আছে। মন্মটমতানুযায়ী “ব্যৰহার পরিজ্ঞাঁন 
ইহাতে কিঞ্চিত হয় বটে, কিন্তু কবিগুক বাল্ীকি অনেক পূর্বেই 
অধিকতর দক্ষতা সহকাবে তাহ! সর্বজন গোচরীভূত করিয়া 
গিয়াছেন। কাব্যের অংশ বিশেষ (যথ। দ্বিতীয় সর্গ) পাঠ করিলে 
“সদ্য:পর-নির্বব্তি'ও হইয়া থাকে। কিন্তু প্রধানভঃ এই 
মহাকাব্য পাঠকের “উপদেশযুজে'ই প্রণীত ভইয়াছে। রাষ- 
চরিত্রের পুণ্য কাহিনী যে গ্রন্থে বিবৃত হইযাছে, তাহা কাব্যাংশে 
যেবপই হউক না কেন, অধ্যখনকানীর অন্তঃকবণে নায়কের মুত 
চবিজ্রের ছাষা অল্লাধিরু পাতিভ কবিবেই করিবে । এই নৈল্ডিক 
উপদেশ ব্যতীতও ভটিকাব্যান্মশীলনকারীব অন্যবিধ উপজঞ্ণ 
লাত হয, যাহ! অপর কাব্যগ্রস্থ হইতে লাভ কৰ! দু্ন্ন। খৈর্ধয- 
প্লহকীবে এই গ্রন্থ সমগ্র অধ্যয়ন করিতে পারলে শবশানে 
বিলক্ষণ ব্যুৎপন্তি লাভ করিতে পারা যাষ। কিন্তু ধিনি এই 
উপদেশ প্রার্থী, তাহাব গ্রন্থোপসংঘৃ'র কালীন গ্রন্থকান্ষের একটি 
কথ! মনে বাখা উচিত। 
“দীপভুল্যঃ প্রবন্ধোহ্য়ং শব্দ লক্ষণচন্ষুষা্‌ 
হস্তামর্ষ ইবান্ধানাং ভবেঙ্ব্যাকরপাদূতে ॥৮ 

* কাব্যের কীর্তি উপহার লাভ করিয়া, রাজ! নগ্লেত্স কবির কিছিৎ পু্স্বা বিধান 

করিয়াছিলেন কি না এবং রামলীলাত্মক কাব্য-প্রণয়নে কবির কোন (আধ্যাত্িক থা 


শারীরিক ) অশিঘোপশম হুইয়াছিল কি না জানা যায় নাই । হুতরাং ভটিকাত্য গ্রন্থকার 
'অর্থকৃতে' এবং "শিষেতরক্ষতয়ে' হইয়াছিল কি ন! ধরল আসপ্তৰ ২ 





ওক প্রবন্ধাষ্টক । 


ফলতঃ অগ্রে ব্যাকরণ শাস্ত্রে কিঞিও ব্যুৎ্পন্ন না হইয়! এই 
কাব্য অধ্যয়ন করিলে যথেস্লিত ফল লাভ করা এক প্রকার 
অনম্তব ৷ 
“মধুরেণ সমাপয়েৎ*,_স্থৃতরাং কিঞ্ি অপ্রাসঙ্গিক 
হইলেও, আরও একটি কথা বলিতে হইল। টোলের 
ভট্টাচার্য মহাশয় দিগের মুখে একটি শ্লোকার্ধ শুনা যায় __ 
এভ্রাবেকন্ত্রয়ো মাঘে রঘৌ কাব্যং পদে পদে ।” 
এই “একেশর ব্যাখ্যা কেহ করেন “সর্গ, কেহ করেন 
“শ্লোক” । সর্গবাদীরা দ্বিতীয় সর্গ নির্দেশ করিয়৷ থাকেন ; 
তশ. সম্বন্ধে পূর্বেই য্কিঞ্চিত আলোচিত হইয়াছে। শ্লোক 
বাদিগ্রণের মধ্যে কেহ উক্ত সর্গের ষষ্ঠঠ কেহ বা উনবিংশ 
শ্লোক নির্দেশ করিয়া থাকেন । ফলতঃ, এই উভয় শ্লোকই অতি 
মধুর এবং তজ্জ্ত তাহা পাঠক সাধারণের স্ৃবিদিত হইলেও, এই, 
প্রবন্ধের উপসংহারে উদ্ধৃত না করিয়া থাকিতে পারলাম না ।-_. 
“প্রভাত বাতাহতিকম্পিতাকৃতিঃ 
কুমুদ্বতীরেণুপিশঙ্গবিগ্রহম্‌। 
নিরাস ভূঙ্গং কুপিতেব পল্পিনী 
ন মানিনীশং সহতেহম্াসঙ্গমম্‌ ॥” 


ক ৪ মং 


“ন তজ্জলং যন্ন হুচারুপঙ্কজং 
ন পন্কজং তদ্‌ যদলীনষট্‌ পদম্‌ । 


ভট্টকাব্যের গ্রন্থকার । ৩৭ 


নষট্‌ পদোঁহসৌ ন জুগুপ্র যঃ কলং 
ন গুপ্রিতং তন্ন জহার যল্মনঃ ॥" 
আশা করি, এতম্ারা ভষ্টিকাব্যের গ্রন্থকারের স্বভাৰ সিদ্ধ 
কবিত্ব শক্তি কতক পরিমাণে অনুভব করিতে পারা যাইবে । 


জন্মভূমি, আষাঢ ১৩০২। 


কালিদাসের কাহিনী । 
(১) বিবাহ। 


মহাকবি কালিদাস ভারতের অমুল্যরত্ব। কিন্তু আমাদের 
এমনই ছুরদৃষ্ট ষে, ধাহার গৌরবে দেশের সুখ উজ্জ্বল হইয়াছে, 
তাহার জীবনীসম্বন্ধে সমস্তই অন্ধকারের গভীর গহববে নিহিত 
রহিয়াছে । ফলতঃ, জীবনাখ্যায়িক। লিপিবদ্ধ করিবার প্রথা 
এতদ্দেশে বর্তমান না থাকাতে, প্রাচীন ভারতেব বড় বড লোকের 
জীবনের ইতিহাস জানা আমাদের পক্ষে সম্পূর্ণ অসম্ভব হইযাছে। 
এই 'জীবনাধ্যায়িকার অভাব নিবন্ধন, এই সকল বড লোকের 
সম্বন্ধে আমাদের বাহা কিছু ধারণ, তাহা কতকগুলি লোক- 
পরম্পরাগত কাঁহিনীব উপরই অর্গতা! নির্ভর করিতেছে । কালি-' 
দাঁসসম্পর্কে যাহ! কিছু সাধারণের গোচদ্সীভূত, তাহাও এই 
অত্ঞাতমূলা' কিংবদন্তীর উপরেই সংস্বীপিত। এই সকলের 
আলোচনায় বিশেষ কোন লাভ না থাকিলেও আমোদ 
বথেষ্টই আছে। 

জগতে সরস্বতীব বরপুত্র বলিযা প্রথিত এই যে কালিদাস, 
'তিনি নাকি বাল্যে একজন গণু-মূর্খ ছিলেন ' কেবল স্বয়ং মূর্খ 
নহেন, মুর্খের পুত্র মুর্খ। পিতীমহও মূর্খ ছিলেন কি না, 
এতদ্বিষয়ে কিংবদস্তী নীরব। কালিদাস কোন্‌ সময়ের লোক-_ 


কালিদাসের কাহিনী । ৩৯ 


তাহ! লইয! গবেষণাপটু মনীষিগণের মধ্যে এযাবৎ বিচার-বিতগ 
চলিতেছে । তাহাতে আরও একটি ক্ষুদ্র সমস্যা যোগ করা 
যাইতেছে । যে সময হইতে ব্রাহ্গণগণ মনুসংহিতার সংকীর্ণ গণ্ডি 
অতিক্রম করিয়া আপনাপন সন্তানদিগকে শান্ত্রাধযন কূপ 
নিগডপাশ হইতে বিমুক্ত কবিযাছিলেন, তাহার অব্যবহিত পরেই 
কালিদাস জগতে আবির্ভত হইযাছিলেন। কালিদাসের ঘৈ- 
পুকষিকী মুর্খতার প্রমাণও জন-শ্রুতি,-_আজকাল এই "শ্রুতির, 
প্রমাণ কতদূর গ্রাহ্থ হইবে বলিতে পারি না । 
কালিদাস বাগ্দেবীর অসাধারণ কৃপাপাত্র__নানা দিশ্দেশ 
হইতে অসংখ্য ছাত্রবর্গ আসিয! জুটিয়াছে। অধ্যাপকের 
অসামান্য পাণ্ডিত্য দর্শনে শিষ্যাগণ ভাবিল, না জানি তাঁহার 
পিতৃদেব কতই অগাধ বিদ্বান্থ,_-কারণ, তখনকার লোকের ধারণ! 
ছিল, জগতে পাগ্ডিতোব পরিমীণ ক্রমশঃই হুত্ষ হইতেছে। 
*কালিদাসের স্মযে শিষ্যেরা “গুক কুলে” বাস ক্ষরিত কি না, 
গবেষণাসাপেক্ষ ; কিন্ত কালিদাসের শিষ্তগণ গুরুর পিতৃদেবের 
সাক্ষাতকার লাভ সহজে করিতে পারে নাই, একথা নিশ্চিত। 
যাহ! হউক, শিষ্তগণের বহু অনুরোধে কালিদাস স্বীয় জনকের 
সহিত উহাদের পরিচয় করাইতে সম্মত হইলেন। যথানিদ্দিষ্ট 
সময়ে বার্ধক্যোচিত বেশে সজ্জিত হইযা জপ-মালা হস্তে উচ্চৈই- 
স্বরে তারুকক্রক্ষ রাম" নাম মাত্র বারংবার উচ্চারণ করিতে পুত্র 
কর্তৃক উপদিষ্ট হইযা, কাঁলিদাস-জনক কুতৃহলী ছাত্রবর্গের সম্মুখে 
আগমন করিলেন। কালিদাসের পিত। যে কেবল শ্বর্থ ছিলেন 


৪৯ প্রবন্ধষ্তিক। 


প্রমন নহে; জীবনের পূর্ববতন কালে যে কোন দিন তিনি 

ভগবল্লাম পর্য্যন্ত গ্রহণ করেন নাই, বক্ষ্যমাণ ঘটনায় তাহারই 
প্রমাণ,পাওয়া যায় । বৃদ্ধ রাম”, রাম উচ্চারণে অসমর্থ হইয়া 
মুর্খবসূচক জিহ্বার জডহ্‌ নিবন্ধন “রাভণ” “রাভণ” বলিতে 
লাগিলেন। অধ্যাপক-জনকের এই দিগ্গজ পাণ্ডিত্যের পরিচয় 
পাইয়া শিষ্গণ ঈষদ্ধান্যে পরস্পরের মুখ নিরীক্ষণ করিতে 
লাগিল। কালিদাস অপ্রতিভ হইবার লোক নহেন। তিনি 
বলিলেন, “তোমরা বুঝিতে পারিলে না, পিতৃদেব তোমাদিশ্ের 
নিকট এই পূর্ব পক্ষ করিলেন,_ 

“কুম্তকর্ণে ভকারোইস্তি ভকারোহস্তি বিভীষণে। 
রক্ষঃশ্রে্ঠে কুলজ্যেষ্টে স কথং নাস্তি বাবণে ?” 
কুম্তকর্ণ ও বিভীষণ এই ছুযেতেই ভকার বিদ্যমান রহিয়াছে ; 
কিন্তু সর্ববজ্যেষ্ঠ রাবণ বাঞ্গসশ্রেষ্ঠ হইযাও এমন কি অপরাধ 
করিলেন যে, তাহাতে মহাপ্রীণ ভকার নাই ?” কালিদাদের, 
ছাত্রগণ এই পুর্ববপক্ষের কোনও মীমাংসা! করিতে পারিযাছিল 

কি না, আমরা তাহা অবগত নহি। 

এমন মুর্খের পুত্র মুর্খ হইবে না ত কি? এই পৈতৃক 
প্রকৃতি লইয়া “মন্থনের পুর্ববে অনভিব্যক্তরত্রোৎপত্তি অর্ণবের 
ন্যায়” যখন কালিদাস, ব্রাহ্মণ হইয়াও গোচারণের মাঠে 
বিরাজমান হইয়া গো-নিতম্থোপরি লবণ রক্ষা পুর্ববক মুর্খভ্বেরফল- 
স্বরূপ, সক্ষার বদরীর স্বাদ গ্রহণ করিতেছিলেন, তখন যে জগতে 
পাণ্ডিতয-প্রাতিভা ছিল না, এমন নহে ; বরং উহা! কেবল পুরুষের 


কালিদাদের কাহিনী । ৪১ 


করাযত্ত না থাকিয়া কোন কোন রমণী রত্বেরও আয়ত্ত হইযাছিল। 
ভারতের কোন এক রাঙ্জার পরম বপসী কন্যা সার্থকনাম্তী বিদ্যো- 
ত্তম৷ প্রতিজ্ঞ! করিষ! বসিলেন, “ধিনি আমাকে বিচারে পরাজয় 
করিবেন, তিনিই আমাব ভর্তা হইবেন।” স্থষ্টির আদ্যা নাধিকা 
'মহাবিষ্ভা যে প্রতিজ্ঞাবাণী স্থগ্টি করিয়াছেন, *%* এত কাহিনীর 
নায়িকা বিদ্যোত্তম! তাহাবই প্রতিধ্বনি করিলেন। বরকচির 
নায়িকা “বিদ্যা” (ভারতচন্দ্রের কপায বঙ্গদেশে ধিনি স্থপরিচিতা ) 
যে এই বিদ্যোত্তমাবই এক অনুকৃতি নহেন, তাহা কে বলিতে 
পারে ? বিশেষতঃ বরকচি কালিদাসেরই সহযোগী (এবং প্রতি- 
যোগী) ছিলেন, এ কথাও ম্মর্তব্য। অথবা, শক্তিবপিণী নাবী- 
জাতির মধ্যে কোন একটা শক্তিৰ বিশেষ কুত্তি লাত হইলেই 
বুঝি, তত্তৎ শক্তি দারা পুকবিজিগীষাই তাহাদের হুদষে প্রধল 
হইয়া উঠে। উনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগেও কোন “বিদুষীরঃ 
জীবনী ইহাই প্রমাণিত কবিয়াছে। যাহা হউক, বিদ্যোত্তমার 
'পাণিগ্রহণার্থী হইযা অনেক মহামহোপাধ্যায আসিয়! জুটিতে 
লাগিলেন, কিন্তু একে একে সকলেই পরাস্ত হইযা গেলেন।' 

হাষ, বিদ্যোত্তমার ভাগ্যে বুঝি জার “হুন্দর” বা “মেধাবী*” পতি- 
লাভ ঘটিবে না ! 


* পস্তপ্রেরিত দূতের প্রতি ভগবতীবাকা-_ 
* “যে মাং জগ্নতি সংগ্রামে যো! মে দর্পং বাপোহভি। 
€ধো গ্গে প্রতিবলে! লোকে স সে ভর্তা! ভবিষ্যতি ॥ 


-_মার্কগেয় চত্ী। 


৪২ প্রবন্ধা্টক। 





নিঞ্জিত পণ্ডিতদিগের মধ্যে কতকগুলি যুবক একত্র যড্যন্ত্ 
করিয়া প্রতিজ্ঞা করিলেন, এই বিদ্যোম্মত্ত। বিদ্যোত্তমার সঙ্গে 
একটা হস্তি-মূর্থের বিবাহ দিতে হইবে এবং এতদাশযে তীহার! 
তন্তরপ মুর্খেৰ অনুসন্ধানে বাহিব হইলেন। তীহাদের মনোরথ 
সফল হইতে বিলম্ব হইল না, অচিরেই দেখিলেন, এক যুবক 
এক বৃক্ষশাখায় আবোহণ কবিযা1! এঁ শাখারই মূলভাগ কাটিতে 
প্রবৃত্ত হইয়াছে ; সে এমনই মূর্খ যে, ছেদনকার্ধ্য সমাপ্ত হইলেই 
যে শাখাসহ স্বযং ভূমিসাৎ হইবে, ইহাও তাহাব মনে উদ্দিত'হয 
নাই। ইহা অপেক্ষা অধিকতব মৃ্ মিলিবে না ভাবিযা পণ্ডিতের 
দল উহাকে বৃক্ষ হইতে অবতবণ কবাইলেন। বল! বাহুল্য, 
ইন্রিই আমাদেব গল্পেব নাক-_সরম্বতীব ভাবী ববপুক্র। বৃক্ষা- 
বতীর্ণ কালিদাসকে পণ্ডিতেব দল বুঝাইলেন যে, তাহাকে এক 
রূপৰতী রাজকন্যা বিবাহ কবিতে হইবে এবং তজ্জন্য অন্য কিছুরই 
প্রযোজন নাই, কেবল তীহাদেব অনুগামী হইতে হইবেএবং 
বিবাহক্রিযা! পর্যন্ত সম্পুর্ণ মৌনাভাবাবলম্বন কবিযা' থাকিতে 
হইবে। বিবাহের নামে কাষ্ঠপুত্তলিকাও নাকি মুখব্যাদান করিযা 
থাকে । তাই মুর্খ কালি্ুস উহাতে অবশ্যই সম্মতি দিলেন। 

পণ্ডিতের! কালিদাসকে ভ্রাহাদের অধ্যাপক বলিয়া রাজকন্যার 
নিকট পবিচয় দিলেন এবং বলিলেন, ইনি জনপ্রতি “বাচং্যম"__- 
কাহারই পহিত আলাপমাত্রও করেন না, ইঙ্গিতে মাত্র স্বীয় 
অভিপ্রায় ব্যক্ত করিয়া থাকেন। একটি যুবক এতগুলি পণ্ডিতের 
অধ্যাপক; ইহাতে বিদ্যোত্তমা বিশ্মিতভাবে কালিদাসের প্রতি 


কালিদাসের কাহিনী । ৪৩ 


দৃষ্টিপাত কবিলে, মূর্খ কালিদাস কি জানি কি ভাবিয৷ তস্তদ্ধষের 
অঙ্গুলি বক্র করিয! দেখাইলেন। ইহাতে পণ্ডিতের দলে মহাঁ- 
কোলাহল পড়িযা গেল, তীহাবা ব্যাখ্যা করিলেন, আমাদের অধ্যা- 
পক ছুই হস্তের (বৃদ্ধাঙ্থুলি ব্যতীত ) অস্টাঙ্গুলি বক্র করিয়া 
বুঝাইলেন যে, অস্টীবক্র খি দ্বাদশ বর্ষ বযসে জনক বাজার সভা 
জয কবিযাছিলেন, স্ৃতরাং “তেজসাং হি ন বযঃ সমীক্ষ্যতে”। 
এইবপে কালিদাস যে কোনবূপ অঙ্গভঙ্গি কবিলেন, পণ্ডিতদিগের 
কেহ না কেহ তাহাব একটা মীমাংসা কবিয৷ দিতে লাগিলেন। 
অতঃপব অধ্যাপকের হইযা পঞ্চিতবা বিদ্যোত্তমাব সঙ্গে বিচাব 
আবন্ত কৰিলে, যে যে.স্থনে বাজকন্যা পণ্ডিতগণকে পরাজিত 
কবিযা আনেন, সেই সেই স্থলেই অমনি এক জন পণ্ডিত গিয়া 
কালিদাসের পশ্চান্ভাগে চিমটি ফাটিতেন, তাহাব যন্ত্রণা মৌনী 
কালিদাস হুঙ্কাব কবিষ! উঠিতেন । % রাজকনা, এই সকল 
দেখিযাঁ কালিদাসকে মহাপগ্ডিত স্থিব কবিলেন এবং শিষ্যগণকে 
“ছাডিয! অধ্যাপকেব সঙ্গে সাংকেতিক বিচাবে প্রবৃস্ত হইলেন। 
বিদ্যোত্তম৷ কালিদাসেব প্রতি এক অঙ্গুলি প্রদর্শন কবিলেন; 
মুর্খ কালিদাস কিছু বুঝিতে ন৷ পাঁবিষ| গ্রুথমতঃ এক অঙ্গুলি পবে 
একটু ইতস্ততঃ করিষা ছুই অঙ্গুলি দেখাইলেন। এবাৰ অতি-_ 
* গল্প আছে, কোনও বিদ)ালয়পরিদর্শক একটি ছাত্রকে জিগতান। করি৷ করিলেন, " “বলত ং র্‌. 
শব্দের উত্তর ওস, (ষষ্ঠী একবচনে ) করিলে কি হয়” অধ্যাপক দেখিলেন ছাত্র ঠকিয়া 
আসিয়াছে। তিনি ধারে ধীরে ছাত্রের পশ্চাতে গিয়া জেরে একটি চিমটি কাটিলেন, অমনি 


ছাত্র “উঃ” করিয়া উঠিল, প্রশ্থেরও উত্তর হইয়! গ্েল। এই অধ্যাপকও বুঝি ভ্াঁিদাদের 
শিথ্যাভূত পণ্ডিতগণের কাহারও শিষ্যপরম্পরাতৃক্ত ছিলেন৷ 











৪৪ প্রবন্ধাষ্টক। 





বুদ্ধিমতী রাজকন্যা আপনিই পরাজয় স্বীকার করিলেন এবং সেই 
মুখের গলায় বরমাল্য প্রদান করিযা পণ্ডিতের দলের মনস্কামন! 
পুর্ণ করিলেন। সভাশ্থ সকলে বাজকন্যাকে জিজ্ঞাসা করিল, 
“আপনি কি প্রশ্ন কবিলেন, কি উত্তরই ব! মিলিল, যে ইহাকে 
বরণ 'করিলেন ? বিদ্যোত্তম! উত্তর করিলেন, “আমি ইহাকে 
বেদান্তপ্রতিপাদ্য “একমেবাদ্বিতীয়ম্” ব্রহ্ম বিষয়ক পুর্ববপক্ষ 
করিযাছিলাম, ইনি ইঙ্গিতে প্রথমতঃ স্বীকাব কবিলেন-__ব্রহ্মপদার্থ 
এক, কিন্তু তথাপি প্রকৃতি পুকষ এই দুইষে বিভক্ত না হইলে 
্রক্ষ ক্রিযাশীল হযেন না, পশ্চাঁৎ ইহাই বুৰাইলেন। 

যথারীতি বিদ্যোত্তমা ও কালিদাসেব পবিণযকার্য্য সম্পন্ন 
হইয়! গেল। কোন স্মার্ত পাঠক অবশ্য জিজ্ঞাসা করিতে পাবেন, 
“রাজকন্যা অবশ্যই ক্ষত্রিষের দুহিতা ছিলেন, (কেননা! তখনও 
আজিকালিকার ন্যাষ গপাঁধিক চাতুর্বর্ণিক রাজা স্ষ্ট হয়েন নাইঃ 
ইহা নিশ্চয়।) তবে ব্রাহ্মণ কালিদ্লাসের সঙ্গে কিবূপে তাহার বিবাহ 
হুইল?* এতছুত্তরে মহাকবি ভারতচন্দ্ের “পণে জাতি কেব! চায় ?% 
মই কথার দোহাই ছিয়! কন্যাপক্ষকে সাম্ত্না করিতে পারা যায়; 
কিন্তু বরপক্ষকে সহজে বুঝান দায়। তবে, অপর বিষযে কথঞ্চিৎ 
মানবিক উদারতা (অর্থাৎ ব্রাহ্মণের পক্ষে ক্ষত্রিযাবিবাহ প্রথা) 
বর্তমান ছিল বলিয়াই ধরিয! লইযা কিংবদন্তীর পক্ষ অনুসরণ 
করিতে হইবে। 

বিবাহান্তে দল্পতী বাসরগৃহে নীত হইলেন। তথায় পাঁলস্কো- 
পরিমর্শারি ঝুলান ছিল। মূর্খ কামিদাসের মনে হইল, “কন্যা 


কালিদাসের কাহিনী । ৪৫ 


পালক্কোপরি বসিয়াছে, আমাকে বুঝি তছুপবি বিস্তৃত মশারির 
উপর বসিতে হইবে।” এই ভাবিষা মশাবিব উপর আরো- 
হণ করিবাব চেষ্টা করিবামান্র উহা! ছি*ডিয়া গেল, এবং 
কালিদাস রাজকন্যার উপবে পড়িযা গেলেন। এত বড দিগ্বিজয়ী 
পণ্ডিতের এইবপ বাবহাবে বুদ্ধিমতী বিদ্যোত্তমাব বিশ্মিত হইবাব 
কথা! বটে ; কিন্তু একটা ঘটনাব উপব সকল সময মতামত নির্ভর 
কবে না, কেননা! তাহা আকস্মিক ব্যাপাব হুইতে পারে । তথাপি 
রাজকন্যার অন্তরে সন্দেহ জন্মিল। তখন সহসা একটা উট্র 
ডাকিয়া উঠাতে বাজকন্যা স্বাগ্মীকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “কি 
ডাকিতেছে ”” এইবাব ববপাত্রেব প্রথম বাকাম্কুত্তি হইল”_ 
তিনি একবাব বলিলেন, “উট”, পরক্ষণে আবার বলিলেন, উট” 
এতক্ষণে বিদ্যোত্তমার চৈতন্য হইল; তিনি বিজিত পণ্ডিতগণের 
এই গৃঢ় পরিহাসবপ যড়্যন্ত্র বুঝিতে পারিলেন, জহাব দাকণ 
মনস্তাপ উপস্থিত ইল । তখন, তাদশ অবস্থাগত বাক্তির ন্যায়, 
দোষ দিবার অপর পাত্র না পাইযা, দগ্ধকপাল বিধাতাকেই উপলক্ষ 
করিয়া বলিলেন,__ | 

“কিং ন করোতি বিধি্বদি ব্রুষটঃ 

কিং ন করোতি স এব হি তুষ্টঃ। 

উষ্টে লুষ্পতি রংবা৷ বংবা 

*তশ্রৈ দত্তা বিপুলনিতন্বা! 0, 

বিদ্যোত্বমে ! আক্ষেপ করিলে কি হইবে? সংসারেন্ু গতিই 

ঈদৃশী,_-তোমার সম ছুঃখভাঁগিনী জগতে তোমার অনেক ভগিনীই 


৪৬ প্রবন্ধাষ্টক। 


ছিলেন, আছেন ও হইবেন। কিন্ত্ব এ ছি ছি!-_কি করিলে? 
মূর্খ বলিষাই কি স্বামীকে (ক্রাঙ্ষণকে ) পদাঘাত করিতে হয ? 
এই কি তোমার বিদ্যাশিক্ষাব পবিণাম ? এ দেখ গণ্ড-মুর্খ 
হুইলেও তোমার এই জডবুদ্ধি স্বামী লঙ্জাষ, দ্বণাষ, অপমানে, 
ভ্রিষমাণ হইযা! এই গভীর রজনীব অন্ধকাবে কোথায লুকাইতে 
চলিযাছে। ভূমি আজ অভিমানে অহঙ্কাবে উহা দেখিলে না; 
কিন্তু একদিন তোমাকে এই নিমিত্ত লজ্জিত ও অনুতপ্ত হইতে 
হইবে--ইহা কি তুমি বুদ্ধিমতী হইযাও বুঝিলে না ? 
পাঠক ! মূর্খে কীদৃশী মর্য্যা।, বুঝিলেনত ? কাহারও গৃহে 
যেন মুখখহেব প্রশ্রব দেখিতে না হয। আজ এই পধ্যন্ত। 
সাহিত্যসেবক, জ্যৈষ্ঠ ১৩০৩। 


কালিদাসের কাহিনী । 


পপ্রিউপপিক 


(২) বিদ্যালাভ। 

কিন্তু গল্প লিখিতে বসিয! কৈফিযশ দিতে হইবে, পূর্বেব ইহা 
জানিলে, এ কাজে হাত দিতীম না। পূর্বেই বলিয়াছি এ সকল 
গল্লেব মুল জন-শ্র্গতি , বাজারে আজকাল আসল “শ্ুতি”বই 
ততট৷ বিশ্বসনীযতা নাই, এত “জন-শ্রুতি। তুমি বলিলে, 
“তোমাৰ এই কাহিনীব মুখপাষ্উই ঘোবতর অবিশ্বাশ্য ; কেন না, 
এত বড পণ্ডিত কালিদাস+__তিনি যুবা বযসেও নিবেট মূর্খ ছিলেন, 
এটা নিতান্ত অশ্রদ্ধেষ কথা , দ্বিতীবতঃ, বিদ্যোস্তমা হেন প্রতিতা- 
শালিনী রাজকন্যাও কিন! বাসর ঘরে না যাওয়া পর্্যস্ত একট 
গুগুমূর্ধের বিদ্যা বুদ্ধিব পরিচয পাউুতে পাবিলেন নাণ। ইতিমধ্যে 
একটা! বিবাহক্রিহাও ত নিষ্পন্ন হইয়। গেল? মনুক্ত দশবিধ 
বিবাহ, কিংবা স্থৃধীবব কালীপ্রসন্ন ,ঘোষের “প্রমোদলহরীপ্তে 
উল্লেখিত অশেষবিধ বিবাহ, ইস্তক ৭২ সালের কৈশবী-সংহিতা- 
'বিহিত বিবাহ, এডশু সমুদয়ের পদ্ধতিরাশি খু'জিয়া দেখিলাম, 
কৈ কোন পদ্ধতিতেই ত একেবারে একটা বিকট মুর্খ প্রজ্ঞাবান্‌ 
পণ্ডিত বলিয! পার পাইতে পারে, এন্ধপ কোনও ফাক দেখা 
গেল না; জানি না, বিদ্যোত্রমার সঙ্গে কালিদাসের কিরূপে নিরা- 
পদে বিবাহব্যাপার সম্পাদিত হইয়া গেল 1” আমি তোমার এই 
পুর্বব পক্ষের যুক্তি ত পূর্ব্বেই এক প্রকার মানিয়! লইয়াছি। কিন্তু 





৪৮ প্রবন্ধাষ্টক। 


তখাপি তুমি যে ছুইটি কারণ প্রদর্শন করিতেছ, তাহার বিরুদ্ধে 
জামার কিঞিং বক্তব্য আছে। (১) জীবনের মধ্যবয়স পধ্যন্ত 
অন্ঞ্ থাকিয়াও জগতে অনেকে পরিণামে প্রগাঢ বিদ্যাবান্‌ হইয়! 
গিয়াছেন। ভারতবর্ষ হইতে কোনও দৃষ্টান্ত তুমি প্রামাণ্য ৰলিষা 
ন| মানিতে পার, কিন্তু সচরাচর কালিদাসকে যাহার সঙ্গে উপমিত 
কর! হয়, সেই পাশ্চাত্য কাব্যকুঞ্জের কোকিল শেক্সপীরকেই 
ধর না কেন? ধিনি যৌবনের প্রারস্তে উদ্দাম অশ্বের ন্যায় ছুটিযা 
বেড়ীইতেন, সেই ব্যক্তি জীবনেব গভীর সমশ্যারাজি নাটকমুখে 
ব্যক্ত করিবেন, কে অনুমান করিযাঁছিল? ভারতে ইংরাজ রাজ্যের 
প্রবর্তক ্থুচতুর লর্ড ক্লাইবের কীণ্ডি কাহিনী শুনিযা তদীয বৃদ্ধ 
জনক নাকি বলিযাছিলেন "21697. 21], 73০০৮ 1088 
880891”-_-(যা” হউক, বুবিরও দেখিতেছি বুদ্ধি আছে!)। আরও 
দৃষ্টান্ত চাও ত ৬ বিদ্যাসাগরেক্স “চরিতাবলী” খুঁজিযা৷ দেখ 
(২) ধাহার! বিচাবসভাষ একট। দিগগজ মুর্খকে মহামহো- 
পাঁধ্যায় %%* করিয়৷ ভুলিতে পারিযাছিলেন, সেই পণ্ডিতের দল 
'বিবাহসভাতেও অবশ্যুই হাজির ছিলেন; তখন দশচক্রে যেমন 
ভগবান ভূত হইয়াছিলেন, দেইবপ ভূতকল্প কালিদাসকে উ*হারা 
দ্রশজনে মিলিয়া ভগবান্ঠ করিষ! তুলিবেন, তাহাতে আর বিচিত্র 
কি? বিশেষতঃ কালিদাস মুর্খ ছিলেন বটে, কিন্তু তাহার 


* বঙ্গিঅের কৃপায় রানি, 'দিগগজ' অর্থে গও মুর্খ। কিন্তু তদ্বিপরীত “হাঁ 
খহোপাধ্যান'” শব্ষের যেকি অর্থ, উপাধির তালিক! দেখিলে, তদ্ধিবরে কিছু গোলযোগ 


খুটে বটে। 


কাঁজিদাসের কাহিনী ? ৪৯ 


বাপের অভাব ছিল না; বরং তিনি যে স্ুশ্রীক যুবা পুকষ ছিলেন, 
সে বিষষে সবিশেষ প্রমাণ আছে--তাহা পশ্চা বলিব। 
একে ত ণকন্া কামষতে কপং:” তাষ বিদ্যোত্বমা বিদুষা হইলেও 
যুবতা --এ অবস্থায মস্তিষ্ক ঘুরিযা বায়, সৃক্ষমদর্শন চলিষ! বায়, 
“বলবদিন্দ্িয়গ্রামে। বিদ্বাংসমপি কর্ষতি' !- পাশ্চাত্য জগতেও 
অনুবাগকে “অন্ধ” বলিব৷ কীর্তন কর! হইযাছে। স্বৃতরাং রাজকন্যা 
প্রাতভাশালিনী হইলেও এ ক্ষেত্রে প্রতারিত হইবেন, ইহা বড় 
বিস্মষকর নহে। যাহাই হউক, প্রাচ্য রাত্যনুসারে “ক্তিয়শ্চবিত্রং 
পুকধস্য ভাগ্য দেবা ন জান্তন্তি কুতো মনুষ্যাঃ” এই বচনের 
দোহাই দয! মদদীষ বন্তব্েব মধুরেণ সমাপন কবিলাম। এই উত্তর 
তেমাব হৃদবগ্রাহী না হয ত আমি আৰ কি বলিব? এস্থুলে 
স্পষ্টই বল! ভাল,_-আমি আব এইবপ কৈফিযতের অধীন হইতে 
চাই না-_দিবাব চেষ্টাও কবিব ন।--তোমার জন্য আমি গল্পের 
'বিস্ভঙ্গ করিতে পাবিব না । 
আজ অনেক দিন হইল কালিদাস নিবেবিদগ্রস্ত হইয! অরণ্যে 
পবিভ্রমণ কবিতেছেন। সংস্কৃত" সাহিত্যে কবিসমযপ্রসিদ্ধ 
ককগুলি কথা আছে, তন্মধ্যে “পাদাধাতাদশোর্চ! বিকসতি 
ক *%  যোবিতাং”,__অর্থাঙ স্ুন্দবীগণেব পদপল্পবাঘাতে 
অশোকতকর মুকুলোদগম হইয! থাকে। কবি কালিদাস বহুবার এই 
প্রসিদ্ধির স্থাশ্রয গ্রহণ করিযাছেন। ইহাতে তীহারই জীবনের 
অবস্থা বিশেষের আভাস পাওয়া যায ,_তিনি নিজেই অশোক 
তক জাতীয় কিছু ছিলেন বলিষ! অনুমান হুয; কেননা, স্বীয় বনিতার 








৫০ প্রবন্ধাষ্টক ৷ 


পাঁদ্দাভিহত হইবার পরই যেন তদীয জ্ঞানমুকুল উদগত হইল। 
তিনি অবণো অরণ্যে পবিভ্রমণ পুর্ববক বিদ্যাদ্েবীর উদ্দেশ করিতে 
লাগিলেন। হাব এই একাস্তিক ব্যাকুলতা দর্শনে কোন সিদ্ধ 
মহাপূরুষ তাহাকে সবস্বতীমন্ত্রে দীক্ষিত করিলেন। একাগ্রচিত্তে 
বহুদিন সরস্বতী সাধনার পৰ তাহার প্রতি অভীষ্ট দেবতার 
দয়া হইল-_-এমনই হুইল, যে আজিও বাগ্দেবীর আবাধনা 
সময়ে ভক্ত বলেন__দেবি, অধমেব প্রতি এপ কৃপা প্রদর্শন 
কর, “যা! কালিদাসে ককণা তবৈব |” 

, কালিদাস যে স্থলে সাধনা করিতেছিলেন তাহা সন্নিকটে 
একটি কুণড ছিল, তাহাব নাম “সরস্বতী কুণ্ড” | সাধনাব সম্যক্‌ 
ফলপ্রদান মানসে দেবী আদেশ কবিলেন, “ব্শস, সরস্বতী কুণ্চে 
অবগাহন কর, তোমার অভীষ্ট ফললাভ হইবেক। কালিদ।স বৃণ্ডে 
একবার ডুব্‌ দিয়! উঠিলে ,দেবী জিজ্ঞাসা করিলেন, “কি 
দেখিলে?” কালিদাস প্রারত' ভাষায বলিলেন “পাক” | 
দ্বিতীয়বার ডুব দিতে আদিষ্ট হইযা, তকবণান্তব তত্প্রতি প্রশ্ন 
হইল «এবাৰ কি দেখিলে ?” কালিদাস তখন সংস্কৃতে বলিলেন 
“পন্ক৮। তৃতীঘবার এ প্রকাবে ডুব দিয়া ছুই হস্তে ছুইটি ফূল 
লইয়৷ ভাসিলেন, এবং পুনশ্চ এপ্রশ্ন জিজ্ঞাসিত হইলে, বলিলেন 
“গহ্কজ” | তখন কালিদাসেব সিদ্ধিলাভ হইয়াছে__তিনি তখন 
সরম্বতীকে সন্ঘোধন করিয়া কবিতা বচনা করিলেন £ 

পল্পমিদং মম দক্ষিণহস্তে 
বামকরে লসহৎপলমেকং ৷ 


কাপিদ্াসেব কাহিনী । ৫১ 
ব্রুহি কিমিচ্ছসি পঙ্কজনেত্রে 
কর্কশনালমকর্কশনালম ॥ 

হে কমললোচনে ' আমার দক্ষিণ হস্তে এই একটি পদ্ম, আর 
বাম করে একটি স্থুন্দৰ উৎপল রহিযাছে; বল, কোন্টি তোমাকে 
দিব, _কর্কশনাল পল্প ন| মস্থণনাল উৎপল? 

আরাধ্যাদেবত৷ ভারতী বরপুঞ্জের মুখে এইবপ সামান্য নাধি- 
কাব হ্যা সম্বোধন শুনিয! কিঞ্চিত ক্ষুব্ধ হইলেন, এবং বলিলেন, 
বস! দেবতাব পাদ-মূলে দৃষ্টি না কবিযা একেবাবে মুখাবযব 
নিবীক্ষণ কৰ৷ স্থকচিবিকদ্ধ * হদিও তুমি অছিতীয পণ্ডিত হইবে, 
তখাপি তোমার বুদ্ধিদোষে ভুমি ইন্দ্রিষপবাষণ ভইয! গণিকা গৃহে 
প্রাণ হারাইবে।” কালিদাসেব অন্তিমকাহিন' ভ'পাততঃ আলে্চ্য 
নহে, নতুবা দেবীর অভিশাপেব সফলতা প্রদ্ন কৰা যাইত। 
কিন্তু, কালিদাস তদবধি সাবধান হইযাছিলেন, সন্দে্ত নাই, তাই 
কুমারসম্ভবে উমষ্কর বপব্র্ণনা কালে পাদপপ্পা ভইতে বণনা! আবস্ত 
করিয়াছেন। হায! কবিব এই ভ্ঞানটুকু ফি সবন্সভাকুণ্ডে 
অবগাহন মাত্রেই জন্মিত তাহ। হইলে শ্রাহাব সম্বন্ধে নানাবপ 
কলঙ্ককাহিনীও শুনিতে পাইতাম না; ভাহাব অকালে শোচনীয 
মৃত্যুও ঘটিত না ।-_যাউক্‌, সে সকল কথা পশ্চাও বলিব । 

দেবী-ববে জ্ঞানলাভ হইলে কালিদাস গৃহাভিমুখে প্রত্যাবৃত্ত 
হইলেন । কালিদাস 'জ্ঞানী' হইলেও তন্রজ্ভান লাভ কবিযাছিলেন 
বলিযা বোধ হয না, তাহার ইন্দ্রিষপবাষণতাই উহাব, প্রমাণ । 
তাই অবমাননাকারিণী স্বীয বনিতার গ্রহ।ভিমুখেই তিনি ধাবিত 





৫২ প্রবন্ধাষ্টক। 


হইলেন, কারণ বিছুবী কলাবসজ্ঞ রাজকন্যার সহবা সহবাসে অর্থকাম- 
লালসার সম্যক্‌ পবিত্ৃপ্তি সাধনেব আশাই তাহাব হৃদযে জাগব্ধক 
ছিল। রাঁজবাটাতে পৌছিযা! কালিদাস বরাবব বিদোৌন্তমার 
কক্ষের কবাটে গিষ। আঘাত করিলেন । কে, কি জন্গা আগমন, 
এইবপ কিছু প্রশ্ন হইলে, কালিদাস বলিলেন। "*হরস্তি ক্চিদ্‌ 
বাঞ্ধিশ্ষ)।” * বিদ্ুধাবিদ্যোন্তমা এই সংস্কতোন্তর শুনিবা দ্বাৰ 
উদ্যান পুর্ববক, পবিণ্তোর আকম্মিক পুনরাগমন এবং তববস্থাস্তর 
প্রাপ্তি দেখিযা, অবশ্যই যুগপৎ সন্ত্রস্ত, হাব্ট ও লজ্জিত হইলেন , 
এবং বোধ কবি, উভযেব মধ্যে প্রণযসন্ধি স্তাপন করিতেও 
বেশীক্ষণ লাগিল না । গ্রিষতমেব প্রথম সম্ভাষণ প্রণধিনীৰ হৃদষে 
অবশ্যই অপুবব স্রতিছলৰ হইযা বদ্ধমূল হইযা যায, তাই 
বিদ্যোত্তমা “অস্তি কশ্চিদ বাগিশ্মেষশা এই কগা৷ কষটি যাহাতে 
জগতে চিরদিন সংস্কৃত সাহিত্যের সঙ্গে অটুট বন্ধনে দৃঢ় বদ্ধ থাকে, 
তাহারই বিধান কবিলেন। ভীর্ধ্যা বিদ্যোন্তমূর অনুর্রোধেই' 
কবি “অন্তি” 4 শব্দে “কুমাব-সম্ভবেবঠ,ত “কিম্চিৎগ 2 শবে 
“মেঘদূতেব”', এবং “বাধ্ধিশেষ2” পদেব প্রবোজনীবাংশ “বাক” $ 


* উত্তরটা কিছু দ্খাপ্‌ ছাড”০বোধ হইতে পাবে , এই কি ভারতীর বব- পুরে 
প্রাথমিক প্রিয়া-স্ভাষণ । কিন্তু কিংব্দস্তী-মুলক গল্পেব অনুসরণ কবিতে হইলে উহ! কে 
এতদপেক্ষা বেখাপ -তব কথাও বলিতে হইবে । 

1 অন্ত্যত্বরস্যাং দ্িশি দেবতা স্বা, ইত্যাদি ! 

£. কশ্চিৎ কাস্থাধিরহগুরণ। স্বাধিকারপ্রম্ঃ, ইত্যাদি 

8 বাগর্থাবিবসংপৃক্কৌ বাগর্থ প্রতিপত্রয়ে, ইত্যাদি 








কালিদাসের কাহিনী । ৫5 


শব্দে “বঘুবংশেব"' ভিত্তিসংগঠন পু্রবক তিন খানি অমূল্য কাব্য 
্রন্থন দ্বারা জগতে অবিনশ্বর কীন্তি স্থাপন কবিযাছেন | 
কালিদাস এতন্িন্ন প্রিফতমীকেই সম্বোধন করিষা ছুইখানি 
গ্রন্থ বচনা করিয়াছিলেন, একখানি “খতুসংহাৰ” নামক ষড 
খতু বর্ণনামূলক খণুকাবা, অপরথানি সাধাবণতঃ প্রচলিত কতক- 
গুলি ছন্দেব লক্ষণাক্সক “শ্রতবোধ” নামক পুস্তিকা । ইহাতে 
কালিদাসেব প্রণধিনী যে একজন কাব্যবসঙ্ঞ্ ও লাৰণাবতী বমণী 
ছিলেন, তাহার যথেষ্ট প্রমাণ পাওষা! যায । “বিক্রমোর্ববশীতে” 
কাননমধ্যে উর্ন্বশীকে হাবাইয গুরুববার, ““রঘুবংশে” ইন্দুমতীর 
বিযোগে অজেব এবং £মেঘদুতে”” প্রণযিনীৰ নিমিত্ত যক্ষের যে 
হৃদবভেদী আর্ভনাদ বর্ণিত আছে, কে জানে এ সকল কৃচি€- 
প্রোধিত, অথবা! মৃত-ভার্ধ্য কবিব আল্মানুভূতিব ফল কি না ? 
[ সাহিত্য-সেবক শ্রীরণ ১:০৩। ] 


কালিদাসের কাহিনী । 


টক্কর 
€ ৩) কর্ণাট-বিজব যাত্রা । 


প্রাচীন ইতিহাসে যেমন ভূপতিবুন্দের দিষ্ষিজযেব বিববণ 
দেখিতে পাওযা' যাঁষ, তজ্রপ পণ্ডিত বর্গেরও নানা দিগ্দেশীয রাজ- 
সভা-বিজযের কাহিনী গুনিতে পাওয়া ষায। হিন্দু-স্বাধীনতার 
সঙ্কে সঙ্গে শক্্রেব দিগ্রিজয বন দিন হইল বিলুপ্ত হইযাছে বটে, 
কিস্ত শাস্দ্রেব দিগ্চিক্তয অগ্াপি কচিৎ কদাচিৎ কিঞিত দেখিতে 
পাওয়া যায়। পুর্ব খ্যাতনামা নরপতিগণ অনেকেই বিদ্ভোতসাহী 
ছিলেন। তীহাদেব সভাব নানাশান্্ীবিশাবদ বন্ত মহামহোপাধায 
সমাগত হইযা 'অশেববিধ শীঙ্তালাঁপ দ্বাবা রাজগণেব জ্রীতি উত্পাদন 
করিতেন। বিশেষতঃ, তখন ভুপতিগণ মন্বাদি শাস্ত্রনির্দিষ্ট বিধান 
অনুসারে রাজ্যেব যাবঙ্জীয কার্যানির্ববাত কবাব, তাহারা সন্দিগ্ধ- 
স্থলের মীমাংসাব নিমিত্ত নানাশান্তজ্ঞ পপ্তিতবর্গেব ব্যবস্থা গ্রহণ 
করিতেন। পরম্, এতাবগু পণ্ডিতসভা পবিপোষণের প্রধানতম 
উদ্দেশ্য হইলেও, প্রত্যুত্পন্নমতি কৰি এব" কাব্যালঙ্কাবনিপুণ 
পণ্ডিতগণদ্বারাই বাজসভার প্রকৃত শোভা সম্পাদিত হইত এবং 
তাহাদিগের রসময়ী ভারতী রাজগণেব কগোব রাজকাধ্যের মধ্যে 
সাতিশয় চিত্তবিনোদ সাধন কবিত। এতস্তি্ল আপন সভাসদ 


কালিদাদের কাহিনী। ৫৫ 


কবি বা পণ্ডিত অপর র রাজার শাশ্রিত সভাসদ গণকে ্ব-প্রতিভায় 
পরাজয় করেন, ও তদ্দাবা তদীয় পগ্ডিতবর্গ অপর রাজ্যাধিষ্ঠিত 
বিছন্ম গুলী অপেক্ষা সমধিক যশন্বী হযেন, সহজ-বিজিগীষু তাঁত- 
কালিক নৃপতিবর্গেব ইহাও এক প্রবল আঁকাঙঙ্া ছিল এবং 
এতদর্থে ভীহারা স্বীয সভাস্থ বিদ্বজ্জনমাত্রকেই সাতিশয় প্রোৎ- 
সাহিত কবিতেন। ফলত, তখন প্রতিভাশালী পণ্তিতমাত্রই, 
কোন না কোন নৃপতিব সভাষ বিশেষ আদব ও সম্মানেব সহিত 
মবস্থান কবিতেন এবং স্বাঘ প্রতিভাছ্ব৷ অপব রাজার পণ্ডিত- 
সভাকে পরাস্ত করিবা দিজেব ও আশ্রযদাতা নৃপতিৰ যশোবর্ধনে 
সতত যত্শীল থাকিতেন। 
এইবপে কবি কালিদ।সও রাজ! বিক্রমাদিত্যের সভায় 
আশ্রলীভ কবেন। এই স্ুপতিব সভায় আবও আটজন পণ্ডিত 
বর্তমান ছিলেন, সম্প্রতি কালিদাসকে লইয়! নযজনে “নব-রতু” 
*হইডলন। বলা বালা, ভারভীর বরপুক্র অটিরেই শ্রেষ্ঠতম 
“বত” হুইয়। উাঁঠিলেন এবং দিখিজযার্থ নানাস্থলে প্রেরিত হইতে 
লাগিলেন । 
তথুকালে কর্ণাট-রাজের সভাও অশেষ বিদ্ন্মগুলী দ্বারা পরি- 
শোভিত হইযা চতুর্দিকে যশঃসৌর'ভ বিস্তার 8 । 


ফু 4 
বেতাঁলভটবটখর্পরকালিদাসাং। 
খ্যাতে! বরাহষিহিরে! নৃপতেঃ সভায়াং 
রত্বানি বৈষররুচি নব বিক্রমস্য ॥ 





৫৬ প্রবন্ধাক। 


বিঞ্জিগীধু কালিদাস, একদা, বরকচি নামক শম্যতম “রতু”কে 
ভৃত্য সাজাইয়া, কর্ণাট-বাঁজভবনে উপস্থিত হইলেন। রাজ 
তদদীয় আগমনবার্তা শ্রবণে বহির্বাটিকাষ আবাসস্থান নির্দেশ 
করিয়৷ রজনীযোগে এক বিছধী বমণীকে কবিব পবীক্ষার নিমিত্ত 
প্রেরণ করিলেন। গভীব নিশীথে একাকিনী রমণীকে অন্তঃপুৰ 
(হইতে নির্ভষে আদিতে দেখিয। কালিদাস চমণ্ডক্ত হইলেন, এবং 
উহাকে সম্বোধন কবিয়া কহিলেন__ 

“উিন্নাদান্থুদ বদ্ধিতান্ধতমসা প্রত্রষ্ট দিস্ম গুলে 

কালে জাগ্রহুদ গ্র যামিক ভট্ট প্রাবন্ধ কোলাহলে। 

কর্ণন্তা স্থহৃদন্ুরাশি বডবা বহেরদন্তঃপুবা- 

দায়াতাসি তদশ্থুজাক্ষি কুতকং মন্তে ভযং যৌধিতাম্‌.।% 

গুকনিনাদকারী মেঘসমহ দ্বারা" বজনীর অন্ধকাব গাঢতব 
হওয়াতে দি নির্ণষ ভওব| দ্ূবহ , সময বুঝিবা নিশা-প্রহবীব। 
জাগিয়া কোলাহল আবন্ত কবিয়া দ্যাছে ; ঈদুশাবস্থায শু" 
নিসৃদন কর্ণাটরাজের অন্তঃপুব হইতে, হে স্বলোচনে, তুমি আঙিতে 
পারিয়াছ, ইহাতে অনুমান হয,*স্ত্রীজাতি ভীক--একথ|! অমুলক | 
কবিতাটি বিছুষার বড মনঃপৃত হইল না । "' তিনি বলিলেন, 

“আমি কর্ণাট-রাজের প্রেরসী+_-একজন প্রসিদ্ধ কৰি আসিযাছেন 
শুনিয়া, তিনি কীদৃশ--জানিবাব নিমিত এখানে আসিয়াছি। 
কিন্তু, দুঃখের বিষয়, এখানে কবির অসম্ভাৰ দেখিতেছি-- 


শু কর্ণাট-রাজেছ্চ ও এইটি ভাল লাগে নাই । সে কথার আলোচন। পরে কর! যাইবে। 








কালিদাসের কাহিনী 1 ৫৭ 


“একোহতুন্নলিনাদেকশ্চপুলিনাছন্মীকতশ্টাপরঃ 
সর্বেব তে কবযস্ত্রিলোকগুরবস্তেভ্যোনমন্কুম্মহে ৷ 
অর্বঞ্চে যদি গগ্ভপগ্ভলিখনৈশ্চেতশ্চমতবুর্ববতে 
তেষাং মুদ্ধি, দামি বামচরণং কর্ণাটবাঁজশ্রিয়া 1৮ 
একজন বিষু্ব*নীভিকমল, একজন নদীসৈকত, অপর বল্মীক 
হুইতে উৎপন্ন হইযাছিলেন, অর্থাৎ, ব্রহ্মা, ব্যাস এবং বাল্মীকি+__ 
তাহারা সকলেই কবি, ভাহাদিগকে বন্দনা কবি। আধুনিক 
অপর কেহ ষদি গগ্ঠপদ্ বচনা দ্বাবা চিন্ত চম্রুত কবিতে পাবেন, 
তাহা হইলে মামি, কর্ণাট-রাজচ্প্রযসী, ভাহ।দেব বামচবণ মস্তকে 
ধারণ কবি ।”* কবি বমণীব এবম্প্রকাব উক্তি শুনিষা নীরব 
রহিলেন। ইহাতে কর্ণাট-রাজ-রঙ্গিনী কালিদাসকে নির্বোধ 
স্থির কবিযা তথা হইতে চলিষা আসিলেন এবং বাজার নিকট 
সমস্ত বৃন্তান্ত বলিলেন । বাজ! কবিকে তপবে তদীয সভাসদ 
কবি ন্বন্বনেব বাড়ীতে পাঠাইযা* দিলেন । পুরের্ব, বোধ হয, 
নিষম ছিল যে কোন নূতন কবি বাজসভায় উপস্থিত হইলে রাজ। 
অশ্রে তাহাকে গোপনে পবীক্ষা! ক্ষবিতেন এবং যদি তদ্দারা 
আগন্তকের গুণগ্রামের বিশেষ,পরিচঘ লাভ করিতে না পারিতেন, 
বাহ! হইলে আপন সভাস্থ পণ্ডিত দ্বার! পৰীক্ষা কবাইয়। পরে 
তাহাব বক্তৃত৷ শুনিতেন। . এই জন্যই বোধ হয কালিদাসকে 
ন-ধামে পাঠান হইল । 


* (এখানে একটু ি্া আছে , শেষ পদের অর্থ “তাচাদেব সন্তকে আমি বামপদ 
দেই” এরূপও হইতে পারে। 


৫৮ প্রবস্ধাষ্টক । 


বন্বন 1 লোকটা সরল প্রকৃতির ছিলেন না। এইজন্য, 
পরাক্ষার্থ খন বন্থন কালিদাসকে প্রভাতবর্ণন সূচক একটি 
কবিতা বচনা করিতে বলিলেন, তখন কালিদাস মনে মনে বিচার 
করিতে লাগিলেন, “যদি কবিতা উত্তম হয, তবে রাজসাক্ষাৎকার 
দুর্লভ হুইযা*উঠিতে পারে, অতএব ইহার সমক্ষে মর্গত্ের ভা 
করাই শ্রেষঃ1%৮ এই বিবেচনা কবিষা! কিষশুক্ষণ মৌনাবলম্বন 
পুর্নক কালিদাস উদ্ভব করিলেন £__ 

“প্রাতকখায ভূপাল মুখং প্রক্ষালয স্মটঃ। 
নগরে ভাষতে কৃরুশ্চবৈত্রহিচবৈতুহি 0৮ এ 

“হে রাজন্‌্। নগবে কুকুট-ধ্বনি হইতেছে,_-প্রাভাত 
তষঈযাছে,_-উঠিযা মুখ প্রক্ষালন ককন 1” 

এই অদ্ভুত কবিতা গ্ণনিযা বন্পনকবি ঈষন্ধান্য পুরর্ণক 
কহিলেন, “বাঃ, দিবা কবিত! ! অন্রগ্রহ করিষা বদি লিখিয়! 
দেন, আমার বালকদিগকে শিখাইতে পারি ।” ৃ 

কালিদাস বস্বনের অভিপ্রাঘ বুঝিতে পারিলেন, কিন্তু তথাপি 
উতাহাব আদেশ মহ 'এ কবিতাই লিখিযা দিলেন। ইহাতে 
বল্পনের মনে বড হর্ষোদয হইল । তিনি আশঙ্ক। কবিবাছিলেন, 
একটা! দিগ্গ্ত কবি আসিয়াছে ; বাজ।, হয ত, তাহার কবিতা- 
মাধুধ্যে মুগ্ধ হইযা বল্পনকে স্ত্বান্চুত করিবেন , অধুনা কালি- 
দাসোক্ত শ্লোক শ্রবণ করিযা তাহার দে আশঙ্কা দূরীভূত হইল । 








+ পুরববার্ধে ' এবং পরার্দে/কুকু' নিলিয়া“বুদ্কুট” | একটি অন্ুষ্টতে স্ম, চ» বৈ, 
তু হি এই পীচটি নিরর্থক পাদপুরক অব্যয়, তাহার মধ্যে চারিটর স্বিরাবৃতিও ঘটিয়াছে । 


কালিদাসের কাভিনা। ৫৯ 








মণ| সমযে তিনি কালিদাসকে সঙ্গে লইযা রাজসভায় 
চলিলেন'__হস্তে কালিদাসেব বচিত “প্রতাত-বর্ণনা !” পথে 
একটা বুষ দেখিযা তিনি পুনশ্চ কালিদ্লাসকে একটী কবিতা রচনা 
করিতে অনুবোধ করিলেন । কালিদাস কহিলেন-_ 
“গোবপত্যং বলীবর্দদো ঘাসমন্ডি মুখেন সঃ। 
লাঙ্গুলং বিদাতে হসা শৃধ্গপিতু বর্ঘতে ॥ 
গকবৰ বেটা বলদ, সে মুখে ঘাস খায়, তাব লেজ আছে, শিংও 
আছে । 
এবাব কালিদাসেব মুর্খত্বু বিষয়ে বন্বন নিঃসন্দেহ হইলেন 
এবং প্রফুল্র চিত্তে কালিদাসকে লইয! বাজসভাষ আগমন 
করিলেন। সভাসদ বল্গনকবিকে সমাগত দেখিযা রাজ! প্রণুম 
করিলেন। বন্বন আশার্ননাদ *করিলেন-_- 
“রাজন্নভাদযোহস্৮-- 
হে বাজন্‌! জধ হউক। 
রাজা জিচ্ভাস। করিলেন,-_“বল্বনকবে হস্তে কিমান্তে তব ?” 
বন্ধনকবে ! আপনার হস্তে কি? 


বন্মন। “শ্রোকঃ1 
একটি কবিতা । 
ব্াজ। | “কসা %” 
কাহার রচিত ? 
স্বন। “কিবেরমুষ্য কৃতিনঃ |” 


এই আগন্থক নিপুণ কবির রচিত। 


৬৬ প্রবন্ধাষ্টক ৷ 


- শালি ৮ শশা শ্পা্াশীীশীী শীীাাশাীটীী 








রাজা । দভরুপঠ্যতাং* 
উহা! পাঠ ককন | 
এই সমযে কালিদাস আর নিশ্চিন্ত বহিলেন না, বন্ন টাহার 
“প্রভাত বর্ণন” পাঠ করিতে উদ্দোগ করিতেছেন দেখিযা, তিনি 
তাহাতে বাধা দিলেন এবং ত্ক্ষণাৎ অগ্রসব হইয়া রাজার 
নিদেশেব উত্তরে বলিলেন__ 
পঠাতে । * 
কিন্ত্বাসামববিন্দ স্থুন্দবদুশী” দ্রাক্‌ ঢামবান্দালানৈ 

কছেল্লছ্ুজবলী-কম্কণ ঝনৎকাবঃ ক্ষণং বার্ধাত!” 0৮ 

“পড়া যাইবে / কিন্তু এই সবল কুবল্যনে-না স্ন্দবাগণ 
ঘনন্ঘন চামবান্দোলন কবাতে, তাহাদদব হস্ত-সথ্চালন-জনিত 
কঙ্কণ-ঝনশকাবে কিছুই শুনা যাইবে না__ক্ষণকাল উ্ভা নাবণ 
ককন 1৮ 

আদা আমাদিগেব লেখনাও এই স্কানেই বিশ্রান ককন । 

সাহিত্য সেবক লাশ্রিন ১৩০৩ 


₹ সমগ্র গ্রোকার্দ এই --““রাজন্রভ্যুদয়োহস্ত বল্পনকবে হুন্্ত কিমাস্তে তব 
শ্লোকঃ কনা কবেরমুষ্কৃতিনস্তৎ পঠাতাং পঠ্যাতি 1” 





কালিদাসের কাহিনী । 





সিব্রি বশ পা 


(৪) কর্ণাট বাজ প্রশস্তি। 


কালিদাস বলিতে লাগিলেন-_ 
শ্ীমন্নাথ তবাননে ভগবতা বাণী নবীনৃতাতে 
তদ্যুষ্ট1 কমলা সমাগুতবতী লোলাপি বন্ধা গুণৈঃ। 
কীত্তিশ্চন্দ-করীন্দু কুন্দ কুমুদ ক্দীবোদনীবোপম। 
ত্রাসাদন্তৃনিধিং বিলজ্বা ভবতে। নাগ্যাঁপি বিশ্রাম্যতি 1, 
হে বাজন্‌, সপত্রী সবন্বতী তোমাৰ বদনবিববে সতত নৃত্য 
করিতেছেন, তাহা দেখিযাও কমলা চঞ্চলা হইলেও তুদীয গুণবাশি 
পাব -আবদ্ধা হইযা তোমাতেই বিরজমানা রহিযাছেন। চক্র, 
এবাবত, বুন্দ, কুমুদ্দ এবং ক্ষীবোদনীবেব সহিত যাহার উপমা 
সম্ভবে, ঈদুশী ভবত-কীন্তি * (কমার বন্ধনাবস্থা দর্শনে যেন) 
ভ্রামিত হইয সাগর পার হইয়াও বিশ্রামলাভ করিতে 
পারিতেছে না। 
যশোমুক্তাভিস্তে গুণিবর গুণৌধৈঃ কমলভু- 
যুতি প্রন হারং গ্রথিতুমতুলং যতুমকবোৎ। 


* “বিশদি ধবলত। বর্ণাতে হাস-কাত্র্যোঃ' লাহিহা- দর্পণ ।-কার্ডিত্ খব, খবলতা? 
আরোপ করা একটি কৰি-সনয়-প্রপিদ্ধি । 


৬২ প্রবন্ধাইক। 


গুণান্তং মৌন্তং ব! শুণবিবরমালোক্য ন চিবা- 
দ্রুষা ক্ষিপ্তাস্তেন ক্ষিতিতিলক তার! বিয়তি তা: ॥ 
হে গুণিবর, কমলযোনি ব্রহ্মা ত্বদীয যশোবপ মুক্তাসমূহ 
লইযা তোমাব গুণাবলী দ্বাব! অতি আদর” কবিযা একটি ভাব 
গাখিতে যত্ত করিযাছিলেন। কিন্তু বন্ধ চেষ্টাতেও গুণেব অন্ত 
কিংবা মুক্তা ছিদ্র না পাযা বিরক্ত হইয। তিনি এ মুক্তারাশি 
ছড়াইয়া ফেলি! দেন, হে নরপাল, এগুলি সম্প্রতি নক্ষত্র 
রূপে আকাশে অবস্থিতি কবিতেছে । 
শ্রীমন্নাথ ভবদ্যশোবিটপিন খেতারকাঃ কোরকা- 
স্তেষামেকতমঃ পুবা বিকশিতো যঃ পুর্ণিমাচন্দ্রমা? ॥ 
তেনেদং মকরন্দস্বন্দরনুধাস্যন্দৈগন্মগডিতং 
শেষেঘেবু বিকশ্থবেধু ভবিতা৷ কীদৃঙ, নন জানীমহে ॥ 
হে নরনাখ, আকাশের তাবকারাজি তোমার যশোবুক্ষেব 
কোরক। উহাদেব একটি পুবাকালে প্রন্ফ,টিশ* হইয| পুর্ণিমাব 
চন্দ্র হইযাছে । ভাহা হইতে ক্ষরিত মকবন্দ সদৃশ সুধাধাবা দ্বার! 
জগৎ আপ্যায়িত হইয়াছে। না জানি অবশিষ্ট সকলগুলি 
€ তাবকাকোবক ) বিকস্টিত হইলে কিৰপ শোভাই হইবে ! 
্বদ্ধাহুবাহবেগক্ষতধবণিতলে বৈরিবামা শ্রপপক্কে 
ক্ষিপ্তোম্মাত্তেভকুত্তস্থল দলন বশান্মৌক্তিকন্তত্র বীজম্‌। 
তজ্জাতা কীত্তিবললীগগনবনচবীমুলমস্থ্যাঃ ফণীন্দ্র£ 
ুত্রাণ্যন্রাণি পবাণ্যুডগণকলিকাশ্চন্দ্রমাঃ ফুললপুস্পম্‌ 
+তোমাব বানুবলে পৃথিবী ক্ষতবিক্ষত হইযা (যেন) চষ্িত 





2 লস দত ০৮৯ পেশী তি 


কালিদাসেব কাহিনী । ৬৩ 





হইযাছে ; তাহাতে শক্রনারীগণের অশ্রুধারা পতিত হইয়া কর্দদমম 
হইযাছে ; উহ্হাতে মদমত্ত মাতঙ্গের বিদারিত কুস্তন্ভল হইতে 
মুক্তা বীজবপে পতিত হইয়া তোমার কীন্তিলহাব উৎপত্তি 
হইয়াছে । দেই কীত্তিলতা আকাশবপ কাননে অগ্তাপি 
বিবাজিত ১ কণিরাজ অনন্ত ইহাব মূল, শুভ্র মেঘগণ ইহাঁব প্রঃ 
নক্ষত্রসমুহ ইহার কলিকা এবং চন্দ্রমা ইহাব বিকশিত কুন্তম। 
ধীর ক্ষীরসমুদ্রসান্দ্রলহরীলাবণ্যলক্ষনীমুষ- 
স্ুকীর্তেস্তলনাং কলঙ্কমলিনো ধন্তে কথং চন্দ্রমাঃ । 
স্তাদেবং হদরাতিসৌধশিখবে প্রোন্ভতশম্পান্কর- 
গ্রাসব্য গ্রমনাঃ পতেদ্যদি পুনন্তস্থাঙ্কশাযী মুগ: ॥ 
হে ধীর, ক্ষীব সমুদ্রের নিবি লহরী লীলাব যে সৌন্দর্য্য, 
তত্তুলা শোভাশীলা তোমার কাঁন্তিব সঙ্গে কলঙ্কমলিন চন্দ্রের 
কিবপ্পে উপম! সম্ভবে ? তবে উহা সঙ্গত হইর্তে পাবে, যদি 
তোমাৰ নিজ্ভিত 'শক্রগণেব সৌধশিখবে জাত,শম্পান্কুর ভক্ষণার্থ 
ব্যাকুল হুইযা চন্দ্রের ক্রোডস্থ মুগ ঝিযুক্ত হইয়া পড়ে । 
সংগ্রামাজগনমাগতেন ভৰতা চাপে সমাসাদিতে 
দেবাঁকর্ণয ষেন যেন সহুস! যদ্যৎস্মাসাদিতম্‌। 
কোদগ্ডেন শবঃ শবেণ হি শিরস্তেনাপি ভূমগুলং 
তেন ত্বং ভবতাপি কীর্তিরতুলা কীন্ত্যাচ লোকত্রযম্‌ ॥ 
হে দেখ, রণাজজনে অবতীর্ণ হুইযা! তোমার ধনুঃ ধাবণ 
কবিবামাত্রেই সহসা কোন্‌ কোন্‌ বস্ত কি কি প্রাপ্ত হইল, তাহা 
শুন-__ধনুঃ বাণ [প্রাপ্ত হইল (অর্থাৎ ধনুতে বাঁণ যোজিত 


৬৪ প্রবপ্ধাষ্টক ৷ 


হইল )]7 বাণ শক্রর শির (পাইল); সেই শির পৃথিবী ঃ 
পৃথিবী তোমাকে ; তুমি অতুল কীর্তি; এবং সেই কান্তি ব্রিভুবন 
প্রাপ্ত হইল। 

পাঠক, এই সকল শ্লোক পড়িয়া কি বঘু-মেঘ-কুমার- 
'রচয়িতাৰ কবিতা বলিষা বোধ হয? ধন্য বে কিংবদন্তি" 
তোৰ কি অনির্রবচনীয মহিম!! তুই ঢতুস্পাহীব সরল-বুছধি 
ভট্টাচা্যবর্গ ও অন্তেবাসিগণকে কি কুহকেই ফেলিবাছিস্‌ 
যে তাহাবা এই সকল অন্বাচীন কৰিকল্লের লেখনী-কগু.যনজাত 
“হিস্তীর-পিশ্তীগকে ভারতীর বরপুল্রেব স্বন্ধে চাপাইতে কুষ্ঠিত 
হুযেন না! 

* যাহা হউক, প্লাজা এতক্ষণ কালিদাসেব অভিমুখ হইযা 
উপবিষ্ট ছিলেন, এই সকল শ্লোর্ক আবণানন্তর বিপবীত দিকে 
মুখ করিষা ফিবিযা! বসিলেন। এই সকল কবিতাব পুবস্বার 
স্ববূপ রাজা সন্মুখস্থ বাজাবিভীগ কবিকে মনে ম্নে দান করাতেই 
রাজার এই পার্খ পবিবর্তনেৰ কারণ; কিন্তু কালিদাস বুঝিলেন 
অন্তবপ । তাই পুনশ্চ বলিতে লাগিলেন-__ 

মাগাঃ প্রত্ুপকারকাতরতয়৷ বৈুখ্যমাকর্ণষ 
হে কর্ণাট বন্ুম্থীবাধিপ স্ুধাসিক্তানি স্তক্ত।নি মে। 
বর্যন্তে কতি ভূধবান্ুদনদীভূভাগবৃন্দাটবী  , 
ৰাত্যামাকত চন্দ্র চন্দনগণাস্তেভ্য; কিমাপ্রুং মর্যা ॥ 
হে কর্ণাটরাজ, প্রত্যুপকারে কাতবতা নিবন্ধন পুষ্ট তজ দিও 
না, আমার নুধাময়ী শ্লোকাবলী শ্রবণ কব। পর্ববত, মেঘ, নদী, 
প্রদেশ, 'বন, ঝড, বাযু, চন্দ্র, চন্দন প্রভৃতি কত কি বর্ণনা 
কবিয়াছি, উহাদের হইতে আমি কবে কি প্রাপ্ত হইয়চি £ 





কালিদালের কাহিনী । ৬৫ 


_. অর্থাৎ, কিছু পাইবা: কিছু পাইবার আশায় কালিদাস ভারতীপ্রয়োগ 
করিতে আসেন নাই; আর, এই পৃষ্ঠ প্রদর্শনেও কালিদাসের কিছু 
আসে যায না ১ 

পুরো বা পশ্চাদ্ধা কচিদূপি বসামঃ ক্ষিতিপতে 
তদা ক! নো হানির্বচনরচনৈঃ ক্রীতজগতাং। 
বনে বা! হন্ম্যে ব৷ কুচকলসহাবে মুগদৃশাং 
মণেস্তল্যং মূল্যং সহজস্ৃভগস্য ছ্যুতিমতঃ ॥ 

বাক্যরচনা দ্বাবা জগত্ক্রযকারী মামাদের পুরোভাগে 
অবস্থানেই বা গৌরব কি, এব) পশ্চাদ্ভাগে অবস্থান ঘটিলেই বা 
হানি কি? অকৃত্রিম উজ্জ্বল মণি বনেই পড়িষা থাকুক, প্রাসাদে 
রক্ষিত হউক, অথব! সুন্দবীর কুচোপশোভী! হার মধ্যেই গ্রথিত 
থাকুক, উহার মূল্য তুল্যবপই থাকিবে । *% 

অবশ্য; ক্ষণকাঁল পরেই বাজা ও কবিতে আপোষ হইল। 
বৈচারী বন্থন কা দেখিয। বোধ হয অবাক্‌ হইয়া গেল ! 

রাজার কিন্তু স্ধাসিক্তসুক্ত'রসপিপাস! মিটিল না। তিনি 
-শৈব ছিলেন, কৰিকে স্বকীয ইফ্টদেব কদ্রের বর্ণনা করিতে 
বলিলেন। শুনিবার দোষে “রুদ্র স্থলে কবি বুঝিলেন “সমুদ্র ; 

ই বলিলেন__- 
ঈকিংবাচ্যে মহিমা মহাজলনিধের্ধস্যেন্দ্রবজ্রাহতি- 
ত্রক্টো ভূভৃদমজ্জদন্থুনিচযে কু কুলীরপোতাকৃতিঃ ।_ 


রঃ , সাটোপ ভাব টুকু বাদ দিলে এই দুইটি মোক কালিদাদেক লেখনীর উপযুক্ত বলির! 
'বিঘেচিত হইতে পারে। 


৬৬ প্রবন্ধাক। 


মৈনাকোহতিগভীরনীরবিলসতপাঠীনপৃষ্টোরস- 
চ্ছৈবালাঙ্কুরকোটিকোটরকুটাকুট্যন্তবে সংস্থিতঃ ॥ 
ইন্দ্র কর্তৃক বজ্তাহত হইবার ভয়ে মৈনাক পর্ববত কন্কট 
শাবকের ম্যায় নিমগ্ন হইয়! যাহার গভীর নীরে বিচরণকারী 
কোনও পাঠীন মতস্যের ( বোয়াল মাছ, ইতি ভাষ! ) পৃশ্ঠলগ্ন 
'শৈবালাস্ধুরের কোটি কোটি কোটবের এক কোণে আশ্রয গ্রহণ 
কবিয়া ছিল, সেই মহাঁসমুদ্রেব মহিমা আর কি বলিব ? 
রাজ৷ একটু হাসিলেন।_ শ্লোকের উত্কটহ্ব নিমিত্ত নহে, 
কেন না ঈদৃশ গল্লাধিনায়ক রাক্কন্তবর্গের যেন একটু স্বাভাবিকী 
রসবধিরতা ছিল, এইজন্য এতাদৃশী “কর্ণক্রোডকডন্থিনী” 
শ্লোকাবলী ভিন্ন অপুর মৃছুতর রচন! তাঁহাদের শ্রবণ বিববাভ্যন্তরে 
বোধ হয় পৌছিত না, রাজা কত্রবর্ণনা করিতে বলিযাছিলেন, ইহাই 
কি কদ্রবর্ণন!? কবি অপ্রতিভ হইবার লোক নহেন, তাই বলিলেন, 
, হা মহারাজ, ইহাই রুদুবর্ণনা ; এখনও ত বর্ণন) শেষ হয নাই, 
ঈদৃক্‌ সপ্তসমূতরমুদ্রিতা মহীভূভৃত্তিরভঙ্কষৈ- 
স্তাবস্তিঃ পরিবেগ্টিতা পৃথুপৃরুদ্বীপৈঃ সমস্তাদিয়ং 
যস্য স্কারফণামথ্নিমিলিতা তির্য্যক্‌ কলঙ্কাকৃতিঃ 
_. শেবোহপ্যেকমগাদ্যদজদপদ্ং তস্মৈ * * * ॥ 
ঈদ্ৃশ সাতটা সমুদ্র এবং এ সংখ্যক বিমানস্পর্শী পর্ব্বত দ্বারা 
মণ্ডিত প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড দ্বীপ সমূহ ছার! চতুদ্দিকে হেষ্টিত এই ষে 
পৃথিবী, উহা যাহার শির-স্থিত স্বচ্ছ মণিতে সংলগ্ন হওয়াতে মণির 
কলম্কের স্তায় প্রতিভাত হয়, সেই নাগরাজ শেষও বীহার কেয়ুর 


কালিদাসের কাহিনী । ৬৭ 


শশী কীট -শীাশীশাী শীর্শশশাা ০ 


বপে একতম অঙ্গের ভূষণ মাত্র, তাহাকে এইমাত্র বলিয়া 
“বেটা বল্‌ তরে” বলিযা কবি শ্লোকের সমাপ্তি করিলেন। 
নিকটে ভূত্যবপী ববকচি দণ্ডায়মান ছিলেন, তিনি বলিলেন 
" এনমঃ শম্তবে” । % কালিদাস নাকি শিবের নাম উচ্চারণ করিতে 
পারিতেন না, তাই এই বিভম্বনা ! 
কিন্তু, রে কুহকিনি কিংবদন্তি, ধন্য তোব সাহস! “বেটা 
বল্‌ ত বে” এই নিতান্ত আধুনিক প্রাকৃত বাঙাল! বুলিটাও কি 
কালিদাসেব মুখনিঃস্যত বলি বাজাবে বিকাইতে চাহিযাছিলি ? 
তোর কি এটাও খেযাল হুইল না ষে “উজ্জয়িনীব' উচ্জ্বল 
রত, “বিক্রমাদিত্যেব*,সভাসদ, কালিদাস বর্তমান বাঙ্গাল! ভাষার 
জন্মের বহুপূর্বেন এবং বঙ্গদেশের বহুপম্চিমে আবিভূ্তি হইয়া- 
ছিলেন? 4 তোৰ অসুলকত্বেব ইহা! অপেক্ষ। আর কি প্রকৃষ্ট 
প্রমাণ আছে ? 
ধ্রখানেই ক্ুলিদাসে এই কর্ণাটবিজয় কাহির্নী শেষ হইত। 
কিন্তু রাজ ছাঁড়িবাঁব পাত্র নহ্বেন। পুর্বেবে বল! হইযাছে, “কৃতকং 
মন্যে ভষং যোধিতাং” ইতান্ত শ্লোকটি “কর্ণাটরাজপ্রিয়া,”” কি 
প্বয়ং কর্ণাটরাজ, কাহারই মনোনীত হুয় নাই। তাই কালিদাসকে 


লাশ 














* কুতরাং মৌকের শেষ পদটি হইল-_ 
ঃ “শেযোহাপাকমগাদযদঙ্গদপদং তশ্মৈ নমঃ শন্ভবে 8৮ 

কিন্তু 'ক্ষালিদাস” এই নামটি ধঙ্গজ এবং আধুনিক ফলিয়াই প্রতীত হয়, কিং- 

ধস্ভীর যোধ হয় উহাতেই এই সাহদ। অনেক স্থলে কালিদ$নকে দিল! বাঙ্গাল। প্রঙ্গেরও 

উত্তর হঙ্গভাষায়ই দেওয়ান হইয়াছে। 


৬৮ প্রবন্ধাষ্টক। 





বিজ করিবার নিমিত্তই যেন বাজ “রুতকং মন্যে ভযং যোধিতাং” 
এই কথাটি ছুই একবার উচ্চাবণ কবিতে লাঁগিলেন। ভাব 
বুবিযা, কবি এ কথাটিকেই অবলম্বন করিযা ততক্ষণা শ্লোক 
রচনা করিলেন-_- 
উগ্রগ্রাহমুদন্ধতো জলমতিক্রামত্যনালম্বনে 
ব্যোন্দি ভাম্যতি দুর্ভযক্ষিতিভূজা” মুদ্ধানমারোহতি | 
ব্যাপ্তং যাতি বিষাকুলৈরহিকুলৈঃ পাতালমেকাকিনী 
কীর্ডতিস্তে মদনাভিরাম “কৃতকং মন্যে ভযং যোধিতাং* ॥ 
হে মদনস্থুন্দর, তোমাৰ কীর্দি কোন অবলম্বন বিনাই একা- 
কিনী ভীষণ হাঙ্গবসম।বীর্ণ সমৃদ্রবারি অতিক্রম ককিতেছে 7 
আকাশোপবিস্থ ন্বর্গলোকে বিচবণ কবিতেছে ; দুর্জয় নৃপতি 
গণকে নিড্জিত করি তাহাদের মস্তকোপরি আবোহণ করিতেছে; 
এবং বিষধরসর্পসনুহ।কীর্ণ পাতাল এ্রদেশেও গমন কবিতেছে । 
ইহাতে বোধ হয স্্লীলোকের ভথ কৃত্রিম মাত্র । 
এই বপে কবির কৃতি, প্রত্যুৎ্পন্নমতিহ্র প্রভভৃতিব পবিচষ 
পাইয়া রাজার আর কিছু বক্তব্য বহিল না__বিজযসুচক জয়পত্র 
লিখিয়! দিব তাহার ঘথোচিত “মর্ধ্যাদা' বিধান করিলেন। বল! 
বাহুল্য, জযপত্রস্হকৃত কবি বিক্রমাদিত্যসভাঁষ প্রত্যাবৃক্ত 
হইলে বিক্রমাদিত্যও হুষ্টচিন্তে কবিকে যথেষ্ট পুবস্কীর প্রদান 
করিলেন। 
_[সাহিত্যসেবক অগ্রহায়ণ ১৩০৩।, 


কালিদাসের কাহিনী । 


লে ০ স্বিপতক ২ সর 
(৫) নানা সমস্যাপুরণ। 


কর্ণাটরাজেব ন্যায ধাবানগবাধিপতি ভোজবাজেবও শেষ 
বিদ্বদুন্দপরিশোভিত রাজসভা ছিল। * এই সভার পণ্ডিতগণের 
একটু বিশেষস্থ এই ছিল যে, ইনাঁবা সকলেই শ্তিধৰ ছিলেন 
এই সভাতে আসিযা কেভ কোঁন কবিতা! বলিলে সভাস্থ পণ্ডিতগণ 
তথ্ক্ষণা উতা আবৃন্তি করিতিন এবং শ্রতপুর্নন বলিয| ব্যাখ্যা 
কবিতেন। স্তবাত ভোজবাজসভাঘ কেহ “নূতন” কবিতা 
বলিতে পাবিতেন না । ভোজরাজও ঘোষণা করিযা দিজেন, 
“যিনি নূতন শ্লোক শনাইতে পাবিবেন, তীহাকে লক্ষমুদ্রা 
পুরস্কার প্রদান কবা যাইবে |” 

ইদানীন্তন “পণ্ডিত'গণের ন্যাঘ কালিদাস নিতান্ত “সবল” 
ছিলেন না; তিনি উক্ত ঘোষণাশ্রবণে প্রকৃত রহস্য বুবিতে 
পারিয়া কুটবুদ্ধিবলে এক উপাষ উদ্ভাবন কবিলেন। তিনি সঙ্সা 
একদিন ভোঁজসভায উপস্থিত হইয়া ঝলিলেন 2 


% ইতিপূর্ব্বে কালিদাস কর্তৃক কর্ণাটি সভা বিজয়েব রে কাহিনী বর্ণিত হুইয়।ছে, 
উহার আর একটি সংক্কবণ আছেঃ সেইটি ভোঙ্গরাজের সভা! বিজয়। 'পুনরক্তি 
দৌধাশঙ্কায় এইকাহিনী পবিত্যন্ত হইল | কর্ণাট রাজ বর্ণশার শ্লে/কগুলির ন্যায় ভোজ- 
বাজ স্তুতিও বাগাডদ্বরপরিপূর্ণ স্বপ্লভাববিশিষ্ট কতিপয় গ্রে।কসমষ্টি মাত্র । অগ্যান্ত ঘটন! 
উ্তয়ত্রই অবিকল এক 1 





৭৬ প্রবন্ধাষ্টক। 


্স্তি প্রভোজরাজক্রিভুবনবিজয়ী ারিকঃ সত্যবাদী 

পিত্রা তে মে গৃহীতা নবনবতিযুত্‌ রত্বকোটা মদীয়। | 

তাং ত্বং মে দেহি তৃর্ণং সকলবুধজ নৈজর্ভাযতে সত্যমেতৎ 

নোবা জানস্তি কেচিন্নবকৃতমিতি চেদ্দেহি লক্ষং তাত মে |” 

ত্রিভূবনবিজয়ী ধর্দিষ্ঠ সত্যপরায়ণ শ্্রীমান্‌ ভোজরাজেব জয় 
হউক। মহারাজের পিতৃদেব আমা হইতে এককোটী নিরনববই 
লক্ষ বত্বু ধার করিযাছিলেন, উহা! ত্বরাফ আমাকে প্রত্যর্পণ 
ককন। ইহা যে সত্য, এই সকল পঞ্চিতেরাই বিদিত আছেন ; 
দি উহার! ন1 জানেন, তবে ইহা আমার নুতন বচিত শ্লোক 
বলিযা আমাকে লক্ষ মুদ্র৷ প্রদান করিতে আজ্ঞা হয। 

, বল! বাহুল্য, ভ্লোজরাজ এবং তৎুসভাস্থ পঞ্ডিতগণ ইহাতে 
বিলক্ষণ শিক্ষালীভ করিলেন । “তদ্বধি ভোজরাজের সহিত 
কালিদাসের প্রম সৌহার্দ স্থাপিত হইল । * 

বীর্রীমপ্ডিত শূরগণ যেমন পরদেশবিজঘ এবং শত্রু হইতে 
স্বদেশরক্ষ। এই দ্বিবিধ উপাযে ব্রকীয বীধ্যবল প্রদর্শিত করেন, 
বিচাবমল্ল পণ্ডিতগণও তক্রপ অপর পভাবিজয এবং বিজিগীষু 
পণ্ডিতের পাণিত্য রব করিযা স্বকীয সভার গৌরব রক্ষা বার 








* “তো জপ্রবন্ধ" নামক গ্রচথ সু ধাবানগবাধিপ জোলরাজের স সভ।য় কালিনাসের জনক 
কাঁর্ডিকাহিনী বর্ণিত আছে। সংস্কৃতজ্ঞ পাঠক উক্ত গ্রন্থ পাঠ দ্বার! কৌতুহল চ্লিতার্থ করিতে 
পারেন। জধুনাতন প্রত্বতত্ববিৎ পণ্ডিততগ্ণ এই ক|লিদাসকে উজ্জয়িনীর সভাসদ ভারতীর 
ঘরপুন্র হইতে পৃথক্‌ করিয়! “ভোজ-কালিদাস” আখ্য। প্রদান করিয়াছেন । কিন্ত ভোঁভ- 


প্রবন্ধের কাত্দাস স্বয়ং আপনাকে ফিক্রমাদিত্যের কালিদাস বলিয্লাই পরিচয়প্রদান 
করিয়াছেন । ্ 


কালিদাসের কাহিনী । ৭১ 


নিজের কৃতিত্ব খ্যাপন করিয়া থাকেন। স্থতরাং এদিকে যেমন 
কর্ণাট ভোজ প্রভৃতি রাঁজস্ভ! বিজয় করিয়া কালিদাস স্বকীয় 
কীন্তিনিশান উত্তোলিত করিয়াছিলেন, সেইবপ বিক্রমাদিত্য- 
সভাবিজিগীযু অপর দিগ্িজয়ী পণ্ডিতবর্গের দর্প চূর্ণ করিয়া উহা! 
অক্ষুপ্নভাবে সমুচ্ছিতত রাখিতেও সমর্থ হইয়াছিলেন। 
একদ! এইবপ কোন দিখ্বিজয়ী পণ্ডিত বিক্রমাদ্দিত্যের সভায় 
আসিযা আপন পাণ্ডিত্য বল ঘোষণা করিয়া দিলেন। নৃপতি 
কর্তৃক সমাদৃত হইষ। পণ্ডিত স্নানাহ্িকার্থ সরোববে গমন করিলে 
কালিদাস নারীবেশে কলসীকক্ষে তথায উপস্থিত হইলেন এবং এ 
পঞ্িতেব প্রতি ঘন ঘুন কটাক্ষ নিক্ষেপ করিতে লাগিলেন। 
তদর্শনে দিখ্রিজযী কহিলেন-__ 
“কিং মাং নু পশ্যস্গি ঘটেন কটিস্থিতেন 
বন্তেণ চাকপবিমীলিতলোচনেন। 
অন্যং বিলোকয় জনং তব কর্ম্মযোগ্যং 
নাহং ঘটাঙ্কিতকটিং প্রমদাং স্পৃশামি ॥” 
সুন্দরি কক্ষে কলসী লইয়া! ঈষম্মুকুলিত নয়ন দ্বারা 
আমাকে কেন নিরীক্ষণ করিতেছ ? তোমার উপযুক্ত অন্য 
কাহারও নিকট গন কর; ঘা" বহিতে বহিতে যাহার 
কোমরে দাগ পড়িযা! গিয়াছে এমন রমণীকে শামি স্পর্শও 


করি না। * 











- ইতিপূর্বে একস্থলে খল! হইয়াছে “কালিদাস সুত্রীক পুরুষ ছিলেন”-_এতৎকাহিনী- 
বর্ণিত ঘটন! উহার একটি অধাস্তর প্রমাণ। 


খ২ প্রবদ্ধাষ্টক । 


পণ্ডিতের এই অবজ্ঞাসূচক সাটোপ বাক্য শুনিয়া রমণীবপী 
কালিদাস সপ্রতিভ ভাবে উত্তর দিলেন--_ 
“সত্যং ব্রবীষি মকবধ্বজবাণপীড ' 
নাহং তবদর্থমনস! পরিচিন্তযামি | 
দাসোহদ্য নো বিঘটিতস্তবতুল্যবপী 
স বা ভবেন্নহি ভবেদিতি মে বিতর্কঃ ॥” 
হে কামাকুলিতচিত্ত পণ্ডিত, সত্যই বলিযাছ। বস্তুতঃ 
আমার অন্তঃকবণে তোমাৰ বিষয়ে ভাবনা উপজাত হয় নাই। 
আমাদের চাকর, ঠিক তোমাবই স্যাষ আকৃতি, আজ কোথা 
পলাইয়া গিযাছে,_-তোমাকে দেখিয়া “এই বা সেই” এই 
চিন্তাই করিতেছিলাম। 

' কলদবাহিনীর মুখে এইবপ র্যাজপুর্ণ রমিকতাব আস্বাদ 
পাইয়। দিখিজবী চমতকৃত হইলেন, এবং রমণীব পরিচয জিজ্ঞাসা 
করিলে সে কালিদাসের পরিচারিকা বলিয়৷ নিজের পরিচয 
প্রধান করিল। পণ্ডিত মনে ভাবিলেন, যাহার পরিচাবিকাই 
ঈদৃশ পাণ্ডিত্যসম্পন্না সেই কালিদাস না! জানি কত বড পঞ্ডিত । 
এই ভাবিয়া পুনশ্চ রাজস্ভায না গিয়! দিখিজয়ী হতাশচিত্তে 
্বস্থানে প্রস্থান করিলেন। এ যেন ঈসপ-কথিত “ব্যাত্রের দ্বারে 
বৃহ পাকস্থলী দর্শনে ভয়ে বলীবর্দের পলাযন” ! 

অন্যদা কোন দিথিজয়ী % বিক্রমাদিত্য সভায় আনিযা 
_এনইস্য কাশ্যাগতিঃ 2 এই সমস্যা দিয়া উহা পুরণ করিতে বলেন। 


_. * কেহ বলেন, 'রাক্ষস'। পূর্বে ত্রাঙ্গণের নাম রাক্ষস দেখা যার-__যখা, মুতরারাক্ষসের 
অধিনায়ক নন্দধংশের কুলমন্ত্রী। 








কালিদ্াসের কাহিনী । গও 


৮ শীশী শী শী শীীশী্ীশী১৫৫৫৫/৮শ ্র্শীহ 7 টি ৮ ্িশচ্গ 


কালিদাস তখন উপস্থিত ছিলেন ন| ; অপর পণ্ডিতগ্ণ উহার 
সহুন্তর দিতে অসমর্থ হওয়ায় দিখিজযী তিন দিনের সময দিয়! 
বলিলেন, এই তিন দিনেৰ মধ্যে সমস্যা পুবিত না হইলে রাজ- 
সভার পরাজয় স্বীকাব করিতে হইবে । ইতিমধ্যে কালিদাস 
আনিলেন এবং এই ব্যাপাব অবগত হইয়। তত্ক্ষণাঁৎ এক ভিক্ষুবেশে 
এঁ প্রন্নকর্ভার নিকট গিয| উপস্থিত হইলেন । উক্ত পণ্ডিত ভিক্ষা 
প্রদ্দানার্থ অন্যান্য দ্রব্য দিতে উদ্যুক্ত হলে ভিশ্গুক, মাংস না 
হুইলে চলে না, এই অভিপ্রাব প্রক(শ কবিল। ভিঙ্ষৃকেব এই 
স্পর্ধা অবলোকনে চমণ্রুত স্তুইয! দ্রিথিজঘী বলিলেন-__ 
“ভিক্ষো মাংসনিষেবণং প্রকুকষে £৮ 
হে ভিক্ষুক, ভুনি মাংসভক্ষণ কব? 
ভিক্ষুবগী কালিদাস বলিলেন £__ 
“কিং তত্র মগ্ভং বিনা ?”? , 
তাহাতে আবাব মদ্ভ না হইলে কি চলে? 
দি। এ“মছার্াপি তব প্রিবং 
মদও তোমার প্রিয় পদার্থ ? 
কা। “প্রিষমহো। বারাজনাভিঃ সহ ।” 
বিলক্ষণ প্রিষ, তবে বারাঙ্গনাপ সঙ্গে হইলেই ভাল। 
দি। ““বেশ্যাপ্যর্থকচিঃ কুতস্তব ধনং ?” 
বেশ্যার প্রযোজন হইলে ত টাকা চাই, তুমি টাক! কোথায পাইবে ? 
কা। “দ্যুতেন চৌর্যেণ বা” 
জুয়া খেলিযা কিংবা! চুরি করিয়া । 





৭৪ প্রবন্ধা্টক ৷ 





দি। “মৌর্ধ্যদুতপরিগ্রহোহস্তি ভৰবতঃ % 
তোমার ভুয়া খেলার ও চুরি করার বৌকটুকুও আছে ? 
ক। “নফ্টস্য কান্তা গতিঃ 1৮ * 
নষ্টেব অন্য কি গতি আছে ? 

ঈদৃশ অভাবনীষ উপাষে সমস্যা পরিপুবিত হইতে দেখিয়া 
দিখিজধী পরম পরিতোষ লাভ করিলেন এবং পুবণকাবী ছদ্মবেশী 
কালিদাসকে ধস্বাদ করিতে করিতে প্রস্থান কবিলেন। 

এই সকল কার্যে কালিদাস ছল্মবেশ ধাবণ করিতেই যেন 
একটু আমোদ পাইতেন। স্থুচ্ুর যোদ্ধা যেমন সঙ্গোপনে 
একবারে শক্রর শিবির অধিকাৰ কবিযা 'মহাবলপরাক্রান্ত 
বিপক্ষের অনায়াসে প্ররাজব সাধন করেন, কালিদাসও তন্রপ 
আপনাকে গোপন বাখিযা প্রতিপক্ষেধ অভাবনীয় উপাষে তাহাকে 
চমতকৃত ও বিপর্দ্যন্ত কবিষা ফেলিতেন। কবিবারের এই সন্মুখ- 
যুদ্ধে বৈমুখ্য "বিষষেও কিংবদন্তী একটি কাছিনী প্রচ্গারত " 
করিয়াছে । 

একদা দেবী সবস্বতী স্বীয় ববপুত্রেৰ কৃতিহ্ব পরীক্ষার্থ 
ৰালিকা বেশ ধারণ করিষ্! একটি টিতে এক শ্রোকের 


*' লমগ্র গ্লেকটা এই_- 
“ভিক্ষো। মাংসনিষেষণং প্রকুরুষে কিংভত্র মদ্যং বিনা 
মদ্যঞাপি তবপ্রিরং প্রিয়মহো যার!ঙগলাভিঃ সহ। 
_বেশ্াপার্থরুচিঃ কুতস্তঘ ধনং দ্যুতেন চৌধ্েশ ঝা « 
চৌধ্যদাতপরি্রহোহ্তি ভঘতে! নষ্টন্ত কান্তা! গতিঃ ॥” 


কালিদীসের কাহিনী । শর 


প্রথমার্ধ ভাগ লিখিয়া বিক্রমাদিত্যের সভায় উপস্থিত হইলেন 
এবং সমবেত পগ্ডিতমগুলীকে সম্বোধন করিযা বলিলেন ২ 
আমার ব্বর্গীফ জনক একটি শ্লোক রচনা করিয়া আমাকে 
শুনাইযাছিলেন, আমি এই পত্রে উহা! লিপিবদ্ধ করিয়া রাখিয়া- 
ছিলাম । কিন্ত দৈবছূর্বিবপাঁকে উহার শেষার্ধটুকু এই পত্রের 
অদ্ধাংশের সঙ্গে বিলুপ্ত হইয। গিয়াছে-_ আপনাদের কেহ যদি 
দ্যা! কবিষা উহা বলিষ' দিতে পারেন, চিরবাধিত হইব। 
শ্লোকার্টি এই__ 
“ঘাতু যাতু ক্লিমনেন তিষ্ঠতা 
যু মুঞ্চ সখি সাদবং বচঃ1, 
কোন মানিনী প্রিফতমকে উপেক্ষা করিয়। বলিতেছেন__স্খি [ 
উহাকে এখানে থাকিবাব জন্য এত মিষ্ট বাক্য বলিতেছ কেন ? 
যাইতে দাও । 
* রতুগণেব মধো একজন শ্লোকটি এইরূপ পুরণ 
করিলেন-- 





“পামরীবদনলোলুপো যুব! 
নোহি বেস্তি কুলজাধুরাম্বতং ॥” 
বেশ্টার বদনমধুতে যার আসক্তি সেকি কখন কুলবধূর 
অধরাম্ৃত পানের স্বাদ বুঝে ” 
উহা শুনিয়। বালিকা বলিলেন, “আমার যতদুর স্মরণ হয়» 
পিতার শ্লোকটি এইকপ ছিল না।” তখন অর্পর পণ্ডিত 
বলিলেন_- 


৭৬ | প্রবন্ধাষ্টক। 


“কোকিলাকলরবে। বনে বনে 
নূনমস্ত নিগডে। ভবিষ্যতি ॥" 
কাননে কাননে উদ্দীপক কোকিলার কুনুস্বর ধবনিত হইতেছে, 
উহাই ইহার নিগড স্ববপ ( অত্রাবস্থিতির কারণ ) হইবে। 
উহাতেও বালিকাব তৃপ্তি হইল না দেখিযা স্বযং মহারথী 
কালিদাস উন্তব করিলেন__ 
“নুনমেষ মদপাজনিজিতো 
যত্রুতঃ কতি পদানি গচ্ছতি ?? 
আমার কটাক্ষবাণে বিদ্ধ হইযঘা এ আর কয় পা চলিতে 
সমর্থ হইবে ? 

, ইহাতেও প্রশ্নকাঁবিণী সম্থষ্টা হইলেন না দেখিযা কালিদাস 
বিষম ক্রোধের বশবর্তী হইযা বালিকাব গণ্ডে চপেটাঘাত 
করিলেন। বা্দেবী তখন প্রকট দৃত্তি ধারণ কবিযা বলালন, 
“বৎস, পণ্ডিতের ঈদৃশ ক্রোধবশীভূত হওযা নিতান্ত অবিধেষ। 
তুমি আমারই কৃপাধ অদ্ভিতীয় ক্ষমতাশালী বিদ্বান ও কবিকুল- 
চুড়ামণি হইয়াছ বটে, কিন্ত্রী আমার অভিশাপে সম্মুখবিচারে 
তোমাৰ পাগ্ডিত্যের স্ফত্তি পাইবে না, স্থতবাং জযলাভও 
ঘটিবে,না।” % 


+ সম্ভুথবিচারে কালিদাসেব পরাভূতির দৃষ্টান্তের পরাক।ষ্টা স্বরূপ মেছুনী ও কুস্তকারের 
হস্তে কবিরের দর্পচূর্ণের কাহিনী জনস্রুতিতে প্রচারিত আছে। বাহাহউক, অধশেষে 
কাজিদাসের অশেৰ স্তুতি বিনতিতে প্রসন্ন! হইয়। বাঙ্গেবী, কেধল একদিন সম্মুখ বিচারে 
জয়ল।ভ হইবে, এরূপ ঘর দেন, এর একদিন নাকি কালিদাস বৃহস্পতি অধিতিত উত্তরের 
'সভ। জয় করেন। 














কালিদাসের কাহিনী । ৭ 


ধপটীপীশীশত শশী পাশ শি শশী শী শিট শা শিশািীটি 


ফলতঃ স্বকীয় সিদ্ধান্তে প্রতিপক্ষকে আপত্তি প্রদর্শন করিতে 
দেখিযা যে পণ্ডিত ক্রোধে অধীর হন, বিচাবক্ষেত্রে তিনি জয়- 
লাভ কবিতে সমর্থ হন না। 

এতাদৃশ সমস্য! পুরণে কালিদাসের অসাধারণ ক্ষমতা ছিল। 
কোন কবি এক রাজমহিষীৰ সহিত অবৈধ প্রণয়ে আসক্ত 
হন। বাজা জানিতে পারিষা শাস্তি স্বব্ূপ কবিকে শুলারোপিত 
কবেন। এ কবি স্বীয শোণিত দ্বাঝা শুলের পার্থে স্বকীষ 
দশাপরিণতিসুচক একটি শ্লোক লিখিতে আরম্ভ করেন, 
কিন্ত 





“কেবা ন সন্তি ভূৰি তামরসাবতংস। 
ংসাবলীবলয়িনে! জলসন্সিরেশাঃ1” 
এই ডুম শুলে প্রফুল্ল পশ্জপরিশোভিত হংসমালাপরিবেস্ঠিত 
কতই জলাশখ বর্তমান আছে ;-_ 

*এই অর্দাং্ লিখিবামাত্রই তাহার প্রাণবাধু" বহির্গত হইয 
যায। রাজ! এই শ্রোকাদ্ধ দেখিয়া উহার অপরাদ্ধ কীদৃশ হুইকে 
এই কৌতুহলপববশ হ্যা নানাদিগ্দেশস্থ পণ্ডিতগণকে উহা! 
পুরণ কবিতে দেন। কিন্তু কেহই উক্ত কবির মনোগত ভাবানু- 
কপে কিংব! বাজাব তৃপ্তিকরবূপে উহ! পরিপুরিত করিতে সমর্থ 
হইলেন না। অবশেষে কালিদাসসমীপে এ শ্লোকার্ধ নীত 
হইলে তিনি এইবপে পূরণ করিয়া দিলেন_ 

« কিং চাতকঃ ফলমবেক্ষ্য সবজ্পাতাং 
পৌরন্দরীং কলয়তে নববারিধারাম্‌।» 


৮ প্রবন্ধাষ্টক | 





তবে তৃধিত চাতক কি ফল প্রত্যাশা করিয়। ইন্দপ্রবন্তিত 
ব্জুপাত সমন্বিত নবমেঘ বর্ষণের প্রতি তাকাইয়! থাকে ? 
রাজ! এই শ্লোকপুর্তিতে নিরতিশয় প্রীত হুইযা কবিবরের 
যথেষ্ট প্রশংস! ও পুরস্ক'র বিধান করিলেন । 
আর একদিন কালিদাসের কোন বন্ধু তাহাকে পরীক্ষা করিবার 
জন্য, “বজ্ঞোপবীতং পরমং পবিভ্রং, এই প্রথম পাদ, এবং 
“অণোরণীয়ান্‌ মহতে। মহীয়ান্” এই শেষ প।দ নির্দেশিত করিয়া, 
আদিবসে একটি শ্লোক রচনা করিতে অন্রবোধ করিলেন। 
কালিদাস তৎক্ষণাৎ উত্তর করিল্ে-__ 
যজ্ভোপবীতং পরমং পবিজ্রং 
স্পৃয্ট। সখে দিব্যমহং করোমি । 
যোগে বিযোগে দিঁবসোহঙগনাযা 
, অগোরণীয়ান্‌ মতে! মহীয়ান্‌ ॥ 
হে সখে ! আমি এই পরম পবিত্র যজ্ঞসূত্র স্পর্শ করিরা 
শগথ পুর্ববক বলিতেছি, প্রিয়তমার সঙ্গমে দিবস যেন অণু 
অপেক্ষাও ক্ষুদ্রতর বৌধ 'হয়ঃ আব তাহার বিয়োগে মহান্‌ 
অপেক্ষাও দীখ্তর জ্ঞান হ্য়। 
এইরূপ সমস্য! পূরণের অনেক কাহিনী প্রচারিত "মাছে। 
বাহুল্য ভয়ে এবারে এইন্ছানেই শেষ করা গেল । 
[ সাহিত্যসেবক ফাল্গুন ১৩০৩ । 


পা একে 


কালিদাসের কাহিনী । 


_পীকীপি পীর পক 
(৬) উপসংহাব। 


একদ। এক বাক্ষস বিক্রমাদিত্যের সভায় আসিয়! বলিল, 
“তন্নষ্টং”। যদি ত্রিবাত্র মধ্যে এই সমস্তার পুত্তি না হয তবে 
রাজ্য শুদ্ধ লোক সংহাব কবিষা ফেলিব । ব্যাপার গুকতর বুঝি 
রত্বগণ, মাধ কালিদাস, বাঁজ্য পবিত্যাগ করিয। পলায়নপর 
হইলেন । পথে কালিদাস (্রেখিলেন এক বুদ্ধ ব্রাঙ্গণ নগ্রপদে 
প্রতপ্ত বালুকারাশিব উপর দিবা অতি ক্রেশে পথ চলিতেছেন ; 
স্বভাবস্থৃকুমার কবিজদযে দযা উপজাত হইল,__কৰি ম্বীযজীণ 
পাছুকাযুগল ব্রাঙ্গণকে দান ফ্বিযা স্ববং নগ্রপদে গমন কবিতে 
লাগিলেন। অল্প দূৰ গিষাই তিনি একটি অস্বামিক সসজ্জ অশ্ব 
* প্রাপ্ত হইলেন গ্রবং তদারোহণে উত্তপ্ত বালুকামব প্রাস্তর উত্তীণ 
হইলেন । এতদ্‌ ঘটনাঁধ কবিব মনে যে ভাববাশি আবিড় তি হইল; 
উহাঁতেই বাক্ষসেব সমস্যা পুবিত হইল । কালিদাস রাজসভায 
প্রত্যাগমন করিয়া বলিলেন__ 
“ছ্বিজায পাদুক! দত্ত! শতবর্ষীয্জর্জর! | 
তশুকলাদশ্বলাতো৷ মে তমষ্টং যন্ন দীযতে ॥» 
বহু পুরাতন এক যোভা জুত৷ ব্রা্মণকে দিয়াছিলাম, তাহার 
ফলে একটা ঘোড়। পাইলাম । কলতঃ যাহা দান না! কর! যায়, 
তাহাই নিক্ষল। রঃ 


৮০ প্রবন্ধাষ্টক। 


পািশীীশাীপিসীশী শিস শীশা শশী শীাশীীশশ্াীশী শশী শশী শশি শিট 


সে যাত্রা এইরূপে রাক্ষসের হস্ত হইতে বিক্রমাদিত্যের রাজ্য 
রক্ষা পাইল। 
আর একবাব এক সমস্তা হইল “ততঃ কিং ততঃ কিং, 
ততঃ কি ততঃ কিং %” কালিদাস পূবণ করিলেন-_- 
“গিরেম্ভল্যবিত্তং ন দানং ততঃ কিং ? 
কুশাগ্রীয বুদ্ধির্ন পাঠস্ততঃ কিং? 
বপুঃ কর্মশভ্তং ন তীর্থস্ততঃ কিং ? 
ন ভরত প্রিবপ্তীবিতঞ্চেততঃ কিং?” 
পর্ববতপ্রমীণ ধন থাকিলেও দান না| হইলে লাভ কি? তাক্ষ 
ুদ্ধিসম্পন্ন হইলেও যদি পড়াশুনা না থাকে তবে উহাতে ফল 
কি? শরীবে শক্তজিসামর্থ্য থাকা সন্ধবেও তীর্থাদি পর্যটন ন! 
কবিলে কি লভ্য হইল ? বদি ন্দামী*ভাল না বাসেন তবে বাচিয! 
থাকায় কি ফল? 
ভাবতীব বরপুত্রেব ঈদৃশী ক্ষমতা ছিল যে অপবের "যাহা 
জানা অসম্ভব তাহাও প্রজ্ঞাচক্ষুর্বলে তিনি দেখিতে পাইতেন। 
এই ক্ষমত৷ একবার সাহার সমুহ বিপন্থিবও হেতুভূত হইযাছিল। 
কোন শিল্পী রাজা বিক্রমাদিত্যেব মহিষী ভান্মমতীর প্রতিকৃতি 
নিম্মীণ করিষ! নবরতাধিষ্ঠিত রাজসভাষ আনযন করে । সকলেই 
উহার সবিশেষ প্রশংসা কবেন, কিন্তু কালিদাস উহাতে যেন 
কিঞ্চিৎ বৈসাদৃশ্য বর্তমান রহিয়াছে এপ ভাব প্রকাশ করেন। 
ইহাতে শিল্পী ক্রোধভরে স্বীয তুলিকা নিক্ষেপ কবাতে এক বিন্দু 
মলী এ নগ্ন প্রতিকৃতির উকদেশে পতিত হইল, তখন কালিদাস 





কালদাসের কাহিনী । ৮১ 


“এইবার ঠিক হইযাছে* এইরূপ মন্তব্য প্রকাশ করেন । সকলেই 
কালিদাসকে ইহার কারণ জিড্ভাসা করাতে কবি বলিলেন, 
“রাজমহিষীর উকদেশে একটি তিল আছে, শিল্পী অন্ত হাঁবশতঃ 
উহ্থা চিত্রিত করিতে পারে নাই, এখন তন্নিক্ষিগ্ত তুলিকানিংস্থত 
মসী বিন্দুতে উহা৷ সংসাধিত হুইযাছে |” 

কালিদাসের কথা৷ শুনিযা রাজা বিক্রমাদিত্য তাহাকে 
মহিষীর গুপ্ত প্রণধী বিবেচনা! করিলেন, এবং ততক্ষণাত তাহাকে 
স্বীয় রাজ্য হইতে নির্ববাসিত করিলেন। কবি নিকপা'য ভাবিয়া 
স্রীবেশ ধারণ করিয়া গোপনে উজ্জধিনীতেই কোন এক ব্রাহ্মণের 
গৃহে অবস্থান করিতে লাগিলেন / 

কিয়দ্দিন পরে রাজপুত্র স্বগযা উপলক্ষে গভীর অবণ্যে প্রবেশ 
পু্ববক প্রত্যাবর্ধনের পথ না পাট্যা এক বৃক্ষে আবোহণ করিয়া 
রজনী যাপনে কৃত সংপল্প হইলেন। এ বৃক্ষে জাম্ববানের এক 
বঃশধর অবস্থান করিতেছিল। শ্বাপন্ত্রস্ত রাক্তপুত্র উহ্বার আশ্রিত 
হইব উহার সহিত মিত্রতা স্থাপন পূর্ববক অবস্থান করিতে 
লাগিলেন। ৰিশ্রন্ধহৃদখ ভল্লুক কিয়ওক্ষণ পরে মিত্র রাজপুত্রের 
ক্রোডদেশে মস্তক বাখিয নিদ্রা গেল হঠাশ এক ব্যাস আসিয়া 
রাজপুররকে আক্রমণ করিবার উপক্রম কঁরিতেলাগিল। আত্ম- 
প্রাণরক্ষার্থ রাজপুত্র তখন ভল্লুকণক বাত্রমুখে নিক্ষেপ ক'রবার 
অভিপ্রাযে ঠেলিয! ফেলিহে চেষ্টা করিলেন, কিন্তু ভল্লুক কোন 
মতে বৃক্ষাবলম্বন করিষা' রহিযা গ্লে। রাত্রি প্রভাত হইল ভল্লুক 
সেই মিত্রত্রোহী রাজপুত্রকে চপেটাঘাত করিয়া “সঞ্লেমিরা” 





৮২ প্রবন্ধাষ্টক ৷ 
এইমাত্র বলিয়া প্রস্থান করিল। পরে রাজপুত্র উজ্জয়িনীতে 
প্রত্যাবৃত্ত হইলেন বটে, কিন্তু উন্মাদ গ্রস্ত হইয়া কেবল “সসেমিরা” 
এই বাক্য জপ করিতে লাগিলেন। 
বহু চিকিওসাদি করিয়াও রাজপুত্রের আরোগ্য হুইল না; 
বিক্রমাদিত্য ঘোষণা করিয়া! দিলেন, যে রাজপুত্রকে সুস্থ 
করিতে পাবিবে তাহাকে প্রভূত পুরস্কার দিবেন। পুরস্কার 
লোভে অনেক চিকিৎসক আসিয়া অকৃতকাধ্য হইল। ঘখন 
কিছুতেই কিছু হইল না, তখন রাজা স্বীয় তনয়ের আরোগ্য 
বিষয়ে হতাশ হুইযা পড়িলেন। ছল্লাবেশী কালিদাস তখন আপন 
আশ্রবদাতা ব্রাহ্মণথে সঙ্গে লইযা রাজবাটাতে আসিলেন, এবং 
রাজপুত্রকে দেখিতে চাহিলেন। রাজপুত্র আদিলে তাহার 
“সসেমিবা” উক্তি শুনিষা ্ত্রীবেশীকালিদাস কহিতে লাগিলেন__ 
“সম্ঠাবপ্রতিপন্নানীং বঞ্চনে কা বিদগ্ধতা । 
অন্কমারোহ্য সুপ্তান্াং হত্বা! কিংনাম পৌকষম্‌।% ; 
প্রণয়াবদ্ধ ব্যক্তিকে বঞ্চনা করাতে কি বাহাদূরী হইল? 
ক্রোড়শফ়িত নিদ্রাগত ব্যক্তির বধসাধন করিতে যাওয়া কি 
পৌঁকষের কাধ্য ? 
"“সেতুবন্ধে সমুদ্রে চ গঞ্জাসাগরসজমে । 
্রক্ষহ! মুচ্যতে পাঁপৈগিত্রপ্রোহী ন মুচ্যুতে ॥৮ 
বাহার ব্রক্ম বধ করিয়াছে তাহারাও সেতুবন্ধে, সমুদ্রজলে 
বা! গঙ্গাসাগরসজমে গমন পূর্ববক পাপমুক্ত হয়, কিন্ত মিত্রপ্রোহীর 
কদাপি খুক্তি নাই। 





কালিঘ্াষের কাহিনী । ৮৩ 


“মিত্রাপ্রোহ্থী কতদ্বশ্চ যে চ বিশ্বাসন্বাতকাঃ। 
তে নর! নরকং যাস্তি ষারচ্চন্দ্রদিবাকরৌ ॥৮ 
মিত্রপ্রোহী, কৃতত্র, এবং যাহারা বিশ্বাসঘাতক, এ মক 
ব্যক্তি ষতদ্দিন পৃথিবীতে চন্দ্র সূর্য্য থাকিবে, ততদিন নরক ভোগ 
করিৰে। 
“রাজর্ষে রাজপুর্রন্য যদি কল্যাণমিচ্ছসি । 
দেহি দাঁনং দ্বিজাতিভ্যো৷ দেবতারাধনং কুক ॥% 
হে রাজন্‌! যদ্দি রাজপুত্রের কুশল কামনা করেন, তবে 
ত্রাঙ্মণদিগকে ধনদান এবং তক্তিভরে দেেবতার্চন ককৰ। 
“সসেমিরা”র সমস্থা, এইবপে * পুরিত হইলে রাজপুত্র 
আরোগ্য লাভ করিলেন এবং অরণ্যের বৃস্তান্ত আনুপুর্বিবিক 
বর্ণন করিলেন । তশ্শ্রবণে বিক্রমাদিত্য বিন্মিত হইয়া ছল্সবেশ্দী 
কালিদাসকে বলিলেন 
“গৃছে বসসি স্থশ্রোণি অটব্যাং নৈব গচ্ছসি। 
কথং নৃষ্লার্দুলক্ষাণাং বৃততস্তমবগচ্ছসি।” 
হে স্থুন্দরি, তুমি বনে কখনও যাঁও না, গৃহে বসিয়! কিরূপে 
এই মনুস্যু, ভন্তুক ও ব্যাত্র ঘটিত বৃত্তান্ত অবগত হইলে ? 
স্্রীবেশী কবি বলিলেন-_ 
“দেবগুকপ্রসাদেন জিহ্বাগ্রে মে সন্বস্বতী | 
তেনাহং নৃপ জানামি ভানুমত্যান্তিলং বা ॥” 
হে ভূপ” দেবতা ও গুকদেবের কৃপায় আমার জিহবাগ্রে 


৬ উত্ত শৌকচতুষ্টয়ের আদা অক্ষর লইলে “স সে মি রা” হইঘে। ১54 
সন্বক্ধেও কহিত হইয়! থাকে! 





৮৪ প্রবন্ধাষ্টক | 
সরন্বতী স্বয়ং বিরাজমানা ; আমি এই কারণেই এই সকল গুহ্য 
বৃত্তান্ত অবগত আছি, এই জন্যই ভানুমতীর তিলের কথাও 
জানি। 

তখন বিক্রমাদিত্যের চৈতন্য হইল এবং ছল্মবেশী রমণীকে 
কালিদাস জানিয়৷ পুনশ্চ তাহাকে সাদরে গ্রহণ করিলেন । 

একদ। কালিদাস স্বীয পুত্রকে পভাইতেছিলেন-__“ম্থদেশে 
পৃজ্যতে রাজা বিদ্বান্‌ সর্বত্র পুজ্যতে ।” দৈবাৎ এ পথ দিয়া রাজা 
বিক্রমাদিত্য যাইতেছিলেন , বাজ কেবল ম্বদেশে এবং বিদ্বান্‌ 
সর্বত্র পুজ্য, এই কথা তাহার অসহ্য হইল। তখন রাজাও কবি 
পরামর্শ করিলেন,উভযেই আবৃতি গোপন করিষা বিদেশে পর্য্যটন 
করিবেন, দেখা যাইবে কাহার কত সন্মান। কিছু দিন ভ্রমণ 
করিলে পর রাজার" অর্থ ফুরাইয়!ণগেল ; অবশেষে স্বীয হস্তের 
অঙ্গুবীয় বিক্রুষ পুর্ববক উদর পোষণ করিবেন, এই অকিপ্রায়ে 
মণিকারের তোকানে গেলে এঁ ব্যক্তি উহাতে বিক্রমা্দিত্যের নাম 
অঙ্কিত দেখিযা ছন্সবেশী বাজাকে চোর মনে করিযা বন্ধনপুর্ববক 
তদেশীয় নরপতির সমীপে ৪সানয়ন করিল। এদিকে কালিদাস 
এঁ দেশেরই নৃপতির সভাঘ আসিয়! বিদ্যাবলে রাজার সন্তুষ্টি সাধন 
করি! সবে স্বচ্ছন্নে কাল কাটাইতেছিলেন। চৌর বেশে বিক্র- 
মাদিত্য যখন রাঁজসভায় আসিলেন, তখন কালিদাস চিনিতে 
পারিয়া বলিয়া উঠিলেন, “স্বদেশে পৃজ্যতে রাজা বিদ্বান্‌ অর্থবত্র 
পুজ্যতে* তখন সমস্তই প্রকাশ পাইল, জগতে বিদ্ভার গৌরব 
অক্ষু্জ রূহিল ৷ 


কালিদাসের কাহিনী। ৮৫ 


কালিদাস তিথি বিশেষে মৌনাবলম্বন করিয়া ছন্মবেশে 
থাঁকিতেন। এতদবশ্থায় একদা! রাজপুকবেরা তাঁহাকে সামান্য 
লোক বিবেচনায় রাজার শিবিকা বহনে নিযুক্ত করিয়! দিল। 
অনভ্যন্ত কার্যে নিযুক্ত হইয়া ক্ষণমধ্যেই কবিবরের শ্রাস্তি 
জন্মিল ; ইহাতে রাজ! তাহাকে লক্ষ্য করিযা বলিলেন__ 

“ক্ষণং বিশ্রাম্যতাং জালা স্বন্ধন্তে যদি বাধতি ॥% 

রে মুঢ, যদি তোর কাধে বেদন! ধরিষা থাকে তবে ক্ষণকাল 
বিশ্রাম কর্‌। ““বাধতি” এই পরস্বৈপদী অশুদ্ধ প্রয়োগ শুনিয়। 
কালিদাসের মৌনব্রত ভঙ্গ হইয়া গেল; তিনি বলিয়া 
ফেলিলেন,__ 

গন বাঁধতে তথা ক্ষক্কো যথা বাধতি বাধতে ॥1৮ 

আমার কাধে তেমন ব্যথা,বোধ হইতেছে! নাঃ যেমন আপনীর 
মুখে “বাধতি” প্রযোগ শুনিযা বোধ হইল | 
, ইঠুলশীষ কবি গোল্ড্ম্মিথের শ্যায কবি কানিদাসও দাঁন- 
কার্যে অপরিণামর্দর্শী ছিলেন। একদা সর্বস্ব দান করিয়া, এমন 
কি পরিধেয় বন্ত্রখানি পর্যন্ত বিলাইয়৷ দিয়া, কবিবর আবক্ষঃ 
জলে গিয়! দীডাইয়া রহিলেন। রাজা বিক্রমাদিত্য জানিতে 
পারিয়া বলিলেন__ 

“অসম্যগ্ব্যয়শীলস্য গতিরেতাদৃশী ভবেত ।” 

যাহারা ব্যয় করিতে অগ্র পশ্চা্ বিবেচন! করেনা, তাহাদের 
এইরূপ ছুর্দশাই ঘটে ! 

কালিদাস উত্তর করিলেন__ 


৮৬ প্রবন্ধাষ্টিক | 


“তথাপি প্রীতকথায নাগ তশ্ঠৈব গ্বীয়তে ॥” 
তথাপি লৌক নিদ্রা হইতে উঠিয়। এ ব্যক্তিরই নাম ক্বীর্ন 
করে, কৃপণের নাম কেহ লয না। 

কালিদাস অলোকসামান্ঠ কবিস্বশক্তিসম্পন্ন হইলেও, ফিং- 
বদস্তীব মতামুসারে, তিনি নাকি তত “ভাবুক” ছিলেন মা। 
তাই রাজা বিক্রমাদিত্য কবিতারসমাধূর্য বুঝাইষ! দিবার জন্য 
একজন “'ভাবুক' বাখিযাছিলেন। কালিদাস কিন্তু এ বিষয়ে 
বন্ড রাজি ছিলেন না। তাই রাজা একদিন ভাবুকের আবশ্যকতা 
দেখাইবার নিমিত্ত কবি ও ভাবুক সমভিব্যাহারে সান্ধা সমীরণ 
সেবনার্থ বহির্গমন করিলেন এবং কবিকে মৃহলবাতসঞ্চালিত 
একটি মুকুলিত আত্বৃক্ষ দেখাইয়া! উহা বর্ণনা করিতে বলিলেন ॥ 
কাঁবি তৎক্ষণাৎ বলিলেন__ 

ইযং সন্ধ্যা দূরাদহমুপগতো স্ত মলয়াৎ 

ত্বমেকা ত্বদেগহে বিনযবতি নেষ্যামি রজনীম্‌। « 
সমীরেণেত্যুক্তা নবকুন্থুমিতা চুতলতিকা 

ধুনানা মুদ্ধানং নহি নহি নহীত্যেব কুকতে ॥ 

“সন্ধ্যা হইযাছে, আমি বনুদূর মলযপর্ববত হইতে আসিয়াছি, 
তুমি একাকিনী আছ ; হে বিলাসিনি, অদ্য রজনী তোমারই 
গৃহে যাপন করিতে ইচ্ছা করি।” পবন এই কথাগুলি বলিলে 
অচিরপুষ্পিতা চুতলতা। যেন মস্তক বিকম্পিত করিয়া “না' “না” 
“না এইরূপ করিল। 

কক্তিদীয় শ্লোক ষথারীতি ব্যাখ্যা করিলে রাজা প্রশ্থ করি- 





কালিদাসের কাহিনী। ৮ 


লেন, নহি" এই শব্দটি তিনবার উক্ত হইল কেন? কৰি ছন্দঃ 
ও অলঙ্কার প্রভৃতি সম্পর্কীয় কারণ দর্শাইলে পর রাজা অসন্তুষ্ট 
চিত্তে ভাবুককে উহার তাতপধ্য ব্যাখ্যা করিতে বলিলেন। তখন 
ভাবুক বলিলেন, চুতলতাকে ““নবকুন্মিতা” বলা হইয়াছে । 
পন্ত্রীরজঃ পুষ্পমার্তববং |” ইহাতে, তিনবার 'নহি” বলাতে, “ত্রিরাত্র 
আমার সঙ্গে থাক হইবে না” চুতলতা ইহাই সুচনা করিতেছে । 
তখন এ ভাবুকেরই জয়জয়কার পাঁড়য়৷ গেল। 

কালিদাস সমন্ধে এইবপ নানা কাহিনী কিংবদন্তীমুখে 

প্রচারিত আছে, সমস্ত সংগ্রহ পুর্ববক প্রকাশিত করিতে গেলে 

প্রবন্ধ অতি বিস্তৃত হইয়া পড়েখ তথাপি কালিদ্াসের বেশ্যাসক্তি 
বিষয়ক দুইটি গল্প বলিয়া প্রবন্ধের উপসংহার করা যাইতেছে । 

প্রবাদ আছে, কালিদাস ও রাজা বিক্রমাপিত্য একই বারবনিতাতে 
আসক্ত ছিলেন। ইহাতে উভয়ে পরস্পর কিছু ঈর্যাস্বিতও ছিলেন। 
'একদিন্ বিক্রমাদ্দিত্য বারবনিতাকে শিখাইয়া দিলেন, “কালিদাস 
আসিলে তাহার" মাথা মুডাইযা দ্িবে।” বারবনিত! তাহাই 
করিল, কিন্তু কালিদাসও উহাকে শ্খাইয়৷ দিলেন, “তুমি রাজা 
আপিলে তাহাকে ঘোড়া সাজাইয়। তাহার উপর আরোহণ করিবে 
এবং তাহার দ্বারা ঘোড়ার হ্ষারব করাইবে ৮” এঁ স্ত্রীলোক 
কালিদাসেরও অনুরোধ পালন করিল । অনন্তর পরদিন রাজ- 
সভায় সমবেত পগ্ডিতমণ্ডলী মধ্যে সমাসীন হুইয়।৷ রাজা 
বিক্রমাদিত্ট কালিদাসকে প্রশ্ন করিলেন__ 

“কালিদাস কবিশ্রেষ্ঠ মুশুনং কুত্র তে কৃতং & 





৮৮ প্রব্ধাষ্টক। 





কবিশ্রেষ্ঠ কালিদাস! কোথা আপনার মুণ্ডন করা হইল? 
কালিদাস তৎক্ষণাৎ উত্তর করিলেন-- . 


“ষন্মিন্‌ ভবান্‌ হয়োভূত্বা চি'ইশী শক্মথা করো” 
যেখানে মহারাজ ঘোড়া হুইয হ্রেষা রব করিয়াছিলেন । 
বিক্রমাদিত্য পরাস্ত হইলেন। 
আর একদিন কালিদাস বারবনিতার ভবনে শিযাছেন, এমন 
সময়ে রাজা বিক্রমাদিত্যও হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হইলেন। 
কালিদাস অমনি পারস্য গৃহে লুকায়িত হুইযা রহিলন। নান! 
হাশ্য-পরিহাসের পর রাজ এ বনতাব স্তনযুগলে হস্তা্পণ করিয়া 
বলিলেন-_ 
“তব তত্থি স্তনাবেতৌ নিতে চক্রবর্তিনৌ।” 
হে স্বন্দরি! তোমার স্তনযুগল নিশ্চয়ই চক্রবর্তী রাজার ন্ায়। 
বিক্রমাদিত্য এই শ্লোকার্দ বলিয়া অপরার্ধ বলিতে না 
বলিতেই কালিদাস উত্তর করিয়া বসিলেন__ ॥ 
“আসমুত্রকরগ্রাহী ভবান্‌ বত্র করপ্রদঃ ॥” 
যেহেতু সাগরান্ত পৃথিবীর সর্বত্র করগ্রহণক্তারী মহারাজা- 
ধিরাজ স্বয়ং উহাতে কয় ( অর্থা হস্ত বা রাজন্ব ) প্রদান 
করিয়া থাকেন। 
ইহাতে রাজা লজ্জিত হুইয়া তত্ক্ষণাৎ বারবনিতার গৃহ 
হইতে চলিয়া যান। রাজা কষ্ট হুইয়৷ চলিষ! গিয়াছেন, আর 
আসিবেন *না, এবং কালিদাসই ইহার মুল, এই ভাবিয়া এ 


কাঁলিদাসের কাহিনী । ৮৯ 


পাপিষ্ঠা কালিদাসের বধ সাধন করিল। সরন্বততীর অভিশাপ 
সফল হইল । % 


[ সাহিত্য সেবক জ্যৈষ্ঠ ১৩০২ 


* ভোজ প্রবন্ধের কধা ইতিপূর্ব্বে উল্লেখ কয়া “গিয়াছে । উ্াতেও কালিদাসকে 
ম্পট যলিয়। বর্ণনা কর! হইয়াছে। কিন্তু এ গ্রন্থ পাঠ'করিলে বুঝা যায় কালিদাম 
বিক্রমাদিত্যের তিরোভাধের পর ভোজসভাযর় আগমন করেন। তাহ! হইলে কালিদাসের 
এই মৃত্যু কাহিনী নিশ্চয়ই অলীক । অপিচ, অষ্টসিদ্ধিযুক্ত রাজ। বিক্রমাদিতা জিতেক্রিক় 
ধার্পিক ও যিলাসশুন্ত ছিলেন , ইহাতে তদীয় বেস্তাপরা়ণতার গল্পও অলীক বলিয়াই 
*মোধ ভর। 


কাদম্বরীর উপাদান । 


শী 


সহৃদয় সংস্কৃত সাহিত্য সেবক মাত্রেই বোধ হয় মহাককি 
বাণভট্ট কৃত কাদস্বরীর সমগ্র না হউক কোনও না কোনও অংশ 
অধ্যয়ন করিয়াছেন । কিন্তু, কাদম্বরী রসভরে মত্ততানিবদ্ধন, 
বোধ হয অনেকেই কোন্‌ উপদানে এই কাদম্বরী প্রস্তুত 
হইয়াছে তাহার অনুসন্ধানের অবসরও প্রাপ্ত হন নাই। 

বড় বড কাব্যকারগণ গ্রন্থ প্রণযনে কুস্তকার বৃত্তি অবলম্বন 
করিয়। থাকেন । কুস্তকার প্রতিম! নিশ্মীণ করে, তাহার উপা- 
দাঁন মাটি, খড, বর্ণ তুলিকা কিছুই তাহার নিক্ষের প্রস্তুত নহে; 
কৰিগণ কাব্যে যে সমস্ত শব্ধ প্রযোগ করেন, তাহার একটিও 
নিজের নির্দিত নহে। কুম্তফার দুর্ামুণ্তি নিন্মাণ করে খ্যানাদি 
পুরাণোক্ত বর্ণনা অবলম্বন করিয়া ; কালিদাস কুমারসম্ভব প্রণয়ন 
করিলেন শিবপুরাপ সমাশ্র করিয়া । কুম্তকার যেরূপ বাজার 
হইতে বর্ণ ও অলঙ্কারাদি সংগ্রহ করিষা প্রতিমার সৌন্দর্য্য 
সম্বর্ধন কবে, সেইরূপ কবিও শব্দ ও কাব্য বাজার হইতে রস ও 
আলঙ্কার আহরণ করিয়া কাব্যের শোভ। সম্পাদন করেন। সুক্ষ 
কৃষ্ণনগরের ঝুম্তকার যেরূপ মধ্যে মধ্যে প্রাকৃতিক জীব জন্তু 
প্রস্তুতির অবিকল মুস্তি প্রস্তুত করিয়া লোকের চিত্ত হরণ করিয়া 
থাকে, ভুনিপুণ কৰিগণও তেমনি প্রকৃতির অক্ষয় ভাণ্ডার হইতে 


কাদম্বরীর উপাধান। ৯১ 


যধ্যে মধ্যে উপাদান সংগ্রহ করিয়া সদয় জনগশের হদয়াকর্ষণ 
করিয়া থাকেন। কিন্তু কুস্তকারের বাছাছুরী উপাদানের ঘথা- 
স্থানে সন্নিবেশ করা, কবিরও চমণ্কারিত্ব ঠিক এ স্থলেই। 
ফলতঃ শন্স্থান হইতে উপাদান আহরণে বে কবির কি শিল্প- 
করের মহদ্বের কিছু হাস হইবে এমন ভাব হৃদয়ে পরিপোষখ 
কর! অসহৃদয়তার কাধ্য। কবি বলেন, ““সহত্রন্তণমু্অষ্ট - 
মাদত্তে হি রসং রবিঃ”; আমরাও তাহারই সম্পর্কে বলিব, ““সহত্র- 
গুণ মৃত্ত্র্ঠ,ং আদত্তে হি রসং কবিঃ 1” 

ঘাহ৷ হউক, বাণভট্ট তাহার কাদম্বরীকথ৷ কথাসরিতসাগর 
হইতে সংগ্রহ করিযাছেন। 'কখাসরিৎসাগর আবার বৃহত্কথ। 
নামক গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার। বৃহত্কখার কথামাত্র অবশিষ্ট 
আছে; গ্রন্থ খানি এখন আরু দেখা যায় ন।” সংস্কৃত সাহিত্যে 
এক্ধূপ কত বৃহত্কথার ষে লোপ হুইযাছে তাহার কে হযস্তা 
করনে? নানা কথোপকথাবল্ীর সমগ্টীভূত কথাসরিসাগর 
বাস্তবিক অনর্থনামঈ!, এব* কাদন্বরী, বত্রাবলী, নাগানন্দ ইত্যাদি 
অনেক বড় এই সাগর হইতে আহত হইযাঁছে। প্রকাণ্ড কথা- . 
জরিশুসাগর যে গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত সার সেই ধৃহতুকথা যে কত বৃহৎ 
ছিল, তাহ! সহ্গদয়ের অন্বমেয মাত্র | 

কখাঁসবিশুসাগর আরব্যোপন্যাসের ন্যায় নানাগল্পসমন্থিত 
বাদশাহপত্বী শাহারজাদী স্বামী ও ভগিনীর চিত্ত বিনোদনার্থ 
নানা গল্লের' অবতারণা করেন, তাহাতেই আরয্যোপস্তাসের গল্প- 
বিদ্যাস। কখাসরিতসাগরেও বসরাজ, ততপত্ী, কি তৎপুঞ্জ 





৯২ প্রবস্থাষ্টক ( 





নরবাহছন দত্তের মনোরগ্রনার্থ মন্ত্রী অমাত্য পারিষদ প্রভৃতির 
প্রমুখাৎ নান! গল্পের অবতারণা! হইয়াছে । 

একদা বতস রাক্ের পুজ নরবাহন দত্ত, কোনও এক 
দিব্যাঙ্গনার বপলাবণ্যে মোহিত ও তদীয় পাঁণিপীভনে লোলুপ 
হুইয়। নিতান্ত ব্যগ্রতা প্রদর্শন ও বিরহান্ুভব করিতে করিতে 
অবশেষে হতাশ হইয়! পডেন। বুদ্ধিমান মন্ত্রী গোমুখ তদীয় 
উত্কট আগ্রহাতিশয্য নিবন্ধন হতাশাবস্থা নিরীক্ষণ করিয়া, 
সাম্তবনার নিমিত্ত উপদেশচ্ছলে, অদ্ভুত শুক ও চগ্ালদারিকার 
প্রস্তাবের অবতারণ। করেন, এবং “এ জগতে মানবের ভবিতব্য 
মিলনাদি অতিদীর্ঘ বিচ্ছেদের পরেঁ€ ঘটিতে পারে” এই বলিয়া 
উহ্হার উপসংহার করেন। সই প্রস্তাবই প্রকৃত প্রস্তাবে 
কাদিগ্ঘরীর উপাদান 1 

উক্ত গল্পটি যদিও কাদন্বরীর প্রস্তাবের ন্যায় স্থদীর্ঘ নহে, 
তথাপি উহার*আযতন এত ক্ষুত্র নহে যে এতৎ পত্রের “ছ্বাদশ 
পৃষ্ঠেও উহার সন্কুলন হইবে । অথচ ইহার একটি ছত্রমাত্র বাদ 
দিলেই হয়ত গল্লের খঅবযুবের হানি হইবেক, ইহা! এতদূর 
সংক্ষিপ্ত! কথাসরিসাগরের উনষস্ঠিতম অধ্যায়ে গল্পটি লিখিত 
আছে। ধাঁহার! কাব্যামোঁদী তাহারা উক্ত স্থানটি পাঠ ককন, 
বুঝিবেন কবি কীদৃশ সামান্য উপকরণ সম্বল করিয়া কিরূপ 
মনোহর বন্ত জগতের বিনোদনার্থ নিম্মীণ করিয়াছেন। 

কাদস্বরী সমগ্র বাণভট্ের রচিত নহে, ইহা সকলেই অবগত 
ক্ান্কেন।« কাদম্থরীর পূর্ববার্ধ অর্থাত ঘে টুকু বাঁগ স্বয়ং রচনা 





কাদম্বর'র উপদান। ৯৩ 





করিয়! গিয়াছেন, তাহার রক্তমাংসন্বরূপ অসংখ্য বূপকোপমোৎ- 
প্রেক্ষাপরিসংখ্যাঁসমন্থিত অশেষ স্বদীর্ঘসমাসাঢ্যপদরাঞ্জিবিরা- 
জিত শু্রকপুরী, বিন্ধ্যাটবী, জাবালির আশ্রম, অচ্ছোদ 
সরোবর, তপস্থিনী মহাশ্বেতার আশ্রম প্রভৃতির স্বমধুর অথচ 
অতিবর্ণনাগুলি পরিত্যাগ করিলে যে মস্িপঞ্জর নিরীক্ষিত 
হুইবে, তাহা অবিকল কথাসরিৎসাগর হইতে উদ্ধৃত। তবে যে 
কিছু পার্থক্য, তাহ! কেবল কথাম্থ নাক উপনায়ক প্রভৃতির 
নামকরণে এবং ঘটনাবলীর স্থান নির্ধারাণ। কিন্তু, কথ সরিৎ- 
সাগরশ্থ প্রস্তাবের জ্যোতিষ্প.ভ, সোমপ্রভ, হর্ষবতী, কাঞ্চনাভ, 
মকরন্দিকা ইত্যাদি নামের সরে যথাক্রমে কাদম্বরীকধোল্লিখিত 
তারাপীভ, চন্দ্রাপীভ, বিলাসবতী. হেমকুট, কাদস্বরী প্রভৃতি 
নামের অর্থ ও ধ্বনিগত বিল্লক্ষণ সৌসাদৃ্ট পরিলক্ষিত হয় । 
আবার কাঁদন্বরী কথাতে, চন্দ্রাপীডের পরিচারক ও পরিচারিক! 
মেঘনাদ ও পত্রলেখার সামান্য চরিত ভিন্ন, নুতন চরিরর আর 
কিছুই সমাবেশিত' হয নাই বলি'লও চলে। ফলতঃ বাণভট্ট 
নূতন ঘটনা বা চরিত্র আবিষ্কার বড ,পারদর্শী ছিলেন না, ইহা 
কাদন্বরী ( এবং হর্ষরাজের প্রকৃত জীবনীর ঘটনাবলম্বনে লিখিত 
হর্ষচরিত ) দৃষ্টে স্প্টই অনুমান করা*যায়। কিন্তু তিনি যে 
প্রকার রচনামাল! দ্বার সংস্কৃত ভাষাকে অলঙ্কৃত করিয়াছেন, যে 
রূপ মনোহারি বর্ণনাদি দ্বারা কাব্য ভাণডারের শ্রীবৃদ্ধি করিযাছেন, 
শুকনাসের মুখে চন্দ্রাপীডের প্রতি উপদেশ, চন্দ্রাপীডের মুখে 
ব্রহ্ষচর্য্যাবলম্ঘিনী মহাশ্েতার পাতিব্রত্যের প্রশংসা, প্রস্থৃতি স্থলে 


৯৪ গ্রবন্ধাইক । 


বে কল জ্ঞানগর্ভ রচনাবলী রাখিয়া গিয়াছেন, তাহা সাহিত্য 
সংসারে সচরাচর হুল 'ভ। 

বাণভট্ট কাদদ্বরীর প্রায় তিন চতুর্থাংশ রচন| করিয়া পরলোক 
গত হইলে তদীয় উপযুক্ত পুক্ঞ ভূষণ ভট্ট গল্পের শেষ কামনায় 
জপরাংশ ন্বয়ং রচন। করেন। তাহার রচন৷ কিবপ, পিতার রচনা- 
পেক্ষা উ€কৃষ্ট কি অপকৃষ্ট,ইত্যাকার বিষয় অন্য আমাদের আলোচ্য 
নহে; কিন্তু তাহার স্বরচিত কাদন্বরীর শেষাংশ এবং সরিৎ্সাগরস্থ 
গল্পের অবশিষ্টাংশ তুলন৷ করিলে স্পষ্টই দেখা যায যে তিনি কথা- 
সরিগুসাগরের সহিত সমস্ত জম্পর্ক পবিত্যাগ করিয়াছিলেন । 

তিনি কথাসরিৎসাগরের বিষয়ে সম্পুর্ণ অনভিজ্ঞ ছিলেন ইহ! 
কল্পনা করাও বাতুলত্ব মাত্র। তাহার উক্ত গ্রন্থ অবলম্বন না করার 
বথেষ্ট কাৰণ ছিল ।“তশ্মপ্যে প্রধানু কারণ এই যে, যে পর্য্যন্ত অৰ- 
লম্বনে বাণভটট পূর্ববাদ্ধ লিখিয় যান সৌভাগ্য বশতঃ সে পর্যস্ত 
কথাসরিৎসাগরের প্রস্তাবটি বেশ একটু সুসঙগত ও গ্রীতিপ্রদ। 
কিন্তু ইহারই পর হইতে প্রস্তাবটি যেন হঠাৎ ও অসঙ্গতরূপে 
উপসংহৃত্ত হহয়াছে। স্তরাং পিতার লিখিত অংশের স্থুসঙ্গতো- 
পসংহার করিতে হইলে, বাঁণপুক্সের এতাদৃশ অসঙ্গতাংশ পরিহার 
ও সঙ্গত প্রস্তাবের নূতন কল্পনা করা ভিন্ন অন্য উপায় ছিল না। 
কথার স্যার, লিখিত জাছে যে জ্যোতিষ্প,ভ (তারাপীড় )-মভিযী 
গর্ভাবস্থায় স্বপ্পে দেখেন তাহার মুখে চন্দ্রমা প্রবিষ্ট হইতেছেন, 
এবং তক্ষন্তই নবজাত কুমারের নাম সোমগ্রভ (চন্দ্রাপীড় ) 


ফাহবীর উপদান। ৯৫ 


রাখা হয়। _ কথাসরিৎসাগরের গল্পের কোনও অংশে এই 
অলৌকিক ঘটনার আর কোনও উল্লেখ বাঁ হেতুপ্রদর্শন কিছুই 
নাই। বাণপুজ্র সেই ঘটনাটির উপর নির্ভর করিয়া, চন্দ্রও 
পুগুরীকের পরস্পর অভিশাপ এবং তন্মুলক নান! বিচিত্র ঘটনার 
সমাবেশ করিয়াছেন, যাহাৰ কিছুমাত্র উল্লেখও কথা সরিত- 
সাগরে নাই । বস্তৃতঃ বাণপুজ্র শেষাংশে কথা৷ সরিৎসাগরের 
অবলম্বন না করিয়া! যে ভালই করিযাছেন, তাহা) ফিনিই উভয় 
প্রস্তাব পাঠ কবিবেন, তিনিই অনাযাসে বুঝিতে পারিবেন । 
পুজ, মাত্র পিতার গল্পটিব দিকে দৃষ্টি রাখিয়া, নিজের কল্পনার 
আশ্রয়ে, যতদুর সঙ্গতি সহকাযে পাবেন, গল্পটিব উপসংহারে 
মনোনিবেশ করিয়াছিলেন । 

প্রবন্ধ অতিদীর্ঘ হইযা পড়িল। সহৃদয় পাঁঠকবুন্দ দেখিলেম, 
বাণভট্রের কাদম্ববীকথাব, এঁ কথাসরিৎসাগরস্থ গল্পটিই প্রধান 
উপাদান্ন। কিন্তু যে উপাদান প্রভাবে কাদন্বরী সংস্কতজঞঞ ব্যক্তি- 
মাত্রেরই আদরণীয়! ও মনোমুগ্ধকরী, এবং কথাসরিৎসাগর হইতে 
সহজ্জগুণে অধিকতর প্রসিদ্ধা, তাহা৷ কেবল কবির স্বকীয় প্রতিভা । 
মেই প্রতিভা বলে বাণভট্ট যতদিন সংস্কৃত ভাষা! জগতে বর্তমান 
থাকিবে ততদিন অমর হইয়া গন্ভ কবিকুলের চুভামণি কপে 
জবস্থান করিবেন । * [সারশ্বতপত্র ১২ই বৈশাখ ১২৯৯1 








পাশ্চাতা অতানুযারী প্রনথতবধিদধি্ৎসমারের এই মত যে কথা সরিৎসাগর 
কাদন্বরীর আনক পরে সঙ্কলিত হইরাছে । তবে যে কথাসরিৎসাশরস্থ গল্পটি।ও ফাদন্বরী 


পূর্ণানন্দ গিরি ও কামাখ্য। মহাগীঠ। 


কপাট কিক শী 


ইদানীং আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে এবং গোয়ালন্দ ডাক- 
জাহাজ প্রভৃতির কল্যাণে আসাম প্রদেশে যাতায়াত অতিশয় 
সহজসাধ্য হইযা উঠিযাচ্চে। মধ্যে যখন মাত্র মাল জাহাজ 
ব্হ্মপুজ উজাইয়া আদিত, তখনও আসাম আসা পূর্ববাপেক্ষা 
কিছুটা স্থগম হইয়া! পভিয়াছিল। কিন্তু ইহার পুর্ববে যখন 
জলপখে নৌকা এবং স্থলপথে পর্ববতভেদী রাস্তা মাত্র গতা- 
য়াতের উপায় ছিল তখন আসামে ভিন্নস্থানেব লোক আসিতে 
চাহিত না। যাহুর। আমিত তাহার! নিতান্ত দায়ে পড়িয়াই 
আসিত; দেশে অনুপায় না ছইলে কেহ এখানে আসিত 
না। একবার আসিলে পথক্রেশ স্মরণ করিয়া এবং স্বদেশের 
অসচ্ছলতা ইত্যাদি ভাবিঘা "সহজে বড কেহ হু ফিরিযা যাইতে 








কথার এত ঘনিষ্ঠ সৌসাদৃগ্, তাহার কারণ এই যে বৃহতকথা , অবস্ত কাদ্বরীর পৃর্ব্বেই 
প্রণীত হুইক্জাছিল, এবং সেই বৃহৎকর্থারই সংক্ষিপ্ত সার কথাসরিৎসাগর। যাহ। হউক, 
"আত্মা! বৈ জায়তে পুত্রঃ" এই শ্রতানুনারে, সরিৎসাগর, বৃহতের সংক্ষিপ্তসার হেতুতে পুত্র। 
পিতার অবর্তমানে, পিতৃধনে পুঝ্রেরই অধিকার, এই স্তবত্যন্ুসারে, বৃহৎকথ। চিরবিলুপ্ত 
হওয়াতে কাদস্বরীকখোপাদানিতবমূলকযশোধনের অধিকারী কথাসরিৎসাগর কি না, এবং 
“ভূতে পন্তা্তি বর্ধবরাঃ” এতৎ প্রবচনানুসারে, যে বৃহতৎকথা বিনষ্ট হইয়। ভূতত্ব প্রাপ্ত 
হইয়াছে, তাহীর কথ! বারংবার উল্লেখ করতঃ ততপ্রতি দৃষ্টিপাত কর৷ বর্তবরত্ব মাত্র কি না, 
তাহ নুখবীগণের বিভাধ্য । বোধ হয় তশ্লিমিত্তই প্রবন্ধকার বৃহৎকথার কথা না বলিয়া 
খারখায় কঞ্থসরিৎসাঁগরের কথাই বলিয়াছেন । ইতি কল্তচিৎ কাদরী প্রসঙ্গ প্রমত্তগ্ত । 


পূর্ণানন্দ গিরি ও কামাখ্যা মহাপাঠ। ৯৭ 


চাহিত না এইখানেই বিবাহাদি করিয়। সংসারধাত্র! নির্বধাহ 
করিত। এই নিমিত্তই বোধ হয় প্রবাদ হইয়াছিল, “আদামে 
আসিলে ভেডা বনিয়! যায় ।” 

ঘখন অবস্থা এই ছিল, তখন ভাল লোক আপামে আসিয়া 
ফিরিয়া গিয়া যে আসামের প্রকৃত বিবরণ প্রকাশ করিবে তাহার 
সম্ভাবনাও কম ছিল। ন্ুতরাং আসামের ইতিহাস কেহ বড 
জানিত না । না জানাটা বড একটা যে ক্ষতির বিষয় ইহাঁও 
কেহ মনে করিত না। ফল কথা আসাম ও ইহার ইতিবৃত্ত বিষয়ে 
বঙ্গদেশে একটা ওদাস্য-অবহেলার ভাবই পরিলক্ষিত হইত। 

তখন মা কামাখ্যাই আসামকে বহির্জগতের সঙ্গে কিছুটা 
জডাইয়া রাখিয়াছিলেন।. বাঙ্গালীজাতি চিরকালই তীর্থপর্য্টটনের 
নিমিত্ত বিখ্যাত। গযা', কাশী,,হরিদ্বার বৃন্দাবন বা শ্রীক্ষেত্র যে 
খানেই বাও না কেন, যাত্রিকের ভূরিভাগ বাঙ্গালী দেখিতে 
পাইবে ৯ কামাখ্য। দর্শনের নিমিক্ত সুতরাং বাঙ্গালাদেশীয় নর- 
নারী বহু ক্লেশ স্বীকার করিয়াও কামবপে আসিত। কিন্তু 
যাহারা ধণ্মার্থে আসিত, তাহাদের মধ্যে কদাচিৎ প্রাচীন তত্বের 
অনুসন্ধানলোলুপ লোক দেখা যাইত । কামাখ্যার মন্দির কে 
কখন নির্মাণ করাইয়৷ দেন, কামাখ্যার সেঁবাপুজার বিধিব্যবস্থা কে 
করিয়া দিয়াছেন, ইহারও কেহ খবর লইত কিন! সন্দেহ, কামাখ্যা 
মহাপীঠের আবিষ্ধার কিবপে হুইল, তাহা ত দূরের কথা। 

বঙ্গদেশের জনগণমধ্যে বোধ হয় সাধকগ্রাবর মহাত্মা 
পূর্ণানন্দ গিরিই সর্ব প্রথম কামাখ্যা তীর্থ দর্শন করিতে আসেন; 


৯৮ প্রবন্ধা্টক। 





অথবা বোধ হয় তিনিই সর্ব প্রথম বঙ্গীয় জনসমাজে এই 
মহাপীঠের মাহাত্ম্য প্রচার করেন। তাই সাধারণ লোকের মধ্যে 
একটা ধারণ! জন্বিয় গিয়াছিল যে পূর্ণানন্দ গিরিই এই মহা- 
গীঠের আবিষ্কর্ত। এবং সেই ধারণা আজিও কোন কোন স্থানে 
অব্যাহত রহিয়াছে । 

মহাত্মা পূর্ণানন্দ ব্দেশের গৌরবাস্পদ। তিনি কামাখ্যা 
পীঠের আবিষ্কারক এই ধারণাই যে তাহাকে গৌরবের আসনে 
বসাইয়াছে তাহা নছে। তিনি শক্তিসাধনায় সিদ্ধি-লাভ করিয়। স্বয়ং 
ধন্য হইয়াছেন এবং তীহার উদ্ধতন ও অধস্তন পুরুষদিগকে উদ্ধার 
করিয়া গিযাছেন। “পূর্ণানন্দ বংশীয়” বলিয়৷ আজিও তদীয় 
বংশধরগণ স্বীয় সমাজে আপামর সাধারণের নিকট অশেষ সম্মান 
লাভ করিতেছেন 1 এতত্যতীত, তিনি বছ ধর্দ্গ্রন্থ প্রণয়ন 
করিযা তন্বপিপান্থ ব্যক্তিগণের অশেষ উপকার সাধন করিয়। 
গিয়াছেন। ঘ্তজ্জন্য তাহার নাম শাক্ত হিন্দুসমাজে আবহমান 
কাল কৃতজ্ঞতা! ও সম্মান সহকারে স্ঘুত হইবে। ফলকথাঃ তিনি 
কামাখ্যা পীঠের আবিফারক,নহেন, ইহা প্রচারিত হুইলে তাহার 
গৌরব-মাহাত্ম্যের বিশেষ ক্ষতি হইবার কোনও আশঙ্কা নাই। 

বছুদিন হইল “আরতি” পত্রিকায় *% “পুর্ণানন্দ পরমহংস* 
শীর্ষক একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হুইয়াছিল। ইহার লেখক 
মহাশয়ও সাধারণ ধারণার বশবর্তী হইয়া তাহাকে কামাখ্যা পীঠের 
উদ্ধারকারী বলিয়া নির্দেশ করিয়াছেন। এই বিষয়ে উক্ত 


পূণ গর ও কামাখয মাপীঠ। ৯৯ 








প্রবন্ধে কোনও প্রমাণ প্রয়োগ দৃষ্টি হয় নাই। যাহা হউক এই 
ধারণার মূলে যে যাথার্থ্য নাই, ইহা, এবং মহাপীঠের আবিষ্কার 
সম্বন্ধে আসাম প্রদেশের ইতিহাসে কি কি কথা বর্ণিত আছে 
তাহা, এবঞ্চ পীঠ সম্বন্ধীয় অবশ্য জ্ঞাতব্য অপর ছুই একটি বিষয় 
বলিবার নিমিত্তই এই প্রবন্ধের অবতারণা । 

কোচবিহার বাজ্যের অধিপতিগণ ধশববংশীয় বলিয়! প্রসিদ্ধ। 
কথিত আছে যে কোচ-রমণীব গর্ভে মহাদেবের ওঁরসে বিশু ও 
শিশু নামে দুইটি বালক জন্মে । ইহারা বযঃপ্রাপ্ত হুইয়৷ বাছ- 
বলে জন্মস্বানেক আধিপত্য লাভ করিয়া “বিশ্বসিংহ” ও 
“শিবসিংহ” এই নাম ধারণ *পুর্বরক ক্রমশঃ রাজ্যের বিস্তার 
কবিতে করিতে সমগ্র কামবপ প্রদেশের অধীশ্বর হইয়া উঠিয়া 
ছিল। সেই সময়ে কামবপ কুরতোধ! নদী পর্য্যস্ত বিস্তৃত ছিল; 
কালক্রমে পুর্ববাংশ হইতে পশ্চিমাংশ বিচ্ছিন্ন হওযায় বিশ্বসিংহের 
বংশধরগ্নরণের রাজত্ব কোচবিহারে* সীমাবদ্ধ হইযাঁ যায় এবং 
«কামবপ'ও বর্তমাম সংকুচিতাঁকার প্রাপ্ত হইয়াছে । 

মহাদেবের রসজাত কোচবিহার,রাজবংশের আদিপুকষ এই 
বিশ্বসিংহ মহারাজই কামাখ্যা মহাপীঠ আবিষ্কার করেন। এই 
বিষয় রায় গুগাভিরাম বকঘা বাহাছুর কৃত “আসাম বুরঞ্জি” 
€ ইতিহাস) গ্রন্থে আসামীয় ভাষায় যাহা! লিখিত হইয়াছে, 
তাহার অবিকল বাঙ্গাল! অনুবাদ নিম্গেপ্রদত্ত হইল। 

“বিশ্বসিংহ রাজা হইয়া প্রবল প্রতাপে রাজ্য পালন করিতে 

1 ৫৫. ৫৬ পৃ! ( ৪র্থ সংক্ধরণ )। 





১০৬ প্রবন্ধাষ্টক 1 





লাগিলেন। ক্ুমতাপুর নগর লওয়াতে এবং অগ্যান্য মেছ ও 
কোচজাতীয় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজাদিগকে পরাস্ত করাতে তীহার 
অনেক শত্রু হইল। সেইগুলিকে ক্রমশঃ দমন করিয়া! রাজা ও 
সাহার ভ্রাতা উভয়েই উজাইয়! গৌহাটির দিকে আসিলেন। এক 
দিন ছুই ভাই নীলাচল পর্ববতে গেলেন। সম্প্রতি যেমন এই 
পর্বত ধুজনাকীর্ণ স্থান হইয়াছে, তখন তেমনটি ছিল না। অতি 
সামান্ব মেছ বা কোচকুলের কযষেক জন মানুষ মাত্র সেখানে 
ছিল। বিশ্বসিংহ ও শিবসিংহ দুই ভ্রাতা সঙ্গের লোকজন 
হারাইয়া সেই মেছ বসতিতে গিয়া কোনও পুকষ মানুষেব 
সাক্ষাৎ পাইলেন না । কেবল একজন বৃদ্ধার দেখা পাইলেন। 
& স্ত্রীলোকটি একটা বট গাছের ছাযায বিশ্রাম করিতেছিল। 
সেই স্থলে একটা মাটির টিবি ছিল। অতিশয় পিপাসাতে রাজা এ 
বৃদ্ধার কাছ হইতে শুশ্রাঘা পাইলেন । গাছের নীচের মাটির টিকি 
সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করাতে, বৃদ্ধা: উহা! তাহাদেব দেবতা বলিয়া 
কহিল। রাজা সঙ্গীয় লোকজন সত্বর পাইবার 'জন্য সেই স্থলে 
প্রার্থন। করার অল্প পরেই 'উহারা আসিয়া সকলেই উপস্থিত 
হইল। এই প্রকারে সেই দেবতার মাহাত্ম্য জানিয়া রাজা সমস্ত 
বৃত্তান্ত জিজ্ঞাসা করাতে, উহাতে পুজা করিতে হইলে শূকর ও 
কুক্কুট কাটিয়া বলি দিতে হয় এবং উপচাররূপে স্ত্রীলোকের 
পরিধেয় বন্ত্ালঙ্কায় দিতে হয় শুনিয়া, উহা! শক্তি-পীঠ বা শক্তির 
স্থান জ্ঞানে তিনি এই লংকল্প করিলেন যে যদি তাহার দেশ 
স্থির হয়্এবং রাজ্য নি্ষণ্টক হয় তাহা হইলে সোপার মন্দির 


পূর্ণানন্দ গিরি ও কামাথা৷ মহাপীঃ | ১০১ 





নিশান করাইয়া দিবেন। রাজা আপন দেশে দশে ফিরিয়া আসার 
পর ক্রমশঃ দেশ স্থৃস্থির হইল। তিনি সমস্ত পণ্ডিতকে আহ্বান 
করিযা আনিয়।! সেই দেবতা স্থানের বিষষ অনুসন্ধান করাতে 
উহা কামাখ্যার পঠস্থান বলিয়া জানিলেন। পূর্বব প্রতিজ্ঞ! পালন 
করিবার নিমিত্ত, রাজা সেই গাছটি কাটাতে তাহার নিঙ্গে 
কামাখ্যার পীঠ বাহির হইল। এইবপে যোগিনীতন্ত্র এবং অন্যান্য 
পুরাণ দেখিযা রাজ তত্রস্থিত প্রা সকল পীঠই বাহির করিলেন । 
কামাখ্যা মন্দিবের তলেব ভাগটাও মাঁটির নীচ হইতে বাহির 
হইল। রাজা সেই তলেব খঞ্চের উপরেই মন্দির করিষা৷ দিলেন 
এবং সোণাব মন্দিরে পরিবর্তে প্রতি ই্টকখণ্ডে একরতি করিয়! 
সোণা দিলেন ।” ৃ 

এই বৃদ্ধাটি কে তাহ! বুরঞ্রিতে উক্ত হয নাই। বুঝি বা 
জগন্মাতা, সদাশিবের গুরসজাত পুণ্যপ্লোক মহারাজ বিশ্বসিংহই 
তদীয় মাপীঠেব আবিষ্কারক হইবাঁর যোগ্যপাত্র মনে করিযা, 
ককণা করিষ৷ স্বযং এই জবতীবেশে আপন পীঠের প্রকটনের 
উপায় নির্দেশ করিযা দিলেন । 

বুরঞ্জিতে সমস্ত পণ্ডিত আহ্বানেব বিষয উল্লেখ আছে। এই 
পণ্ডিতমগুলীতে কি পুর্ণানন্দ ছিলেন ? ইহাও অসম্ভব । মহারাজ 
বিশ্বসিংহ ১৪৫০ শকাব্দে অর্থাৎ ১৫২৮ খুষ্টাব্দে স্বর্গগামী হন । 
ইহা বুরঞ্লিলেখুক গুণাভিরাম বাহাদুরের মত।. কেহ কেহ এই 
ঘটনা ১৫৩৪ খৃষ্টাব্দে হয বলিযাঁও নির্দেশ করিযাছেন। * তর্কের 


(০ পাশ ফি শী 
* এই ব্যিয়ের বিচীর-বিতর্ক 111 (32108115091 ছঘাচ5৪ 006 300510105 





১৩২ প্রবন্ধাষ্টক। 


খাতিরে বিশ্বসিংহের মৃত্যুর তারিখ ১৫৩৪ খুষ্টাব্ই ধরিয়া 
নিলাম। তীহার রাজত্বকাল ২৫ বগুসর বলিয়া কথিত আছে। 
তাহা হইলে ১৫৩৪ খুঃ মৃত্যুর তারিখ ধরিলে সিংহাসনাধিরোহণ 
কাল ১৫০৯ খুঃ হয়। বুরঞ্তির উদ্ধ'তাংশ পাঠ করিলে দেখা 
যাইবে যে রাজার নীলাচল গমন ব্যাপার হইতে পগ্ডিতআহ্বান 
করিয়া পীঠস্থান নিপণ পর্যন্ত ঘটনাগুলি তাহার রাজন্বের 
প্রথমাংশেই হইবার সম্ভাবনা । যাহা ছউক এ পণ্ডিতআহ্বাঁন 
কার্য তদীয় রাজত্বকালের মাঝামাঝি সময়ে হইযাছিল ধবিলে 
ও উহার তারিখ ১৫২০ খুষ্টাব্ব নির্দেশ করিলে বোধ করি 
কোনও বপ অসঙ্গতি হইবে ন|। 

তখন পূর্ণানন্দ কি করিতেছিলেন, দেখা যাউক। আরতির 
উল্লেখিত প্রবন্ধে দেখিতেছি যে 'শকান্দা ১৪৪৮ সালের চৈত্র 
মাসে অর্থাৎ ১৫২৭ খৃষ্টাব্দে পূর্ণানন্দ জগদানন্দ শর্মা কপে 
বিষুঃপুরাণের এক প্রতিলির্পি সমাপ্ত কবিযাচিলেন। *স্থৃতরাং 
তাহার তখন পাঠ্যাবস্থা মাত্র। তবে পূর্ণানন্দ কোন সালে 
কামাখ্যা আসিয়া ছিলেন; তাঁহার একটা আন্বমানিক সময় 
নিদ্ধারণ করা যাউক। পূর্ণানন্দ যখন বিষুরপুরাণ নকল করেন 
(১৫২৭ ) তাহার কিছুকাল পরে কালীবিষ্থা। বিষযে সাধন! আরস্ত 
করেন; তৎপর তাহাতে সিদ্ধিলাভ করিয়া স্বীয় গুক ব্রঙ্গানন্দের 
উত্তরসাধকতা৷ করেন। ব্রহ্মানন্দ সাধনাবস্থায় শবসহ অস্তহিত 


দৃষট হইযে। 57190 1০001089101 619 45186109001 0 
85188], ৮০1, ১0, 2৯৮ 1, ০. 4, 1592, 


পুর্ণানন্দ গিরি ও কামাখ্য! মহাপীঠ | ১০৩ 


হইয়৷ মণিপুরে গিয়া এক চগ্াল রমণীর পাণিগ্রহণ করিয়া 
স্বচ্ছন্দে সংসারযাত্র! নির্বাহ করেন। পুর্ণানন্দ দীর্ঘকাল 
দেশে দেশে ভ্রমণ পূর্ববক অনুসন্ধানের পর তাহাকে মণিপুরে 
তদবস্থায় প্রাপ্ত হন। তৎপরে তীহাকে প্রতিবোধিত করিয়! 
গুকশিষ্তে মিলিয়া কামাখ্যা পীঠে আসিয়৷ ইহার উদ্ধার সাধন 
করেন। উপরি উল্লেখিত প্রবন্ধে পূর্ণানন্দের উক্তবপ কাহিনী 
দেওয়া হইয়াছে কিন্ত্ত কোন্‌ সালে কি করিয়াছেন এইরূপ কোনও 
সময় নির্দ্দেশ করা হয নাই। সিদ্ধাবস্থায পূর্ণানন্দ যে সকল 
গ্রন্থ লিখেন তাহার্দের ধারাবাহিক উল্লেখ কালে প্রবন্ধ লেখক 
মহাশয় “শীক্তক্রমে”র নাম সর্বাগ্রে উল্লেখ করিযাছেন। উহার 
প্রণয়নের তারিখ ১৪৯৩ ( কালাঙ্ক বেদেন্দু ) শকাব্দ বা ১৫৭১ 
থৃষ্টাব্দ। উহা! অবশ্যুই পুর্থীনন্দ গুকর ' অন্বেষণ ব্যাপারাদি 
সমাপন পুর্ববক নিশ্চিন্ত ভাবে বসিয়া রচনা করিয়াছিলেন, অর্থাৎ 
কামাখ্য। হইতে প্রত্যাবর্তনের কিছুকীল পরেই এই গ্রন্থ রচিত 
হয়, ইহা মনে করা অসঙ্গত নয়। স্থুতরাং এই প্রথম গ্রন্থ 
রচনার ৫ বতসর পুর্বে পূর্ণানন্দ ও ত্রহ্মানন্দ কামাখ্যা পীঠে 
আসিয়াছিলেন বলিলে অন্যায় হয় না। তাহা হইলে উহা ১৫৬৬ 
খুষ্টাব্দের ঘটনা, অর্থাৎ যখন তিনি 'জগদানন্দকপে বিষুরপুরাণ 
নকল করেন, তাহার প্রায় ৪০ বশুসর পরের ঘটনা হইয়া দীড়ায়। 
এই ৪০ বৎসর সময় এতগুলি কঠিন ও কালসাপেক্ষ কার্য্ে 
ব্যর়িত হইয়াছিল মনে করা৷ বোধ করি অন্যায় হইবে না। যাহা 
হউক, ১৫৬৬ খৃষ্টাব্ডে যদি পুর্ণানন্দ ও ব্রহ্মানন্দ কামখ্যা ধামে 


১০৪ প্রবন্তাষ্টক | 


প্পস্প্প পাশপাশি পেশা পাপা পপ সপ সান 
আসিয়া থাকেন তবে তাহার! কি ফেখিয়া গিয়াছিলেন ? রাজা 
বিশ্বসিংহ যে মন্দির নিশ্মীণ করিয়া গিয়াছিলেদ, তাহা ১৫৫৩ 
খু্টাবে প্রসিদ্ধ কালাপাহাভ কর্তৃক বিধ্বস্ত হয়। তখন বিশ্ব- 
সিংহের পুজ্র মহারাজ নরনারায়ণ কামবপ প্রদেশের সিংছাসনা- 
ধিঠিত ছিলেন। তিনি ভগ্রমন্দিরেৰ পুনঃ সংস্কীর করিয়াছিলেন। 
১৫৫৫ খুষ্টাব্দে সংস্কার কার্য আরব হইযা ১ খুটাবে 
(১৪৮৭ শকাব্দে) এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা হয়। অগ্ভাপি 
নরনারায়ণের কীত্বিখ্যাপক একটা প্রস্তর-ফলক কামাখ্য! মন্দিরের 
দ্বারদেশে বিষ্কমান রহিয়াছে । মন্দিরাভ্যন্তরে মঞ্ারাজের ও 
তদীয় ভ্রাতা সেনাপতি শুরুধ্বজের মৃষ্তিযুগলও তাহাদের কীর্তি- 
কাহিনীর সাক্ষ্যদীন করিতেছে । ব্রঙ্গানন্দ ও পুর্ণানন্দ, এই নুতন 
মন্দির প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে, ইহাঁও রোধ হয় দেখিয়া গিয়াছিলেন। 

তবে, এই আবিষ্কারের কথাটা রটিত হইল কেন? ইহার 
উত্তর এই প্রঘন্ধের প্রথমাংশৈই অনুমানতঃ প্রদত্ত হইযাচে-_ 
কামাখ্যা মহাপীঠে সাধন ভজন পূর্বক ইহার প্রামাণ্য সমন্ধে 
বঙ্গীয় সমাজে ঘোষণা স্গুক পূর্ণানন্দ কর্তৃকই হইয়াছিল ; 
তজ্জন্যই বোধ হয় এই প্রবাদ । ইহার একটি নজিরও আছে। 
এখন সকলেই জানেন কিলম্বস্‌ সর্বপ্রথম আমেরিকা খণ্ডের 
আবিষ্কার করেন। কিন্তু তথাপি আমেরাগ! বেস্পুদি নামক 
জপর এক ব্যক্তির নামেই সেই মহাদেশের নামকরণ হইয়া 
গেল, অথচ এই ব্যক্তি কলম্বসের সাতি বদর পরে আমেরিকার 
দিকে যাত্া করিয়াছিলেন। তীঙ্থার নাম হইবার কারণ এই ছিল 


নস 
টি... 
“বেগ 
১০২২৯ 
1৮১৯১ 





পুর্ণানন গিরি ও কাঁমাখ্যা মহাপাঠ 1 ১৬৪ 


ঘে তিনি তথা হইতে ফিরিয়া আসিয়া নবাবিষ্ত-তৃখণ্ড সন্থন্থে 
সর্বপ্রথম প্রবন্ধ রচনা করিযা ইহার বিখয় সর্বসাধারণের 
গোচরীভূত করিয়াছিলেন । 

কোচবিহারাধিপতিগণের পুর্ববপুকষদের সঙ্গে প্রথমাবন্থায় 
কামাখ্যার সম্বন্ধ অতি ঘনিষ্ঠ হইলেও ইদানীন্তন তাহাদের সঙ্গে 
দেবীর বড একট! সম্পর্ক দেখা যায় মা। এমন কি মহাপীঠে 
আসিয়া সেই বংশের কেহ দর্শনস্পর্শন কি পুজাদিও করিতে 
পারেন না। এই সম্বন্ধে যেবপ প্রবাদ আছ, গুণাভিরামকৃত 
আসামবুবঞ্তি * হইতে অনুবাদক্রমে তাহা উল্লেখিত হইল । 

“কামাখ্যার পুজা চালাইবার জন্য এই রাজা ( নরনারায়ণ ) 
নিজ দেশ কোচবিহার হুইতে ব্রাহ্মণ আনিযা স্থাপিত করেন। 
তাহাদের মধ্যে কেন্দুকলাই নামে পুক্ঞারি ব্রাহ্মাণের কখ। সকলেই 
জানেন। নীলাচলের পুর্ববদ্বারমুখে কেন্দুকলাই ঠাকুরের 
মন্তকন্থীন মুক্তি আজিও বর্তমান তাঁছে। এখনও শীলাচলে যে 
কয় ঘর ব্রাহ্গণ আছেন, তীহাদের অনেকেই এই ঠাকুরের 
বংশধর। এমন একটি কথ প্রচারিত্ত হইয়া আছে যে কেন্দুকলাই 
ঠাকুর যখন সন্ধ্যাকালে দেবীর পুজা কবিয| ঘণ্টা বাজাইতেন 
তখন দেবী আসিয়া নৃত্য করিতেন। 'নরনারায়ণ রাজা এই কথা 
জানিয়া দেবীকে চেতনাবতী দেখিবার নিখিত্ত ইচ্ছা প্রকাশ 
করিয়া ঠাকুরকে বলিলে, ঠাকুর রাজাকে এই উপদেশ দিলেন যে 
সন্ধ্যা আরতির সময় যখন তাহার ঘণ্টার শব্দ শুনা যাইবে তখন 
৬২০ পরঠা (পর্ব সর) 000000000 





১০৬ প্রবন্ধাইক। 


রাজ! নাটমন্দিরের গবাক্ষদ্বারের ছিদ্রেদিয়া তাকাইলে দেবীর 
দর্শন লাভ করিতে পারিবেন। একদিন কথিত জময়ে সেই 
ঘণ্টাবাদ্ধ হওয়ায় রাজা এ ছিদ্রদিয়া মন্দিরের ভিতর দৃষ্টিপাত 
করাতে রাজার চস্ষুতে দেবীর চক্ষু পড়িল] দেবী তাহাতে 
লজ্জা পাইয়া দ্ধ হইয৷ কেন্দুকলাই ঠাকুরের মস্তক ছিঁড়িয়া 
ফেলিলেন এবং রাজাকে এই অভিশাপ দিলেন যে তিনি কিন্বা 
ত্হার বংশের কোন লোক দেবী দর্শন কবা দুরে থাকুক, 
নীলাচলপর্ববতের দিকে তাকাইতেও পারিবে না, চাহিলে মস্তক 
ছিন্ন হইয়া! যাইবে । তখন হইতে দেবী পুজার সময় প্রকটিত 
হওয়া ছাঁড়িলেন এবং শিববংশী কোচবিহার, বিজনী, দর 
বেলহলা প্রভৃতির রাজারা কি তীহাদের পরিবারস্থ কোনও ব্যক্তি 
নীলীচলের দিকে পাধ্যমাণ দৃষ্টিপাত করেন না |” * 

এই অবস্থায় কোচবিহারাধীশ্বর ভূপ বাহাদুরগণ যে 
কামাখ্যা মাতার সেবাপুজা বিষয়ে ওদাসীন্য প্রদর্শন করিবেন 








* বায় গুধাভিরাম ঘরুয়া ধাহাছুর ব্রাঙ্গ ছিলেন। তিনি গল্পটি লিখিয়া তাহার, 
তাৎগধা ব্যাখ্যা ঘে ভাবে করিয়াছেন, উহ পাঠকের কৌতুকাবহ হইবে বলিয়া তাহারও 
অনুবাদ দেওয়া! হইল $-_ 

“ইহা যে মোটেই প্রতায়ের অযোগ্য ইহা কে না বলিৰে? রাজাকে দেবী দেখাইতে 
৷ পারির! কেন্ুকলাই ঠাকুর লঙ্জ| পাঁইয়! অকন্মাথ পড়িষ্কী গেলেন, এবং অপম্মার 
নৌশগ্রন্ত হইয়! পড়িয়। থাকাতে রাজ ঠাকুরকে দেখিতে গেলে ঠাকুর অনেকক্ষণে চৈতগ্য 
লাভ করিয়া দেবীদর্শনের এই ধল ঘলিয়! রাজাকে দেবীদর্শন করিতে কুণষেধ করিলেন । 
সেই হইতে রাজ। ও রাজার পরিবারস্থ লোকে এরূপ বিপদ আশঙ্কা করিয় নীলাচলের 
দিকে দৃষ্টিপাতঙকরেন না, হজ্্ধাা। জাড়াল করিয! যান ।” কি চমৎকার ব্যাখ্য| !। 


পূর্ণানন্দ গিরি ও কামাখ্যা মহাপীঠ। ১৬৭ 


ইহ! বলা বাহুল্য মাত্র। ৰিশেষতঃ কালক্রমে কামাখ্যাধাম 
তাহাদের রাজ্যের সীমার বহিভভূ্ত হইয়। পড়িল। আসামের 
অধিপতি আহোম জাতীয় ইন্দ্রবংশীয় স্বর্গদেবগণ কর্তৃক এই স্থান 
অধিকৃত হইল । ইহাদের মধ্যে স্বর্গদেব গদাধরসিংহ, কদ্রসিংহ 
ও শিবসিংহের সমযে রাজপরিবারে শ্াক্তধন্ন্ের প্রতি সবিশেষ 
অনুরাগ দেখা গিয়াছিল। কথিত" আছে গদাধরসিংহ রাজা! 
হুইবার পুর্ব্ধে তাকালিক আহোমরাজ কর্তৃক বিনষ্ট হইবার 
ভয়ে যখন ছদ্মবেশে অরণ্যে পর্ববতে ভ্রমণ করিতেছিলেন তখন 
একদ। রাজসৈম্দ্বারা অনুক্রুত হইয়া আর্তন্বরে “মা আমায় রক্ষা 
কর” বলিয়া আহবান করাতে *সন্নিকটস্থ একটা প্রকাণ্ড শিলা 
হঠাৎ ফাটিয়া যায়, এব" তিনি উহার ভিতর প্রবেশ করিয়া সে 
যাত্রা প্রাণ রক্ষা করেন। আরও প্রবাদ আছে যে একাঁদিন 
আহোম রাজার চরগণ কর্তৃক পরিবেষ্টিত হইযা গদাধর সিংহ 
যখন শ্ধৃতপ্রায় হন, তখন পার্খস্থ বৃক্ষ হইতে 'দহসা! একটি 
শ্যামাঙ্গী স্ীমুণ্তি আবিভূর্তা হইয়া এ বৃক্ষের একটা শাখ! 
নোয়াইযা ধরেন এবং গদ্াধরকে তক্দবলম্বনে বৃক্ষের উপর তুলিয়া 
স্বীয় বস্্রাত্যন্তরে লুকায়িত রাখিয়া তীহার প্রাণ রক্ষা করিয়া- 
ছিলেন। এই অবস্থায় গদাধরসিংহ সিংহাস্নাধিষ্ঠিত হইয়া শান্ত 
ধন্মের প্রতি যে বিশেষ ভাবে অনুরাগী হইবেন, তাহা বলাই 
বাহুল্য। তিনিই আহোম রাজগণের মধ্যে সর্বপ্রথম দেবালয় 
নিশ্মাণে এবং দেবত্র ক্রক্ষাত্র প্রদ্দানে মুক্তহস্ত হন। উমানন্দের 
মন্দির ইহারই কর্তৃক নিশ্মিত হইয়াছিল 1 





১০৮ প্রবন্ধাষ্টক। 


এই স্বর্গদেবের সবর্গারোহণের পর তাহার শুক্র কন্সিংহ 
সিংহাসনে আরোহণ করেন। ইহার ন্যায় সর্ববগুণ সম্পন্ন রাজা 
আহোম বংশে অল্পই দেখা গিয়াছে । কদ্রসিংহ শক্তিমন্ত্ে 
দীক্ষা গ্রহণ করিবার নিমিত্ত নদীয়া-শান্তিপুর হইতে কৃষ্ণরাম 
সার্ববভৌম নামক একজন সাধক মহাপুরুষকে স্বরাজ্যে আনয়ন 
করেন। কখিত আচে জলে নামিযা স্নান আহিক করিবার 
সময়ে এক শিঙগীমাচ্ছ কাটা ফুটাইযা তাহার ক্রিষার ব্যাঘাত 
কবাতে ব্রাহ্ষণেব মন্যুপ্রভাবে জলাশযস্থ সমস্ত শিঙ্গী মরিয়া 
ভাসিয়া উঠে; তদবধি উহাকে লোকে “শিক্গীমারা ভট্টাচার্য” 
বলিত। যাহা হউক দৈবগতিকে কত্রসিংহের কৃষ্ণরাম হইতে 
দীক্ষা-গ্রহণ খটিযা উঠ নাই, তিনি তৎপুর্ধ্বেই ম্বর্গগামী 
হইযাছিলেন। কদ্রসিংহও অনেক দেবালয নির্মাণ এবং দেবত্র 
ব্রহ্গত্র প্রদান করিযা গিযাছেন। 

তৎপুজ শিবসিংহ সিংহাসনস্থ হইযাই কৃষ্ণবাম হইতে 'দীক্ষা- 
গ্রহণ কবেন। এই স্বর্গদেব ধর্ীনুষ্ঠানে অত্যন্ত নিষ্ঠীবান্‌ 
ছিলেন ; এমনও প্রবাদ আচে যে তিনি ইফ্টদেবতার সাঙ্গাৎকার 
ইহার পিত! গদাঁধর সিংহ যেমন দেবীর অনুগৃহীত ছিলেন, উহার জননী জয়মতী 
তেষনি দেবাম্বরূপা ছিলেন। যখন স্বামী গদাধর ছগ্সবেশে নানাস্থানে ভ্রমণ করিতে ছিলেন, 
তখন আহছোমরাজ জয়মতীর নিকট হইতে গদাধর কোথায় আছেন এই সংবাদ প্রানিবার 
নিমিত্ত তাহাকে অমানুষিক যন্ত্র! [দিয়াছিলেন। সাধ্বী জয়মতী স্বামীর খযর জানিয়াও 
ভাহা প্রকাশ করেন নাই, মাসার্দকাল ব্যাপী ভীষণ অত্যাচার অল্লানবদ্গে সা করিতে 


করিতে অবশেষে মৃত্যুমুখে পতিত হন। কত্রসিংহ পুণাল্লোকা মাতৃদেবীর স্মতিচিহ্ন স্বরূপ 
শিষস।গার “জরদাগর" নামে এক প্রকাণ্ড দীর্থিক! খনন করাইয়াছিলেন। 





পুর্ণানন্দ গিরি ও কামাখ্যা মহাপীঠ। ১০৯ 


লাভ করিয়াছিলেন! যাহা হউক তিনি গুকদেব কৃষ্ণরাম 
সার্ণবভৌমকে প্রভূত ব্রহ্ত্বৃত্তি দিয়া নীলাচলে স্থাপিত করেন। 
কৃষ্ণরামের পর্বতে অধিষ্ঠান হেতু তিনি এবং তদীয় বংশধরগণ 
“প্বিতীয়া গোসাই” নামে খ্যাতি লাত করেন। কামাখ্যাতে, 
এবং কামরূপস্থ অন্যান্য দেবালযে অস্ত পর্যস্ত যেকপ পুজাবিধি 
প্রচলিত আছে, এই কৃষ্ণরাম কর্তকই তাহ প্রবন্তিত হইয়াছে । 
পিভৃপিতামহের পদাঙ্ক অনুসরণ করিয়! এবং স্বকীয় স্বাভাবিক 
ধন্মপ্রবৃত্তিপ্রণোদ্দিত হইযা স্বর্পদেব শিবসিংহ কামবপ প্রদেশের 
বহুস্থানে দেবালব নিশ্ধাণ এবং দেবত্র ব্রঙ্গত্র বৃত্তি স্থাপন পুর্ববক 
প্রকৃত পুণা সঞ্চয় করিয়া ও চিত্ম্মরণীয় কীন্তি রাখিয। গিয়াছেন । 
এই পধ্যস্ত আসামে- যত তাত্রশাসন পাওয1 গিযাছে তাহার 
অধিকাংশেই এই ধান্মিক মহারাঙ্গের নাম উত্তীর্ণ রহিয়াছে |, 
ইহারা ব্যতীতও অন্যান্ত আহোমরাজ কামবপস্থিত দেবতা! 
এবং ব্রাহ্মণের সংরক্ষণ ও পরিপোষণ নিমিত্ত অল্প-বিস্তর বিস্ত- 
বিষয় সম্প্রদান করিযা গিযাছেন, বাঁছুল্যভয়ে তীহারদের উাল্পখ করা 
হইল না । ফল কথা কামাখ্যা মহাপীঠ কোচবিহারাধিপতিগণের 
দ্বারা প্রথমতঃ আবিষ্কৃত এবং সেবিত *হইলেও, অবশেষে ইহারা 
ওদাসীন্ত প্রদর্শন কবিলে আহোমবংশীয় রাজগণই ক্রমশঃ এই 
পীঠের সেবা-পুঁজার ভার গ্রন্তণ করেন এবং বর্তমানে কামাধ্যা মহা- 
পীঠে, অথবা দেবতাক্ষেত্র কামবপের নানাস্থানে সংস্ফিত অন্যান্য 
দেবালয়ে সেরাপুজার যে বন্দোবস্ত বাঁ বিধিবিধান দেখা যায়ঃ 


তাহাও এই আক্বোমবংশীয় ব্বর্গদেবগণ কর্তৃকই প্রবস্তিত হইয়াছে । 
আরতি, বৈশাখ ১১০১৪ 








ফকির শাহ জলাল। 


পিক ২ 


(১) সময নিরূপণ 

কি হিন্দু কি মোসলমান কি অপর ধন্দাবলম্বী যে কোনও 
ব্যক্তিই শ্রীহট্রে নৃতনকল্পে *আন্বন না কেন, তাঁহাকে একবার 
শাহ জলালের দরগায় যাইতে হয়। মোসলমান যান, স্থৃপ্রসিঙ্ধ 
ফকির শাহ জলালের পবির সমাধিক্ষেত্রে জিয়ারত করিয়া পুণ্য 
অর্জন করিবার নিমিত্ত । হিন্দু যান, শ্রীহট্রের প্রাচীনতম ও 
প্রসিদ্ধতম মস্জিদ্‌ * নিরীক্ষণ কারবার নিমিত্ত ; বিশেষতঃ যে 
কোনও ধর্প্মেরই আরাধ্য দেবতার অথবা সিদ্ধ মহ্াপুকষের প্রতি 
শ্রদ্ধাশীল হওয়! হিন্দুর রীতি , মহাত্মা! শাহ জলালের প্রতি 
সম্মান প্রদর্শনের নিমিত্তও স্থতরাং অনেকে গিয়! থাকেন। 
ইংরেজ প্রভৃতি মন্য ধর্্মাধলম্বী ব্যক্তিগণও প্রাচীন ক্লীত্তির 
নিদর্শন স্বরূপ এই মস্জিদ দেখিবার জন্য এবং দরগা! ও তৎ- 
পার্ববর্তী স্থানের সুরম্য প্রাব্লুতিক দৃশ্য সন্দর্শন করিবার জন্য 
শিয়। থাকেন। যখন ইংরেজ শাসনের প্রথম প্রীবর্তন, তখন 
সবার! এই জিলার শাসনকর্তা নিযুক্ত হইয়া আসিতেন তাহা- 
দিগকে এই দরগায় গিয়া অভিষিক্ত হইতে হইত। ১৭৭৬ 


91815 109:8% 2০ 60০ 81096 6০0, 008 3681561০8] &,99003008 
01 88990 (০1১ 13০? 0585 283. 


ফকিব শাহ জলাল। ১১২ 


সালে মিঃ লিগুসে নামক একজন সাহেব শ্রীহটে রেসিডেন্ট 
€( কালেক্টর ) হইয়া! আইসেন; তিনি স্বীঘ অভিষেক ব্যাপার 
এইরূপ বর্ণনা করিয়াছেন ২ 

[1255 00৮ 010. 020 10 25 ০060102, 101 
006 10657 15510617 10 7095 1115 16919605 1০ 0179 
৮6512 52106 91781 0212]. 0127005 ০£ 055 বগজযাজ 
18100 100] 00 (01591017106 02 8৮৩] 02৮ ০0: 
[0019 2001 26615 2705 6098180 11190 075 15172.005 
26651507175 005 0017010 চ216 0016 2 111616 0940270109, 
[6 ৬99 106 হ/ 00518555 ০ ০020192.6 761751055 
[:61001099 200] (06161016৮76 20 509.05 25 
0118675 109.0 00170 19610101176 1 165 10 51069 10. 
(02 07059171701, 270 9১056 ০ 0০ 10000 5 
£০10.00019275 29 20. 00621 1610 0055 0017560 
[15601057০00 0511)76  01205 240. 25051 
0106 100107850 ০01 100 901১1500, 

কথিত আছে যে সমাধিক্ষেত্রে যাইবার পূর্ব্বে সাহেবেরা 
ঘরগার পুক্ষরিণীতে নিয়ম মত সান করিয়া বাইতেন। 

শাহ জলালের দরগার চিত্রময় প্রীতিবপ পাঠকবর্গের 
গোচরীভূত করা হইল।” কিন্তু সেইস্থানে না গেলে উচছ্ছার 


* মস্জিদ্ের“উত্তর দিকে যে বৃক্ষরাজি দেখা! যায় ইহারই অন্তরালে মহাত্মা শা 
জলালের ইষ্টকময় কবর বর্তমাপ। চারিটি স্তষ্কে সংতন্ধ এক চত্ত্রাতপ মাত ছারা এই 
, কবর আচ্ছাদিত। উন্মুক্ত আকাশের জাঘর়ক এখানে আর কিছুই নাই । ৪ 





১২ প্রবন্ধাষ্টুক। 


জে গাস্তীর্্য কখনই অনুভূত 
হইতে পারে না। শ্র্ট্রভূমি প্রাকৃতিদেবীর লীলাদিকেত্তন 
বলিয়৷ চিরপ্রসিদ্ধ তন্মধ্যে যে স্থানে এই দরগ! অবস্থিত ঃলেই 
স্থানের প্রাকৃতিক শোভা অত্ুলনীষ স্ৃতরাং অবর্ণনীয়। নিতান্ত 
চিন্তাতারে প্রপীভিত কিন্বা দুঃখযন্ত্রণাঁয় অবসন্ন হৃদয় লইয়াও যদ্দি 
এঁ পরম রমণীষ স্থানে গমনু করা যাঘ, তবে স্থানমাহাত্ম্যেই যেন 
ক্ষণকালের নিমিত্ত হৃদয হইতে সমস্ত ভার অপস্যত হইয়! বায় 
এবং তশুপরিবর্তে শাস্তিরস আসিয়া মনঃপ্রাণ অধিকার করে। 

ফকির শাহ জলাল দ্বার! শ্রীহট্রভূমি গৌরবান্থিত হুইযা্ে । 
মোসলমানগণ মহাপুকষদিগের সমাধিক্ষেত্রে আসিযা উপাসনা 
করিয়া থাকেন। ধর্ম প্রবর্তক হজরত মোহাম্মদের মদদিনাম্থিত 
পিত্র সমাধিস্থল অবশ্যই সর্বেবাপরি বরণীয়। তশুপর বাগদাদ 
নগরীশ্ম বড পীর শাহ আব্দুল কাদের জিলানীর সমাধি ভূমি, 
আজমীরের খুঁজেমৈন উদ্দীন *চিষ্তির কবর স্থান এবং ীহটস্থ 
ফকির শাহ জলাল মজঃরদের 1 সমাধিক্ষেত্র পবিত্র বলি! গণ্য 
হইয়াছে । সুতরাং সমগ্র মোসলমান সমাজের নিকট শ্রীহট্ট 
তীর্ঘস্থানরূপে পরিগণিত হইয়াছে। ক 


১ পপ সাশ শা শীট শি পাপী 


1 তাৎকালিক মোনলমান জগতে অনেক শাহ জাল ছিলেন তম্মধো এই মহাঁস্মাই 
সর্ধাপেক্ষ। অধিক প্রসিদ্ধ ছিলেন । অন্তাগ্ঠ শাহ জলাল হইতে.বিশিষ্ট করিবার জন্ত ইহাকে 
“যজহরদ” অর্থাৎ চিরকুমীর উপাধি দেওয়। হয়। এই মহীপুরুধ জীষনে কখনও নারীমুখ 
সন্দর্শন করেন নাই। 

€ দিল্লীর শেষ সম্রাট, মোহাম্মদ শাহের পুত্র ফিরোজ শাহ ফকির শাহ লালের 
সমাধিস্বন দর্শনার্থ ১৮৭, *ষ্টাবে প্রহরে আগমন করিয়াছিলেন । ' 








ফকির শাহ জলাল। ১১৩+ 

ঈদৃশ মহাত্মার পবিত্র কাহিনী জানিতে কাহার না অভিলাৰ 

হয়? এ বিষধে এই পর্্যস্ত কিপ আলোচনা হইয়াছে সর্বাগ্রে 

তাহাই ৰলা যাইতেছে। স্থপ্রসিদ্ধ প্রত্ুতত্ববিশারদ ডাক্তার 
বাজেন্দ্রলাল মিত্র ইহার সম্বন্ধে লিখিযাছেন *% $-- 

0116 08005 (1২918, 0207 (01911805. 2118১ 

(5০910795 9৮772) ৮৮০৬ ০৬৪00) 517 0% 91297 32121 


21225 09191000017 10172759৬09 9110571775 259 
199151209 ০01 1)19 [97605095501 1$191001 2,21055 164 
1015 2) 60 019 ০2$0010, 702105 01 060521 1102,0- 
50 9911) 7) 7257 4৬1) ৯27. 1319921৮ 901706 ০ 
1159 10660 1700610570526 1২212500460 1715 ০0000], 
171৭ ১০০০০১৭ 109৮০৮01 ৬৬9১ ১1070711৮80, 010 ৮৮25 
04451% ০৪119৫19০15 16) 0০6ি 0 (৪০০ [007 056 


71725975030 01 11511217110 20) 2810 5002 2 1051100 


10 17026615,9 * 


ডাক্তার রাজেন্দ্রলাল মিত্রেব প্রতি সর্বসাধারণের প্রশাট 
শ্রদ্ধাতক্তি আছে জানি। কিন্তু উপরি উদ্ধৃত সম্তব্য পাঠ 


৮:17000960011125 0 0108 49140700016 01 138085] 10 0005 
1880 

[ আজ প্রায় ৩১ বৎসর হইল দক্ষিণ শ্রীহটে ভাটের! নামক স্থানে দুইখানি তাত্রশাসম 
পাওয়। যায়। উহ! বঙ্গদেশীয় এশিয়াটিক সৌসাইটিতে প্রেরিত হইলে ডাক্তার রাজেন্দ্র 
লাল মিত্র উহার পাঠ উদ্ধার করেনস। একটি শীসনে ''গোধিন” এই নাম দেখিয়া! ডাঃ 


২১৪ প্রবন্ধাষ্টক ৷ 


করিলে তদীয গবেষণার গভীরতা বিষয়ে স্বতঃই সন্দেহ আসে 
এবং তাহার প্রতি ভক্তি বিশ্বাসের হাস জন্মে। তিনি শুনিয়া 
ছিলেন শাহ জলাল শ্হটেব রাজা গৌড গোবিন্দকে পরাভূত 
করেন। এখন এই শাহ জলাল কে, তাহা বাহির করিতে 
হইবে। একট! রাজাকে ধখন পরাস্ত করিযাছেন তখন তিনি 
অবশ্যই একজন বীরপুকষ হইবেন । বলীয় ইতিহাসের পত্রো- 
দঘাটন করিয়া “জালাল উদ্দিন খানি” নামক এক দিখিজয়ীর 
বৃত্তান্ত দেখা গেল । যখন শাহ জলালেও “জলাল” আছে এবং 
জালাল উদ্দীনেও “জলাল” আছে তখন ছুই এক না হইযা যায় 
না। অতএব স্থির হইল ১২৫৭৬ খৃষ্টাব্দে শাহ জলাল ওরফে 
জলা উদ্দীন খানি প্্ীহট আক্রমণ কবিযা' কতিপয হু স্বাধীন 
ভূমিপতিকে পরাভূত্ত করেন কিন্ক হঠাৎ ইরসিলান খাঁর আক্রমণ 
হইতে গৌড ভূমি রক্ষা করিতে গিযা সেখানেই যুদ্ধে নিহত হুন। 

ডাক্তার মিত্র যদি অন্থুগ্রহ করিয়! তাত্রশাসন গ্রেরযিতা 
শ্রীহট্ের তদানীন্তন ডেপুটি কমিশনার শ্রীযুক্ত লটমেন জনসন 
সাহেবকেই শাহ জলাল সম্বন্ধে জ্ঞাতব্য বিষয় বিজ্ঞাপনের জন্য 
লিখিতেন তবে জানিতে পারিতেন যে, শাহ জলাল শান্ত দাস্ত 
ফকির ছিলেন, নরশোষ্ধিতপিপান্থ কোনও ছুর্দান্ত বীরপুরুষ 
ছিলেন না এবং তীহার সমাধিক্ষেত্র শ্রীহট্র সহরেই বিরাজমান ; 
অতএব গোঁড় ভূমিতে গিয়া যুদ্ধে নিহত হইবার কথা তৎসম্থন্ধে 


মিত্র উহাকেই প্রীহটের রাজ| গৌড গোষিন্দ বলি মনে করেন এবং তছুপলক্ষে এপছুদ্ধত 
মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন। ] 





ফকির শাহ জলাল। ১১৪ 


অসন্তাবিত। তিনি তদীয ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হইয়া শাহ 
জলালের যে তারিখ ( ১২৫৭ খ্ঃ) নির্দেশ করিয়াছেন তাহ 
সুতরাং অশ্রদ্ধেয় ।% 

ডাক্তার ৬/. ৬/. [707051 সঙ্কলিত 9£90150152] 4১০- 
০0801015016 455210 ৬০1. 11 গ্রন্থে, 15025 0৫962015015 
01 0116 19০02, [01751017--991160 5200107) ২৯১ পৃষ্ঠা 
হইতে নিন্বলিখিত পংক্তিনিচয় উদ্ধত হইযাছে ৫ 

55511)68 2,006215 00 1)2৮6 19621 50150115160 105 
2 52291] 1920 ০1 181013277770202525 হত 086 6 ০1 
00596210591 10205 91797050008 (5384 4১ 10), 
[175 3০617720025] 00515 ০1 01১6 19510771705 [হম 
0০ 650৮12008, 10705৩0 000675001 5 5 


ভাটেয়ার তাত্রশীসনের উপর টগপনী করিতে গিয়া ডাঃ রাজেব্রলার মিত্র ষে 
কেধল এই,ভুল টূকুই করিয়াছেন তাহা! নহে। *ভীত্রশাসনে গোবিনাব্েশব এই নামধারী 
নরপতির উল্লেখ দেখিয়। উহাকেই গ্রীহট্টেব রাজ। গৌড় গোধিন ওরফে গোবিন্দ সিংহ 
কল্পনা করিয়াছেন । গৌড গোবিন্দ (বাঁ গৌর গোবিন্দ ব। গুরুগোবিন্দ বা! গরুড 
গোধিন্দ ) যে কে ছিলেন তাহা নির্ণ়্ কর! হৃকঠিন1 মধ্য ভারতের ভোজ ব! বিক্রমা 
দিত্যের ম্তায় একাধিক রাজার এই নাম ছিল কি না তাহাও এক সমন্তার বিবয়। যাহ! 
হউক এই বিষয়ে সম্প তি বাগ্বিতণ্া অনাবন্তক। ডাঃ মিত্র তাত্রশাসনে প্রদত্ত তৃমগি 
পরিমাণে 'হল' শব্দের ব্যবহার দেখিয়| ইহা কি তাহা নিশ্ট় করিবার নিমিত সুধহ 
পাণ্ডিতা পরিপূর্ণ পংক্তিনিচয় লিপিবদ্ধ করিয়া! কোনও মীমাংলায় পৌঁছিতে পারেন নাই। 
জথচ শ্রীহট্ের যে কোনও নগ্রপাদ হালিককে জিজ্ঞাস। করিলেও হালের পরিমাণ কৃত 


ভাহ! ঘলিয়। দিতে পারিত। 
[ এক হাল-_৬৫৮৫৬ বর্গহত্ত ] 


35৬ প্রবন্ধাষ্টক। 


5111 2015 25020008চে 0০৬2 01 00৩ চিল 
91781 02121 ৮7150 ৮755 0102 1521 152,061 ০01 056 12 
ড2,06:5 21010051560) 16 51056005181 1772,00 ০৮91 096 
2001৮6 777902,56006106 00105 5600127 2ি115 10 0179 
00212] 15506] 911522ণ2 (252হত? 
ক্ষেপে এই স্থানে, যাহা লিখিত হইয়াছে তাহা। শাহ 
জলালের ইতিহাসপেব সঙ্গে মিলে । তবে তারিখ ( ১৩৮৪ খুঃ) 
যাহা লিখিত হইযাছে, তদ্বিষষ পশ্চাঁ আলোচিত হুইবে। 
মহাত্বা শাহ জলালের দবগার তত্বাবধান নিমিত্ত বহুকাল 
হইতেই খাদিম নিযুক্ত আছেনদ। তীহাদেব মধ্য কেহ কেহ 
শাহ জলালেব বিষরণ লিখিয়! গিযান। নসিব উদ্দিন হায়দার 
নামক জনৈক মো'নসেফ ভ্রীহটে আঁসিষ৷ সাধু শাহ জলালেব পরম 
তক্ত হন এবং পুর্ববতন বিবরণীব সহায়তীষ “ন্থুহেলি এমন্”” ণ* 
নাম দিযা পারস্য ভাষা এইন্মৃহা পুকষেব জীবন বৃত্তান্ত লিখিয়া 
যান। এই গ্রন্থের অনুবাদ স্ববপ “তোযাবিখে*জলালি” নামধেয 
একখানি মোসলমানী কেতাব আছে । কিন্তু উভয় গ্রস্থই শিক্ষিত 





* খাদ্দিমগণের মধ্যে ধিনি প্রধান ভীহাঁর উপাধি সরকম ৷ তিনি গবর্ণমেন্ট ভৃইতে 
মাপিক ৯৩৮৬ বৃদ্ধি পাউক়।ধ্খাকেন। বর্তমান সরকৃম মৌলবী আবুল হাফেজ সাহেব 
একজন সুশিক্ষিত ব্যক্তি । তাহাঁব নিকট হতে বর্তমান প্রধন্ধ বিষয়ে অনেক সহায়তা 
পাওয়। গিয়াছে । রঃ 

1 শাহ জলালের জন্মতৃষবি আরবের ( ৮৪00597) ) এমন প্রদেশ , সহ্থেলি এমন অর্থ 


এমনের লক্ষত্ু। 


ফকির শাহ জলাল। ১১৭ 


সাধারণের নিকট অপরিচিত নতুৎ নতুবা ডাঃ রাজেন্দ্রলাল গিতের 
এইবপ প্রকাণ্ড ভ্রম ঘটিত না এবং ফেটিষ্টিকেল একাউণ্টেও 
শাহ জলাল বিষয়ে এইবপ অতি সংক্ষিপ্ত উল্লেখ মাত্র থাকিত 
না। তাই স্থহেলি এমন অবলম্বনে ফকির শাহ জলাল সমন্বীয় 
কিঞ্চিৎ বিবরণ লিখিবার নিমিত্ত সম্প্রতি এই ক্ষুদ্র প্রয়াস । 

কিন্তু স্ুহেলি এমনে শাহ জলাঞ্লের শ্রীহট্ট আগমনের তারিখ 
হিজরীর ৫৬১ সন বলি নির্দেশিত হইযাছে। ৫৬১ হিজরীতে 
খুষ্টা্দ ১১৬৫ হ্য। এই তাবিখ বিখ্যাত স্থানেশ্বরের যুদ্ধের 
প্রা ৩০ বসব পুর্বর্তী হইয়া পড়ে । তখনও দিল্লী মোসলমান 
সাম্রাজ্যের রাজধানী হয নাই এবং সদর বঙ্গে মোসলমানের নামও 
শ্রুত হয নাই। এতদবস্থায এ তাবিখ নিতীস্তই অশুদ্ধ। 
স্থহেলি এমনে এমন ভ্রম প্রমাদ আরও" ষে না আছে সেকথা 
বলিতে পারি না । তবে শাহ জলালের শ্রীহট্রে আগমনের তারিখ 
কিবপ্পে নির্ণীত হইবে ? 

স্থহেলি এমনের মতে যখন শাহ জলাল স্থীয় জন্মভূমি হইতে 
দিল্লীতে আইসেন তখন দিল্লীর দিংহাসনে আলাউদ্দীন অবস্থিত 
ছিলেন এবং দিল্লীতে ফকির নেজাম উদ্দীন নামে এক আউলিয়৷ 
বাস করিতেন। আলাউদ্দীনের 'রাজত্বকাল ১২৯৬ খৃষ্টাব্দ 
হইতে ১৩১৬ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত । নেজাম উদ্দীনের শি্য প্রসিদ্ধ 
পারহ্যকবি, আমীর খসক তাহার "গুকর উপদেশমালা সন্কলন 
কালে লিখিয়াছেন যে নেজাম উদ্দীন ৭২৫ হিজরীতে অর্থাৎ 
১৩২৫ খুষ্টাব্দে পরলোক গমন করেন । ইহাদ্বারা শাহ জলালের 





১১৮ প্রবন্ধাষ্টক। 


ভারতবর্ষে তথা শ্ীহটে আগমন সময় খুীয় চতুদ্দশ শতাব্দীর 
প্রথমকি দ্বিতীয় দশাব্দী (6০26) হইবে বলিয়া নিদেদশিত করা 
ষাইতে পারে। 

শ্রীযুক্ত কৈলাসচন্দ্র সিংহ সঙ্কলিত রাজমালায় তাছে ১৩৫৪ 
থৃষ্টাবে স্ব প্রসিদ্ধ মূর ভ্রমণকারী ইবনে বতুতা! পীব শাহ জলালকে 
জ্ীহটে দর্শন করেন। ইহাতে বোধ হয় মহাত্ম। শাহ জলাল 
বহুকাল, অন্যুন ৪০ বুসর, শ্রীহট্রে অবশ্মিতি করিযাছিলেন। 
্ুহেলি এমনে আছে যে শাহ জলাল ৬২ বুসর বয়সে, শ্রীহট্রে 
আসিবার ৩০ বশসর পরে, ৫৯১ হিজরীতে জেকাদাব চাদের 
২০শে তারিখ, দেহত্যাগ কবেন ।“ বড়ই দুর্ভাগা ও পরিতাপের 
বিষয় যে স্ুহেলি এমনের লিখিত এই সন তারিখ বযঃক্রম, 
'অবস্ঠান কাল সমস্তই” অবিশ্বীস করিতে হইল । যদি শাহ জলাল' 
আলাউদ্দীনের মৃত্যুর বতসরেও (১৩১৬ খৃঃ অন্দে) শ্রীহটে 
পোৌঁছিয়া থাকেন তথাপি ৩০ বসরে ১৩৪৬ খষ্টাব্দ মাত্র *হয। 
১৩৫১ খু্টাব্দে পরিব্রাজক ইবনে বতুতার সঙ্গে 'শ্রীহটে সাক্ষাৎ 
কার স্থৃতরাং অসম্ভব ব্যাপূর অথচ এ পর্য্যটন্চ অনৃত বিষয়ের 
অবতারণ করিয়াছেন একথা বলাও গহিত। অতএব কাল নিণয় 
বিষযে স্ৃহ্থেলি এমনের কর্থা সর্ববতোভাবেই বর্ডনীয় । 

মহামতি হান্টার সাহেবের উদ্ধৃত ১৩৮৪ থৃষ্টাবের বিকন্ধে 
ইবনে বভুতাই প্রকুষ্ট প্রমাণ। হাণ্টার সাহেবের উদ্ধতাংশে 
ৰলীয় নরপতি শামস্উদ্দীনের যে উল্লেখ আছে তাহার কারণ 
বোধ হয় এই যে শাহ জলালের বিবরণের সঙ্গে জনৈক শামস- 


হিজলা জলাল। ১১৪ 


উদ্দীনের নাম শত হওয়া যায় । কিন্তু মোসলমান রাজনের 
প্রথমাংশে বঙ্গে সিংহাসনে শামসউদ্দীন নামক একাধিক ব্যক্তি 
অপিভিত ছিলেন । ১৩৪৩-১৩৫৮ খৃহ্টাবে যিনি বাক্জালার অধি- 
পতি ছিলেন তাঁহার নাম স্থলতান শামসউদ্দীন ইলিষাস্‌ খাজে ছিল। 
১৩০৩-৮৫ খৃষ্টাব্দে বিনি বঙ্গের শাসনদণ্ড পরিচালন করিয়া- 
ছিলেন তিনিও শামস্উদ্দীন নামে অভিহিত ছিলেন । অপিচ 
শাহ জলালের কবরের গণ্ডার ভিতবে যাইবার পথে তোরণ দ্বারের 
উপরিভাগে যে এক শিলাখণ্ড আাছে তাহাতে উৎকীর্ণ লিপি- 
মালায় অপর এক বঙ্গাধিপ সোলতান শামস্উদ্দীন ইউসুফ, 
শাহের নাম আছে; উতহাঁব বীঁজস্থ কাল ১৪৭৪-১৪৮১ খৃঙ্টাব। 
হান্টার সাহেব ধুত বিববণীতে দ্বিতীয শামস্উদ্দীনকেই ফকির 
শাহ জলালেব সমসামযিক বল! হইযাছে এবং ১০৮৪ খুঃ 'এই 
তারিখও এ ধারণ। বশতঃই নির্ণীত হইযাছে। কিন্তু প্রথমোক্ত 
শামস উদ্দীন (ইলিয়াসখাজে) শাহ্‌” জলালেব শ্রীহাটে আগমনের 


+ [10 10980 0৫ 8101) 15121 ৮৮ 8১116৮ ৭7) 00101৮৮1)59816 56929 
10921116 ভোড। ল১৮১(/0।0 01 11) সি] 8016918 31৮500500087) 090৫ 
90০11 (14414827900 15 6 007800৮1400 ও %৮ 10066] 959৮ 009 
ব]081] 10011692136 00 600 02101047770 41989 000 4০106 1765 10101171904 4৪ 
1০৮1) 019 79910107108 0810 06 0100 01016 17060101007 ৮৮৬ 0010109 
81060670180 01298010501 08০ ছ এ] ৮6 1825 10997 10190852019 0০ 980, 029 
0016 11408176102) 101700159011000801 89 01 90009 11169709 28 16 1010 5৭ 
10576 9511106 সাও ৪17৮৮ 0050 800910০7990 20170000957510 206, 
900) 01739105812) 05 155৮ 08০ ০ 0119 120. ০07৮805- (08298৪ 
(জো) 76৮57 ০ 83 7৮৮৮0. 605 27৮) ঘট 1905 শা [0 23108 
$010580102108] 90২33075 091029] 0100165 ৯০ 605 99০7৮27৮০19 
4205191 09007079570189৮ 91 8৪5 ) 





৭১২৩ প্রবন্ধাইক ৷ 


না হউক অবস্থানের সমসাময়িক ছিলেন বলিয়। ধরিয়া লইলেই 
কোন গোল ঘটে না-_-ইবনে বতুতার সঙ্গেও মিল হয়। শেষোক্ত 
শামসউদ্দীন ( ইউহ্বক শাহ ) ফকির শাহ জলালের প্রতি ভক্তি- 
মান, ছিলেন বটে কিন্তু তাহার সমকালীন ছিলেন বলিয়! কোনও 
প্রমাণ পাওয়! যাষ না। 

ফল কথা শাহ জলাল-খীষ্ীয চতুদ্দশ শতাব্দীর প্রথমাংশে 
শ্রীহটে আগমন কবেন এবং এখানে উক্ত শতাবীর অন্ততঃ ৬ষ্ঠ 
দ্শাবদী পর্য্যস্ত অবস্থান করিয়াছিলেন । 

দ্বিতীষ প্রস্তাবে এই মহান্তাব অলৌকিক জীবনকাহ্িনী 
আলোচিত হইবে। 

| প্রদীপ-_কান্তিক ১৩১১। 


ফকির শাহজলাল। 
উতর 
(২) জীবনকাহিনী । 

| জন্মস্থান ]_ পুণ্যভূমি আরবের হেজাজ পবিত্রতম স্থান । 
এঁ স্থানে গিযা মক্কা মদিন৷ প্রভৃতি মহাপুকষ মোহাম্মদের লীলা 
ভূমি সন্দর্শনপুর্ববক হজব্রত উদযাপন করিযা “হাজি” নামে পরিচিত 
হইতে ধন্মপ্রাণ মোসলমাঁন মাত্রেরই প্রবল আকাঙ্ক্ষা । সেই 
হেজাজক্ষেত্রের সংলগ্ন ভূভাগই এমন এবং উহাই ফকির শাহ 
জলালের জন্মভূমি 

| জন্মসময 1- পুর্ব শ্রবন্ধে যাহা লিখিত হইয়াছে তাহাতে 
এই মাত্র বলা যাইতে পারে যে সম্ভবতঃ গরীষঠীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর 
শেষভাগে শাহজলাল জন্ম পরিগ্রহ করেন। 

[ পিতামাতা ]_ হজরত মোহাম্মদ যে বংশে জন্মিযাছিলেন 
সেই কুরেষি বংশীয় এব্রাহিমের পুজ্র মাহমুদ শাহ জলালের জনক 
ছিলেন। জননী সৈয়দ বংশীযা ও সাতিশয ধর্দ্রপরায়ণা ছিলেন। 
শাহ জলালের ৬ মাস বযঃক্রম কালে মাত স্বর্গগামিনী হন, পিতা 
মাহমুদও কাফেরের সঙ্গে ধর্মযুদ্ধ করিতে গিয়া অচিরে প্রাণ 
বিসর্তভন করেন। 

[ ধন্ম গুক ] এই অনাথ শিশুর প্রতিপালন ভার তদীয় 
মাতুল “ সৈঘদ আহমদ কবীর নামক মহাত্মা গ্রহণ করিলেন। 


+ একখানি হলিখিত পুস্তকের মত অনুসরণ পূর্বক প্রদীপের প্রবন্ধ 
* মাতৃন্বস্থপতি "” লিখা হুইরাছিল। 


৯২২ প্রবন্ধাষ্টক। 


তিনিই আবার শীহঞ্লালের বয়ঃপ্রাপ্তির পর তাহার ধণ্মজীবনের 
গুকতর ভার গ্রহণকরিষ! তীয় দীক্ষাগুকর পদে সমাসীন হুইয়া- 
ছিলেন। গুক পরম্পরায় শাহজলাল মোসলমান ধর্ম প্রাবর্তুক 
হজরত মোহাম্মদ হইতে অফ্টাদশ স্থানীয ছিলেন। ঞ্ 
+ [মাহা ম্মাদ 
্ 
হামন বমরী 
হবীৰ আজমী 
শেখ ই ভায়া 
শেখে বু, কয়খা 
শেখ সারিসখ্তী 
মমসা? দিন্তরী 
ক্ে মাহা মদ 
শেখ আহমদ দিজুরী 
সেখ ওজিটদ্দীন 
আবু নসর জিয়াউদ্দীন 
মৌকদ্দম বাহাউদ্দীন 
আবুল ফজল সদর উদ্দীন 
রুকুন উদ্দীন আবুফতাহ, 
সৈয়দ জলাল উদ্দীন বোখারী 
সৈয়দ আহমদ কযীর 


ফকিব শাহ জলাল। ১২৩ 


[ স্ঈগকাহিনী ]_ পবিত্র মক্কাধাম সৈয়দ আহমদ কবীরের 
বাসস্থান বা সাধন! স্থান ছিল। শিষ্য ও ভাগিনেয় শাহ 
জলালও তঙসঙ্গেই অবস্থান করিষ! বধঃপ্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে 
সাধনমার্গে অগ্রসব হইতেছিলেন। একদা এক হরিণ সহসা 
সৈষদের কুটীরদ্বারে আসিযা তদীয পদপ্রাস্তে পতিত হইয়া 
আগন ভাষায তাহাব দ্রঃখ কাহিনী 'কহিতে লাগিল , তির্য্যগ্‌ 
তাষাবিৎ মহাত্বা। তানহা জদযঙ্গম করিস্নে। মুগের অভিযোগ 
এই যে সে তৃণপর্ণাহাবী নিরপবাধ জীব, এক দুর্দান্ত ব্যাত্ব 
আসিয1 তাহার স্ত্বখ, শান্তি ব্যাঘাত ঘটাইযাছে, তাহাব যন্ত্রণায় 
বনে অবস্থান করা অসম্ভব হইযা পড়িযাছে। দযাবান্‌ সাধুবা 
বনচব পণ্ড পক্ষীব প্রীতিও ককণ। পববশ | তাই গীর আহমদ 
শিষ্য শাহ জলালকে আদেশ করিলেন, “বগুস, (সই অত্যাচারী 
শার্দ'লকে ধগোচিত শাস্তি প্রদানপুর্বক বন হইতে তাডাইয়। 
দিবে, এবং যাহাতে এই নিরীহ হধিণ স্বচ্ছন্দে আপন আবাসে 
ভিষ্ঠিতে পাবে তাহাব ক্ধিন করিযা আসিবে ।” গুকর আদেশে 
শীহজলাল এই তৃক্ষর কার্ধাসাধনে বদ্ধপরিকর হইলেন ॥ কিন্ত 
সাধু মহাত্বগণ যেমন স্বযং জীবহিংসাপবাস্তখ, সেইবপ ব্যাপ্ত 
ভন্পুকাদি হিংস্র জন্থগণও াহাদিগকে কদাপি আক্রমণ করে না) 
শাহজলাল বনে খিষ৷ ব্যাত্বকে বিক্তু হস্তেই ধরিয়া ফেলিলেন। 
সর্বজ্ঞ গুক আহমদ কবীর আপন আশ্রমে থাকিয়! প্রত্যক্ষবৎ 
সমস্ত গোচব করিতেছিলেন, তখন তাহার মনে হইল বাঘটাকে 
দুই হাতে চড মারিতে মারিতে বন হইতে তাডাইয়া দিলেই ভাল 


১২৪ প্রবন্ধাষ্টক। 





হয়। গুকর হৃদয়ের এই ভাব তথ্ক্ষণা শিষ্কের অন্তরে 
প্রতিফলিত হইল, তিনি দুই হস্তে চপটাঘাত পূর্বক ব্যান্্রকে 
দূর করিয়া দিয়া গুঁকসমীপে প্রত্যাবৃত্ত হইলেন। * 

[ সিদ্ধিলাভ ]-এই কার্যে গুক তাহার প্রিয় শিষ্যের 
সিদ্ধিব পরিমাণ ঝুঝিতে পারিলেন। তিনি সন্তোষ প্রকাশ পূর্বক 
শাহজলালকে বলিলেন “বস, তোমার অগ্তকার কার্যক্ষমতা 
দেখিয়! বিশ্বাস হইল যে তোমার ও আমার আধ্যাত্মিক অবস্থা 
একই প্রকার হইযা গিযাচে। আর এই স্থানে তোমার থাকিযা 
প্রবোজন নাই, হিন্দুস্থানের দিকে প্রস্থান কব।” তৎপর স্থীয় 
সাধনার স্থান হইতে এক মুষ্টি মৃত্তিকা আনিযা শাহজলালের 
হস্তে দি! লিলেনু, “তোমাব হাতে যে মৃত্তিকা দিলাম, তাহা 
অতি যত্বে রাখিবে--যেন ইহাব বর্ণ গন্ধ বা স্বাদ বিকৃত না হয। 
ঈদৃশ মৃত্তিকা যে স্থানে পাইবে, সেইখানেই সতত অবস্থান 
করিবে । ই মৃত্তিকামুগ্তি যে স্থানে পরিত্যাগ করিধে, সেই 
স্থানের মাহাত্য্যের আর তুলনা থাকিবে না1” 1 


চর 


+ এই সামান্ত (বা অসাধান্ত ) ঘটনা ফকির শাহ জলালের ভখিব্যজীবনের সর্ধ্বপ্রধান 
ঘটনার পূর্বাভাস মাত্র । ছুর্দান্ত ব্যাক কবল হইতে শরণাপন্ন হরিণকে যিনি রক্ষা 
করিয়াছিলেন, তিনিই পরিশেষে ত্রীহট্াধিপ গৌডগোবিন্দ কর্তৃক নিরীহ মোসলনানের 
উপর অত্যাচারের প্রতিশোধ লইয়াছিলেন। বিন! অস্ত্রে তিনি যেমন হিস য্যাপ্্রকে 
তাড়াইরা ছিলেন, তেমনি যুদ্ধোপকরণ ব্যতীতই প্রধল পরাক্রান্ত গোড়গোবিদ্দকে তিনি 
রাজা হইতে দূর করিয়া! দিতে সমর্থ হইয়াছিলেন । উভয় স্থলেই দৃষ্ট হইবে যে মহাতস! 
শাহ্লীল কাহারও প্রাণ হনন করেন নাই। 

1 শীহ জলালের জীবনী ( স্থহেলি এমন ) লেখক নসির উদ্দীন হায়দর ঢাক। নিষানী 
ছলেন। পরিশেষে প্রীট্টের এই সাহান্ো বিশ্বাস করিয়া এইসহরেই অবস্থান করেন। 


ফকির শাহ জলাল। ১২৫ 


1 চাবশি পীর ] পীর ] শাহজলাল পাখে পাথেয় স্ববপ গুকর নিকট 
হইতে এই মৃত্তিকা-প্রসাদ লইয়৷ ভারতবর্ষ অভিমুখে যাত্রা 
করিলেন। সঙ্গে প্রথমত" বার জন চেলা যুটিলেন, তম্মধ্যে 
এক জন সেই মুন্তিকার তহবিলদার হুইলেন। তাহার উপর 
এই ভার থাকিল যে তিনি পথিমধ্যে বত জনপদ দেখিতে 
পাইবেন সমস্তেবই মৃত্তিকা পরীক্ষা কবিযা (চাখিযা ) (দখিবেন , 
যদি কুত্রাপি বর্ণ, গন্ধ ও স্বাদে এই মাঁটিৰ সমকক্ষ মাটি মিলে 
তৰে তাহাকে তৎক্ষণাৎ তাহা! শাহজলালেব নিকট জানাইতে 
হইবে । এই বাক্তিব নাম হইল চাষণি পীব। 

[ জন্মস্থান সন্দর্শন ]-_পবিশ্বাজকব্রতে দীক্ষিত হইয৷ প্রথ- 
মত£ঃই শাহজলাল জন্মস্থান দেখিবাব জন্য যাত্রা কবিলেন। 
আপন গৃহে উপস্থিত হইবামানু চতুর্দিকে হাব তপঃসিদ্দিব 
কাহিনী প্রচাবিত হইতে লাগিল, এমন কি এমন প্রদেশে 
বাদশাহ কার্ণও তদীষ স্বখ্যাকতি পৌঁছিতে সম্ধিক বিলম্ব 
হইল না। 

[ পরীক্ষ! ]_ বাদশীহ চতুব বাজনীতিক ডিলেন। ফকিব 
শাহজলালেৰ বৃত্তান্ত শ্রবাণ তিনি তদীয পাত্র মিত্রকে কহিলেন, 
“দেখ, বন্দ্িন হইতে আমাব এই অভিলাষ যে কোন সিদ্ধ 
দরবেশ পাইলে তীহাব মুবিদ ( শিষ্য ) হইয! ভক্তিতুবে তদীয 
সেবা শুশীষা করিব। তবে প্রথমতঃ তীহ্াকে পৰীক্ষা কবিষা 
দেখিব তিনি ঠিক্‌ সাধু কি না নচেও তাহার প্রতি নামাব অনুরাগ 
হইবে না।” স্থৃতরাং শাহজলালকে পবীক্ষা করিবার, নিমিত্ত 





5২৬ প্রবন্ধাক। 


সপ সস ০৯৪-৮১০১১৯ 


বাদ্শীহ এক কৌশল করিলেন । শরবতের পাত্রে বিষ মিশাইয়। 
জনৈক ভৃত্য দ্বারা উহ! শাহজলালে নিকট প্রেরণ করিলেন । 
বাঙ্ষশাহের আদেশে ভূতা সাধুর নিকট শববতু রাখিষা উহা! পান 
কবিন্তে বলিল। ফকিরের অন্তঃকবণ দর্পণেব ন্যাষ ছিল, উহাতে 
অন্যের ভাল মন্দ সমস্ত ভাব স্পষ্ট প্রতিফলিত হইত। তিনি 
বাদশাহের কুট নীতি বুঝিতে পারিযা বলিলেন, “'ভাল মন্দ 
সমস্তই নিজের অদৃষ্ট ফলকে লিখিত , যে যাহা! মনে করে সে 
সেইবপই ফল পাইবে । ফকিরেব জন্য ইহা। অম্বত, কিন্তু দাতার 
পক্ষে এই শববৎ প্রীণান্তকারী হলাহল।” এই বলিয়! তিনি 
শরব পান করিলেন , এদ্রিকেংবাদশাহ হঠা€ গতাস্ত্ হইলেন। 
এই আকস্মিক মৃত্যু ঘটনায তাহাব কপট কৌশল কাহিনী 
প্রকটিত হইয। পড়িল । ৃঁ 

[ এমনেব প্রহ্লাদ ]-_-বাদশাহের পুর শেখ আলী এই 
সমাচাব অবগত হইযা পিক্রার ওদ্ধদেহিক কাধ্য সমাপন, পূর্বক 
শাহজলালের নিকট উপস্থিত হইলেন এবং তীহণর নিকট অবস্থান 
করিষা সতত সেৰ শুশ্রাধা কবিবার নিমিত্ত অভিপ্রা প্রকাশ 
করিলেন। শাহজলাল ইহাতে অসম্মরতি প্রকাশ করিলেন এবং 
রাজকুমারকে দেশে থাক্কিয়া দযাবান্‌ ও ন্যাষপরাযণ হইয়া 
রাজ্যশাসন করিতে অনুজ্ঞা করিলেন । 

[ রাজপুন্র্ের বৈরাগ্য ]_ শাহজলাল জন্মভূমি হইতে চির" 
বিদায় গ্রহণপূর্ববক হিন্ুস্থান অভিমুখে প্রস্থান' করিলেন ॥ 
এদিকে রাজপুজ্জের দেশে থাকা অসাধ্য হইয়া উঠিল; রাজ্যধন 


হ 


ফকির শাহ জলাল। ৯২৭ 


প্রস্ৃতি কিছুতেই উাহার আসক্তি রহিল না; নিজের সুৎস্চ্ন্দতার 
প্রতিও তিনি দৃষ্টি করিলেন নাঁ। সাধু শাহজলালের পবিত্র 
সঙ্গন্থখ তাহার প্রবল বাসনাব বিষষীভূত হইল। তিনি অমাত্য 
স্বজনের চক্ষু এডাইয1 শাহজলালের অন্বেষণে উন্মত্তের ন্যায় ধাবমান 
হইলেন এবং চতুর্দশ দিবসেব পথ অতিক্রম করিয়া তাহার 
পার্শববত্তী হইলেন। প্রবল অনুবাগেব "নিদর্শন পাইয়া শাহজলাল 
রাজকুমারকে আপনার প্রি সহচব ভাবে গ্রহণ করিলেন । 

[ ভাবতবর্ষে আগমন 1 শাহজল[ল দলবলসহ দিল্লী নগরীতে 
আদিলেন। সেইখানে তখন নেজাম উদ্দীন নামক একজন অতি 
প্রসিদ্ধ পীব থাকিতেন। তাঁহার নিকট তদীয এক শিষ্য 
আসিযা শাহজলালেব-বিষযে কহিল, “আরব হইতে এক দরবেশ 
আসিয়াছেন, তাহাব চরিত্র অতি অদ্ভুত । এই দ্াধু ্ত্রীসঙ্গ বর্ভিত। 
তিনি চাদর দিযা মুখ ঢাকিযা পথ চলেন। আবাস গৃহে তিনি 
একটি ,বালককে নিজের সাক্ষাতে রাখেন, এবং তাহাকে 
প্রাণাধিক প্রেমাস্পদের ন্যায দেখিষা থাকেন। এতন্ডিল্ন তাহার 
আর কোনও কম্ম দেখা যাব না।” ক, 

[ নেজাম উদ্দীন ও শাহজলাল ]--পীর নেজাম উদ্দীনের 
মনে একটু খটুকা বাধিল। তিনি শাহজলালকে তাহার নিকটে 
আদিতে আহ্বানকরণা” একজন শিষা প্রেরণ কুরিলেন। 
শিষ্য শাহজলাল সমীপে উপস্থিত হইবামাত্র তিনি উহার মনের 


ক * এই উ্তি বারা শাহ্জলালের জীবনীর একটি রহস্তময় কুচি গোচনীতৃত 
হইবে । 


১২৮ প্রবন্ধাষ্টক ৷ 


অগি প্রায় বুবিতে পারিলেন, এবং কিছু না বলিয়া একটা 
কোটায় কিছু তুল! এবং আগুন রাখিয়া বন্ধ কীরিযা শিষ্যের হাতে 
উহা নেজাম উদ্দীনের নিকট পাঠাইয। দিলেন। নেজাম উদ্দীন 
কৌটা খুলিয়া অগ্নি ও তুলা দেখিয়া শাহজলাল তাহার মানসিক 
ভাব বুঝিতে পারিযাছেন ভাবিযা, লভ্ভাষ ভ্রিয়মাণ হইলেন। 
বাস্তবিক তপস্বী নেজাম* উদ্দীনের তুলাসদৃশ সাদা ও কোমল 
ধর্ট্িষ্ঠ অন্তঃকরণে যে শাহজলালের প্রতি সন্দেহ বহ্ছির স্থান 
পাইযাঁছিল ইহাই আশ্চর্যের বিষ, যোগসিদ্ধ শাহজলালেব 
উহা! বুঝিতে পাবা তেমন আশ্চর্যোব বিষয নভে । 

[ জলালী কবুতব ]- _নেজার্ম উদ্দীন নিজকে অপবাধী মনে 
করিয়া স্বযং শাহজলালকে দেখ্রাব নিমিত্ত আগমন করিলেন । 
দেধালয়, বাজা ও "সাধুর নিকট ,কেহ বিক্ত হস্তে যায না। 
নেজাম উদ্দীনের ছুই জৌড। কাজল! বংএর কবুতব ছিল, তাহাই 
নিয়া সাধু শাহজলালকে উপহার প্রদান করিলেন। [রোধ হয় 
শাহজলালের এই কপোত চতুষ্টযই পূর্ববঙ্গ অঞ্চলে 
জলালী কবুতরের প্রাহূর্ভীবের নিদান। পারাবত মাংস এই 
অঞ্চলে তক্ষ্য হইলেও জলালী কবুতব কেহই হিংসা করে না। 

[ গৌড গোবিন্দ ]_-তখন শ্রীহট্রে গৌড গোবিন্দ নামে এক 
অত্যাচারী ভূম্বামী ছিলেন। তাহার জন্ম গৌড দেশে ( বাঙগালার 
মধ্যে) ছিল বলিয়া তীহার নাম গৌড় গোবিন্দ হইযাছিল। ণ* 


পদ পাশা তিশি শীত শশী শশিীক্ী টিপি 


+ এই গোবিন্দ সম্বন্ধে যাহা লিখিত হইতেছে তাহা! স্থহেলি এমনের মত। আমা 
দের স্বীয় ধুরণ। এই যে “গৌড় গোবিদ্দ' প্রকৃতপক্ষে "গুক গোবিন্দ' ছিলেন। তিনি 








ফকির শাহজলাল। ৯২৯ 


-গঞ্জেরোয়। উপাধি বিশিষ জনৈক শাহজলাল কর্তৃক জন্মস্থান 
হইতে বিতাডিত হুইয়া৷ গোবিন্দ পলাইয়! শ্রীহটে আসেন এবং 
এখানে প্রভুত্ব লাভ করেন। ইনি এক প্রসিদ্ধ যাতুকর ছিলেন, 
বহু ভূত প্রেত গ্তাহার আজ্ঞাধীন ছিল। * মোসলমানগণ 
তাহার দ্বারা অত্যাচারিত হইত। 

[ বুরহান্‌ উদ্দীন ]--শ্রীহট সহরে টুলটেকর নামক মহল্লা 
শেখ বুরহান উদ্দীন বাস করিত। তাহার সন্তানাদি বহুকাল না 
হওয়ায় সে মানস করে যে ছেলে হইলে খোদার নিকট একটি গক 
কুরবাণি করিবে । যাহ! হউক কালে তাহার একটি পুক্রসস্তান 
ভূমিষ্ঠ হইল। বুরহান উদ্দীনও স্টাহার মানস আদায করিল। 
দৈবাৎ এক চিল এক- টুকরা গোমাংস নিযা গৌডগোবিন্দের 
বসতি স্থলে ফেলিযা দিল। হিন্দু রাজা গোবিন্দৈর তাহা অসঙ্থ 
হইল; তৎক্ষণাৎ তিনি গোহত্যাকারীর অনুসন্ধান করিতে হুকুম 
দিলেন ।* যে উদ্দেশে ও যতকর্তর্ক গোবধ হুইয়ছিল তাহা 
জানিতে পারিয়া তিনি বুরহান ও তাহার পুক্রটিকে ধরিয়া আনাই- 
লেন এবং পুজ্রের প্রাণসংহার করিয়৷ প্রিতার হস্তচ্ছেদন করিয়া 


খাসিয়! বা সিন্টেও জাতীয় লোক ছিলেন । হট সহর হইতে ৬৭ মাইল ব্যবহিত স্থান 
হইতে পাতর সংজ্ঞক যে সকল বাক্তি সহরে পাতা কাঠ কয়লা প্রস্ৃতি বিক্রয় করে, 
তাহাদিগকে “গুরু গোবিন্দ ঘলিয়া৷ পরিচয় দিতে গুনিক়াছি । যাহ! হউক (গৌঁড গোবিন্দ 
বিষয়ে যে নানারপ প্রবাদ এদেশে প্রচলিত, পূর্ব প্রবন্ধেই তাহ! উল্লেখ কর! হইয়াছে। 

+ বোধ হয় োধিন্দ তান্ত্রিক সাধনার পিশীচাদি সিদ্ধ করিয়াছিলেন! অন্ত্রপ্রধান 
কামরগ প্রদেশাস্তর্গত স্থানের অধিঘাসীর পক্ষে ইহ! আশ্চর্য নহে । মোদলমান লেখকের 
পক্ষে সুতরাং ডাহাকে যাহুকর সংজ্ঞাদানও আশ্চর্যের ব্যিয নয় 








*১৩৪ প্রবন্ধাষ্টক। 


'দিলেন। দারুণ পুজ্শৌকে ও নিজের হস্তচ্ছেদ জনিত যন্ত্রণায় . 
ছততাগ্য শেখ ক্রন্দন করিতে করিতে গৃহে প্রত্যারত্ত হইল। * 

[ প্রতিশোধের কল্পন। ] বুরহান উদ্দীন অপমানে ও মন£- 
ক্লেশে নিজের বাঁসন্থান পরিত্যাগ করিল। অত্যাচারের প্রতি- 
হিংসার উপায় চিন্তা করিতে করিতে সে নব প্রতিষ্ঠিত মোসলমান 
সাম্রাজ্যের রাজধানী দিল্লী নগরীতে উপস্থিত হইল। তশুকালে 
সোলতান আলাউদ্দীন শাহ দিল্লীর সিংহাসনাধিষ্ঠিত ছিলেন। 
বুরহানের দুঃখকাহিনী শুনিয়া বাঁদশাহের মনে দুঃখ হইল; তিনি 
এই অত্যাচারের প্রতিশোধ অবশ্য কর্তব্য ভাবিযা আপন 
ভাগিনেয় সিকান্দর শাহকে শ্রীহটাভিমুখে সসৈ্তে প্রস্থান করিতে 
আদেশ করিলেন এবং গৌড গোবিন্দকে হত্য! করিয়া তাহার 
রাজ্য অধিকার করিতে হুকুম দিলেন। 

[ সিকান্দর শাহের অভিবান ]--সিকান্দর বাদশাহের আদেশ 
ক্রমে সৈন্য 'সরপ্রাম লইয়! যুঁ্ধার্থ রোওয়ান! হইয়। কিছুদিন পরে 
ঢাক! প্রদেশে উপস্থিত হইলেন। তিনি সোর্নারগাওএ ব্রহ্মপুত্র 
নদীতীরে শিবির স্থাপন করিলে, শ্রৃহটে তদীয় অভিযানের সংবাদ 
_পৌঁছিল। 





_হুছেলি এমনের ধৌঁদলমান শরস্কার হিনুগণ কি চ। চক্ষে গরুকে দেখেন তাহার 
নুম্ধার বর্ণনা করিয়াছেন। শেখ বুরহান উদ্দীন হিন্দু রাজার অধিকার স্থলে থাকিয়াও 
ততট। বিবেচন! করে নাই--নচেৎ গোবধ মানস করিত ন! । রাজ! গৌড় গোবিন্দ অতি 
নৃশংস শাস্তি বিধান করিয়াছিলেন । বুরহানের শেখ উপাধিতে বোধ হয় সে কিংবা! তাহার 
পিতৃপিতামজ পূর্বে হিন্দু ছিল। গৌড় গোধিন্দ৭ আমাদের মতে হিন্দধর্্ে নব দীক্ষিত 
পার্বত্য জাতীয় । এই উভয়েই অভিমব পরিগৃহীত ধর্সে অন্ধ খিশ্বাসমূলক অবিম্ষ্যকারিত। 
ৃষ্ট হইবে । ॥ 


ফকির শাহজলাল। ১৩১ 
.. [গোবিন্দের অগ্মিবাণ ]-_ গৌড়গোবিন্দ শত্রুর আক্রমণ 
হইতে রক্ষালাভ করিবার জন্য যথাযুক্ত আয়োজন করিলেন। 
তাহার অধীন বত ভূতপ্রেত ছিল তাহারা যাছর সরঞ্জাম তৈয়ার 
করিল। সিকান্দরের সৈন্যমধ্যে অগ্নিবাঁণ & চালান হইল। 
মোসলমাঁন সৈম্তগণ কখনও এই প্রকার যাছু দেখে নাই- উহার 
প্রতিপ্রসব কিছু আছে কি ন! তাহাও,জানিত না। বহু লোক 
পুডিয়া মরিল, অনেকে অর্ধাদগ্ধ অবস্থা 'পলায়নপর হইল। 
'সিকান্দরেব প্রথম উদ্যম এইবপে বিফল হইলেও তিনি আরও 
ছুইবার সৈন্য সংগ্রহপূর্ববক যুদ্ধ করিতে প্রবৃত্ত হইলেন, কিন্তু 
কোনও মতেই কৃতকাধ্য হইতে গ্ারিলেন না । 

[বুরহান উদ্দীনের অন্য চেষ্টা! ]--বেচারা বুরহান উদ্দীন 
দেখিল গোবিন্দের যুদ্ধে পরাজযু স্দুরপরাহত”। সে তখন খোদ! 
তাল্লার কৃপাই একমাত্র ভরসার স্থল ভাবিয়া মদিনায় হজরত 
মোহাম্মদের কবরে গিয। আত্মছুঃখ ভুন্তাপন করিতে সংকল্প করিল। 
কিন্তু ততদুর তাহাকে যাইতে হইল না। 

[শাহ জলালের শ্রীহট্াতিমুখে অিযান ]_-তখন মক্কা মদিনা 
বাইতে দিল্লী হইয়! যাইতে হইত। বুরহান দিল্লী গিয়া শাহ 
জলালের দর্শন লাভ করিল। মহা! শাহজলাল বুরহানের 
শোকাবহ কাহিনী শুনিয়া দঘার্দচিত্ত হইলেন এবং আহার অপ- 


* অগ্নিবাণ কামান বলুক কিন! কে হলিতে পারে? ইহার প্রস্তুত প্রণালী সাধারণে 
তখন অবিদিত ছিল, তাঁই ইহ! যাদুগিরি বলিয়া! বর্ণিত হইতে পায়ে। 


৯৩৭ ্রবন্ধাষ্টক । 


মানের প্রতিশোধ কল্পে গোবিন্দের বাছু দ দমনে ন বদ্ধপরিকর হইয়া 
সশিশ্ত প্রীহটাভিমুখে রোওয়ানা হইলেন। | 

[ সিকান্দরের সাহায্য প্রার্থনা ] গোবিন্দের যুদ্ধে পরাভূত 
হুইয়! সিকান্দর বাদশাহের সমীপে নিজের অন্ভুত পরাজয় বার্তা 
সবিস্তর জানাইয়। সাহায্য প্রার্থনা করিলেন। যুদ্ধের বিবরণ 
শুনিয়া সোলতান আলাউদ্দীনের বুদ্ধি লোপ পাইল। উজীর 
নাক্গির গণক প্রভৃতি-দরবারের যাবতীয় ব্যক্তি উপায় নির্ধারণের 
নিমিত্ত পরামর্শে বসিয়া গেলেন। 

[ অদ্ভুত উপায় ]_বহু পাঁজি পুথি দেখিযা গণনা করিয়া 
একপ এক ব্যক্তির ঠিকানা বাহির হইল, ঝীহার দ্বারা এই ছুবহ 
কার্য্য সম্পন্ন হইবার সম্ভাবনা । তাহার নাম না বলিলেও পরিচয় 
পাইবার এক ফিকির বল! হইল। বাদশাহের যত সৈল্যাধ্যক্ষ 
আছেন সকলকেই যুদ্ধার্থ সজ্জীভূত হইয! ডেরাখিমা ময়দানে বাহির 
হইতে বলা হউক। ময়দানে শিবির সংস্থাপন হুইলে, সন্ধ্যার 
সময় এক বাতাস বহিবে। বাতাসে তাবৎ সবুর প্রদীপ নিবিয়া 
যাইবে, কেবল একটাতে প্রদীপগুলির কিছুই হইবে না। সেই 
তীবুর মধ্যে ধাহাকে পাওয়া যাইবে তিনিই উদ্দিষট ব্যক্তি । 

[ সৈয়দ নসির উদ্দীন সেপা সালার ]-এই উপাযে সৈষদ 
নসির উদ্দীন নামক এক মহাত্মার উদ্দেশ পাওয়া গেল। তাহার 
জন্মস্থান বাঁদাদ। তিনি এ খানে আউলিয়া দলের সরদার 
ছিলেন। কিন্তু সৈয়দ মাওয্রক নামক বাগদাদ প্রদেশাধিপতির 
সঙ্গে বিরোধ হওয়ায় তিনি জন্মস্থান পরিত্যাগ করিয়া দিল্লীর 





ফকির শাহজলাল। ১৩৩ 
: বাদশাহের অধীনে কার্য করিতে বাধ্য হইয়াছিলেন। তাহার 
এইকপ সেফায়ে জানিয়! বাদশাহ তাহাকে সেপাসালার উপাধি 
প্রদানপূর্ববক প্রধান সৈন্যাধ্যক্ষ পদে কৃত করিলেন এবং অনেক 
সৈন্য সামন্ত সঙ্গে দিয৷ সিকান্দর শাহের সহায়ত! নিমিত্ত প্রেরণ 
করিলেন । যেখানে পুণ্যতোয়া প্রবাহিনী গঙ্গা ও যমুনা সম্মিলিত 
হইয়া হিন্দুর পরম তীর্থ প্রয়াগেক় মহিমা সংবদ্ধিত করিয়াছে 
সেই আল্লাবাদ সহরেই সেপাসালারের বাহিনী ও শাহুজলালের 
অনুচরবর্গের পরস্পর সম্মিলন হইল। সেই গঙ্গা যমুনার 
সম্মিলিত প্রবাহের স্যায এই দুই মহাত্মা একত্র হইয! পশ্চিমা- 
'ভিমুখে একই উদ্দেশ্যে প্রস্থিত হইলেন। 

[ ৩৬* অনুচর ]_ পথিমধ্যে একে একে সঙ্গিসমূহ যুটিতে 
লাগিলেন। ক্রমে শাহজলালের ৩৬০ জন আউলিয়া অনুচর 
হইলেন_-তন্মধো সেপাসালারই সুকুলের সর্দার বলিয়৷ পরি- 
গণিত হইলেন । * 

[ শ্রীছট্ের সীমান্তে প্রবেশ ] যেখানে সিকান্দর পরাভূত 
হইয়! অবস্থান করিতেছিলেন শাহজলাল সানুচর সেইখানে 
পৌছিলেন। তখন গৌডগোবিন্দের যুদুগিরির বৃত্তান্ত শুনিয়। 
প্ীহট্টে যাইবার নিমিত্ত তিনি ব্যগ্র হইলেন *এবং সিকান্দরকে 
সঙ্গে লইয়া চলিলেন। পধিমধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদ পার হইতে 
হুইল-_কিন্তু নৌকা মিলিল না। তখন শাহজলাল নমাজের 
আসন খানি বিছাইয়া দিলেন তাহাতে আরোহণ করিয়াই সমস্ত 
লোকজন নদীপার হুইল। বর্তমানে “যে স্থান চৌকি পরগণা 


১৩৪ ্রবন্ধাষ্টক ৷ 


বলিয়! বিখ্যাত সেইখান পর্য্যস্তই তখন স্প্রীহট রাজ্যের সীমানা” 
ছিল। যখন শাহ্জলাল এ স্থানে আমিয়া৷ পড়িলেন, গোবিন্দ 
তখন তাহার আগমন বার্তা জানিতে পারিলেন। 

[ অগ্নিবাণ বিফল ]- গোবিন্দ দস্তরমত অগ্িবাণ চালান 
দিলেন। কিন্তু সাধু শাহজলালের আশ্রিত কটকের উপর 
যাছুগিরির ফল বিপরীত হইল । তাহার নিজের শিবির ও দ্রব্য 
সামগ্রী পুডিয়া ছারখার হইল । রাজ! চমণ্কৃত হইয়৷ অমাত্য- 
গণের পরামর্শ চাহিলে, তাহার!1 রাজ্য ছাড়িয়৷ পলায়ন করিতেই 
মন্ত্রণা দিল। তাহারা কহিল,«মহারাজ, এ সিকান্দর শাহ নহে 
যে অগ্নিবাণে পুড়িয়। মরিবে ; এই সৈশ্তাদলে এমন এক বীর 
আছেন, ধাহার ভয়ে জঙ্গলের বাঘ পলাইয়া যায়; মন্ত্র তন্ত্র 
কিছুতেই তীহার কিছু হইবে নাঁ। তাহার সঙ্গে যুদ্ধ না করিয়া 
পলায়ন করাই শ্রেয়ঃ। আপনি না গেলে, অগত্য। আমাদিগকে 
বিদায় দিউন।৮ 

[ লৌহধনুতে গুণ যৌজন! ]--গোবিন্দ আর এক ফিকির 
উল্তাবিত 'করিলেন। লৌহ দ্বারা এক ধনু নিশ্মাণ করাইয়া 
শাহজলালের নিকট পাঠাইয়া৷ জানাইলেন যে ইহাতে গুণ আরোপ 
করা হইলে তিনি হট ছাড়িয়। যাইবেন। ইতিমধ্যে শাহজলাল 
সৈশ্যসহ বাহাছুরপুরের কাছ দিয়! বরাক নদী পার হইলেন। 
তাহার নিকটে লৌহধমু পৌছিলে, তিনি স্বয়ং ৭ যোজন না 
করিয়া সৈন্য মধ্যে প্রচার করিয়া! দিলেন যে যাহার আহ্সরের 
নমাজ কোনও দিন বাধ। হয় নাই তাহাকে তার নিকটে আনিয়া 





ফকির শাহজলাল। ১৩৫, 


» ছাঁজির করিতে হইবে । সমন্ত শিবির অনুসন্ধান ক্রমে সেপাসালার 
নসিকদ্দীনকেই মাত্র ঈদৃশ নিয়মনিষ্ঠ পাওয়া গেল। শাহজলাল 
তাহাকেই ধনুতে গুণ যোজনা করিতে আদেশ করিলেন। 
নসিকদ্দীন ভগবন্নাম স্মরণপুর্ববক অনায়াসে লৌহধমুতে গুণ 
আরোপ করিয়! দিলেন । সকলে দেখিয়! অবাক হইল। ধনু 
গোবিন্দের নিকট নীত হইলে তিনি*জয়ের আশা সম্পূর্ণ পরি- 
ত্যাগ করিলেন । 

[ সর্পপেটিকাত্যন্তরে গোবিন্দ] কিন্তু পলায়নের পূর্বে 
গোবিন্দের বাসনা হইল শাহজলালের সন্দর্শন 'লাভ করেন। 
প্রকাশন ভাবে ফকিরের সাক্ষাঁড যাইতে আশঙ্কা করিয়৷ তিনি 
এক ফন্দী করিলেন? সাপের পেটিকার মধ্যে লুক্াধিত হইয়া 
তিনি শাহজলালের সম্মুখে নীড় হইলেন এবউহার ভিতর হইতে 
তাহাকে এক নজর দেখিয়া লইলেন। শাহজলাল ভিতরকার 
ব্যাপার প্রত্যক্ষব বুঝিতে পরদ্িলেন_-তাই দনাপের খেলা 
দেখিবার পর পেটেরাগুলির অভ্যন্তর পরীক্ষা করিবার জন্য 
গোবিন্দের আশ্রয়ীভূত পেটেরাটিকেই খুলিয়। দেখাইতে আদেশ 
দিলেন। বাহকের! আপত্তি করিলে শাহজলাল গোবিন্দকে লক্ষ্য 
করিয়া আহ্বান করিতে লাগিলেন । * 

[ গোবিন্দের পরাজয় শ্বীকার ]-_গোবিন্দ অবনত মস্তকে 
পেটের হইতে বাহির হইয়া ক্ষমা প্রার্থনা! করিলেন এবং রাজ্য 
ছাড়িয়া যাইতে অঙ্গীকার করিলেন। অপিচ শাহজলালের 
কোনও কাজ তিনি করিয়া দিতে পারেন কি ন! ভাত! জিজ্ঞাস 


১৩৬ প্রবন্ধাষ্টক। 


স্পা শশী শী শী শীট 


করিলেন। তখন শাহজলাল একটি মস্জিদ তৈয়ার করিবার « 
নিমিত্ত কিছু পাথর দিবার জন্য গোবিন্দকে বলিলেন। গোবিন্দ 
তাহার ভূতগ্রেতাদি দ্বারা এত প্রস্তর আনাইয়া দিলেন যে তদ্দারা 
বহু মস্জিদ্‌ প্রস্তুত হইল। তন্মধ্যে চৌকিদীঘী নামক স্থানের 
আদিনা মস্জিদই প্রধান; ইহার ১২০টা গুদ্বুজ ছিল এবং ইহাতে 
সকলে জুম্মার নমাজ পড়িত *। 

[ গোবিন্দের পরিণাম ]_-শাহজলালের আদেশ প্রতিপালন 
পুরঃসর গোবিন্দ তাহার সিংহাসন পরিত্যাগ করিলেন এবং 
পর্বত মধ্যে প্রবেশ করিলেন। তীহার কি দশ! হইয়াছিল 
কেহুই তাহা ঠিক বলিতে পারে মাই। তবে কেহ কেহনা কি 
সহর হইতে প্রহর পরিমাণ দূরবর্তী পেঁচাগড নামক স্থানে 
তাহাকে পাবাণ মুস্তিতে পরিণত এবং কটিদেশ পর্য্যন্ত ভূগর্ভে 
প্রোথিত অবস্থায় এখনও দেখিতে পায়! 

[ শাহজলালের শ্রীহট সহরে প্রাবেশ ]_বলা বাহুল্য, এখন 
নি্ষণ্টকে শাহজলাল শ্রীহট সহরাভিমুখে আগমন করিতে লাগি- 
লেন। সৃত্্া নদী, ব্রহ্মপুত্র ও বরাকের ম্যায়ই, বিনা নৌকায় 
পার হইলেন। সহরে মোসলমান প্রভাব দৃঢরূপে স্থাপিত হইল। 
বুরহান উদ্দীন ও তদীয় ধর্ষ্ভ্রাতৃগণের মনোছুঃখ দূর হইল। 

[সৎ পরীক্ষা ]__গুকদত্ত সৃত্তিকার পরীক্ষক চাষণি পীর 
সহরের মৃত্তিক। পরীক্ষ! করিতে লাগিলেন। বর্তমানে যেখানে 


* তৎপর নধাবি আমলে ইউহফ, ইনদিথার খ নামক একজন নবাব এ সকল গুদুজ 
ছানি! ইট পধর আনির! বর্তমান কবরের নিকটে এক মস্জি্ নির্াণ করিয়াছিলেন । 





ফকির শাহজলাল। ১৩৭ 


সাধুর সমাধি স্থান রহিয়াছে, সেই টালার মাটিই বর্ণ গন্ধ ও স্বাদে 
এঁ মাটির সমান হইল। তাই মহাত্মা শাহজলাল সেইখানেই 
অবস্থাননিকেতন নিশ্মীণ করিয়া অবিরত ভগবছুপাসনায় কাল- 
কর্তন করিতে লাগিলেন | 

[ অনুচরবর্গ ]-_-তিনশতধাট্সংখ্যক আউলিরার মধ্যে অল্প 
কয়েকজন এবং এমনের রাজকুমার শীহজলালের সঙ্গে থাকিলেন। 
অন্যের! শ্রীহট্রের নানাস্থানে ধর্ম্মপ্রচারের জন্য প্রেরিত হইলেন। 
শ্রীহট অঞ্চলের তথা পূর্ববঙ্গের সন্তরান্ত বংশী মোসলমানদিগের 
অধিকাংশই এই আউলিয়াগণের মধ্যে কাহারও না কাহারও 
বংশসম্ভূত বলিয1 পরিচয় প্রদান করেন । 

[ শ্রীহট্ের শাসন কার্ধ্য ]__-সিকান্দর শাহ্‌ শ্রীহট্ের শাসনুকর্তা 
নিযুক্ত হইলেন । তিনিও সাধুর আদেশ মতেই কাধ্য করিতেন। 
নগরে সুশাসন প্রচলিত হুইল, জোর জুলুমের লেশও থাকিল না। 

[দসিকান্দরের ভ্রম 1 শীক্ষগ্ীধান স্থান হইতে আসা হেতু 
শাহজলালের সহচরবর্গ শিশিরাগমে প্রীহট্রের শীতে নিতান্ত অভি- 
ভূত হই! পড়িলেন। তীহার! শীত স্তরের জন্য সাধুকে ধরিলেন। 
শাহজলাল একদ!| সিকান্দর শাহকে কহিলেন “দেখ, দাকণ 
শীতের সময় আসিয়াছে, যাহাতে শীত নিবারণ হয়, জরুর এমন 
উপায় করিবে ।” সিকান্দর বিষয়ী লোক, তিনি এই সীমান্ত 
কথার বিপরীত অর্থ করিলেন। শীত নিবারক কন্থাকন্ঘলের 
আয়োজন না করিয়া শাহজলালের নিমিন্ত শীতহারিণী বনিতার 
অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন । 


১৩৮ প্রবন্ধাষ্টক ৷ 


[ দিকান্দরের পরিণাম ]-_-অনেক চেষ্টায় পরম সুন্দরী এক 
রমনী জোগাড় করিয়৷ সিকান্দর শিবিকায় তাহাকে শীহজলাল 
সমীপে পাঠাইয়৷ দিলেন। ইহা! দেখিয়া সাধু পরিতাপ করিয়া 
বলিলেন, “হায় সিকান্দর নিজে যেরূপ ডুবিয়াছে, আমাকেও 
কি সেইরূপ ডুবাইবে ? আমি দীনহীন ফকির, মজঃরদ, আমার 
জন্য কি এই ব্যবস্থ।?” ইহার কিছু পরেই সংবাদ আসিল, সিকান্দর 
শাহ সূন্্ানদী পার হইতে গিয়। নৌক! ডুবিয়া মৃত্যুমুখে পতিত 
হইয়াছেন। আরও আশ্চর্য্যের বিষয় এই যে তখন কোনও কপ 
তুফান বা তরঙ্গ কিছুই ছিল না।, বহু অনুসন্ধানেও সিকান্দরের 
স্থৃতদেহ পাওয়! গেল না। তাহার স্থলে অন্য লোক শাসনকর্তা 
নিযুক্ত হইলেন। , 

[ রমণীর পরিণয় ]-_শাহজলালের সঙ্গে তদীয় প্রিয়তম যে 
সকল শিষ্য ছিলেন তন্মধ্যে হাজি ইউসুফের প্রতি আদেশ হইল 
যে তিনি প্িকান্দরের প্রেরিত রমণীর যথারীতি পানিগ্রহণ 
করেন। হাজিও সংসারবিরক্ত ছিলেন, তাই ধনদৌলতের 
অভাব এবং সাংসারিক ধর্্দে বীতস্পৃহতা জানাইয়! পরিহার 
প্রার্থনা করিলেন । কিন্তু শাহজলাল তাহাকে নানা যুক্তি ও 
নির্বন্ধ সহকারে পুনশ্চ জাদেশ করাতে তিনি অগত্যা স্বীকার 
করিলেন । এই পরিণযজাত সম্ভানগণের বংশধরেরাই এক্ষণে 
সাধুর সমাধির তন্বাবধায়ক এবং ইহাদের সরদার সকুমও এই 
বংশজাত ৷ 

[সুশ্মার জল সংক্ষরণ 1--শ্রীহটের পূর্বব্দিকে বুন্দাসিল নামক 


ফকির শাহজলাল। ১৩৯ 


পরগণার নিকট দিয়া সূষ্্মা নদী প্রবাহিত হইত। তথায় জিয়। 
উদ্দীন নামক শাহজলালেরই জনৈক অনুচর থাকিতেন। তিনি 
নদীর জল বিবাদ দেখিয়া তাহার সংক্কারবিধানার্থ সাধুকে 
একবার সেইস্াটন যাইতে অনুরোধ করিলেন। ভক্তের আহবানে 
শাহজলাল সেই স্থানে গিয়! নমাজ পুড়িয়া একখণু প্রস্তর জলে 
ফেলিয়! দিলেন, ইহাতেই জল বিশুদ্ধ হইল। 

[ ভূত প্রেত দমন ]-বুন্দাসিল যাইবার পথে কুী নদীর 
তীরে এক তৃত ছিল; সে একস্থান হইতে অন্য স্থানে যাইবার 
কালে ধূলি উভাইয়! চলিত।৯ শাহজলাল উহাকে মারিয়া ধুলিতে 
মিশীইলেন। বুম্দাসিলেও অপর এক দেও (দৈত্য) ছিল; 
সাধু তাহাকেও সংহার করিয়৷ এ স্থানের*নাম দেওরাইল,রা'খি- 
লেন। অন্তাপি পরগণার সেই নামই প্রচলিত আছে। 

[ গোবিন্দের দুর্গ ধ্বংস 1-4কদা শাহজল্ল আপন গুহ 
হইতে বাহির হইয়া প্রাকৃতিক শোভা সন্র্শন করিতে ছিলেন। 
হঠাু রাজা গৌডগোবিন্দের ছুর্গ তীহার নেত্রপথবর্তা হইল । 
তিনি বলিয়া উঠিলেন, “এই ছুর্গের মালিক যাদৃশী অবস্থা! প্রাপ্ত 
হইয়াছে, ইহারও সেই অবস্থা হওুয়া উচিত ছিল। কেন ন 
তাহা হইলে গৌড়গোবিন্দের চিহ্ন মাত্রই সহরে থাকিত না।” , 
তাহার মুখ হইতে এই বাক্য নির্গত হইবামাত্র এ 'ছুর্গ ধূলিসাৎ, 
হইয়া গেল। 

[ রমনী ও পুষ্করিণীর বিলোপ 1- শাহজলাল জীবনে নারীমুখ 
»দেখেন নাই; একদিন তাহার গৃহের উত্তর দিক্স্থিত জলাশয়ে 


১৪০ প্রবন্ধাষ্টক। 





একটি স্ত্রীলোক ন্্লান করিতেছিল। তাহার আলুলায়িত কেশ- 
পাশে ও অনাবৃত বক্ষংস্থলে সাধুর দৃষ্টি পড়িল। খধ্যশৃ্জের 
স্টায় তিনি “ইছা৷ কি” তাহা পার্খস্থ অনুচরকে জিজ্ঞাসা ন! করিয়া 
প্রথমতঃ বুঝিতে পারেন নাই। পরে উহা স্ত্রীমুত্তি জানিতে 
পারিয়া তিনি সাতিশয় বিরক্তি সহকারে বলিলেন “এই 
পুক্ষরিণীতে যদি রমণীমুত্তিই দেখিতে হইল তবে ইহার অস্তিত্থ 
বিলোপ হইবে না কেন ?” তশুপর স্ত্রীলোক বা পুকুর কিছুরই 
চিহ্ন মাত্র কেহ আর দেখিতে পাইল না । 

[কুপ খনন ও জমজমের ললানয়ন ]-_বিধর্মীর খোদিত 
জলাশয়ের জল ব্যবহার করিতে সাধুর প্রবৃত্তি হইল না । তিনি 
একটি কৃপ নির্মাণ” করাইলেন এবং মন্কাস্থিত পবিত্র জমজমের 
জল যাহাতে এ কৃপে আইসে তজ্জন্ত প্রার্থনা করিলেন। নিজের 
হাতের লৌহ বৃষ্টিও কুপে নিক্ষেপ করিলেন। সাধুর মনস্কামনা 
পুর্ণ হইল; জমজমের জল কুয়ায় আবিভূ্ত হুইল। এই কৃপ 
সম্প্রতি ইক গ্রথিত হইযাছে, এবং ইহা হইতে একটা! নাল! 
বাহিয়া অনবরত জল নির্গত হইতেছে ।* বিশ্বাসী তক্তগণ 
অনেকে ইহার জল খাইয়া রোগমুক্ত হইয়াছে এবং মোসলমানগণ 
রোজার সময় এই জলে মাচমন করিয়া পারণ। করিয়া থাকে । 

[ কুপের পরীক্ষা ]-_শ্রীহট সহরের অনতিদুরস্থ খিত্তা পর- 
গণার জনৈক মোসলমান একদা তীর্থ ভ্রমণে মঞ্ধা-মদিনায় 
গিয়াচিল। , তাহার //১৬১১১১১৪১১৩৪, 


7৯ এই কুপটি একটা প্রশ্রবণ বিশে । 


ফকির শাহজলাল। ১৪১ 
ছিল। এ গুলি সঙ্গে নিয়া চলিলে চুরি হইবে মনে ভাবিয়া 
সে একটা কাঠের ডিবা মধ্যে মুদ্রাগুলি পূরিয়া মক্কার জমজমের 
জলে ফেলিয়৷ দিল এবং শ্রীর্থনা করিল যে যদি শাহজলালের 
কৃষাষ প্রকৃতই জমজমের জল গিয! থাকে তবে তাহার ডিবাটিও 
যেন এ কুপে যায । এদিকে কৃপ পরিষ্ার করিবার নিমিত্ত 
এক খাদিম কুয়ায় নামিয়া একটা ডিবা পাইয়া তাহা নিজের 
কাছে রাখিয়া দিলেন। ছুই বতসর পরে যখন তীর্থযাত্রী বাড়ীতে 
ফিরিয়া! আসিল তখন সে তাহার ভিব! অনুসন্ধান করিয়া উত্ত 
খাদিম হইতে বাহির করিল এবং নয়টি স্বর্ণমদ্রা হইতে ছুইটি 
দরগাতে প্রণামী দয! গেল। " 

[ শাহজলালের তিরোভাব ও সমাধি ]__শ্রীহটে আসিয়া 
শাহজলাল ত্রিশ বৎসর কাল, জুবিত ছিলেন।" তিনি অধিকাংশ 
সময়ই স্বীয় গৃহে বসিয়া সাধনা কাটাইতেন। তীহার বয়স 
যখন ৬৯ বগুসর তখন তাহার পরলোক প্রাপ্তি হয । যে স্থলে 
তাহার আশ্রম ছিল সেই স্থলেই তাহার সমাধি হইল। এই 
সমাধি স্থানেরই পার্থ এমনের ভক্ত রাজকুমারের সমাধি বর্তমান। 
শাহজলালের সমাধি স্থল প্রকৃতই শ্রীহট্রকে গৌরবাদ্থিত 
করিয়াছে। 


[ প্রদীপ, কার্তিক ১৩১২1) 


আথ ও ছুইখ। 
চক্রবৎ পরিবর্তন্তে ুঃখানি চ সুখানি চ। 


জগতে যে কোন কার্ধ্যই অনুষ্ঠিত হউক ন! কেন, উহার মুলে 
সুখ লাভের ও ছুঃখ মোচনের আকাঙ্ক্ষা বিদ্যমান রহিয়াছে; দেখা 
হায়। এ যে রবিরশ্মিপ্রপীডিত গলদ্ঘন্ম কৃষাণ বু কষ্টে হল 
চালন। করিতেছে; এ যে দাঞুণ শীতের সময় মৎস্যজীবী 
জলাশয়ের সুশীতল জল মধ্যে নিমগ্র হইতেছে; এঁ যে বিষ্ভালযের 
ছাত্র আহার-নিত্রা পরিত্যাগ করিয়! ছবি! নিশি গ্রসথাধয়নে স্বীয় 
শরীর কস্কালাবশিষ্ট করিতেছে; এ যে আফিসের কর্ম্দচারী 
প্রভুর মনস্তগ্ির নিমিত্ত অনন্যরুত্ম। হইয়! প্রাণপণে খাটিয়! শরীর 
পাত করিতেছে, সকলেরই একমাত্র উদ্দেশ্য পর্নিণামে স্থখলাভ ও 
দুঃখাপনোদন। কণ্টক দ্বার যেমন কণ্টকোন্ধার হয়, তত্রপ 
জাপাতরেেশকর কার্ধ্যানুষ্ঠান দ্বারা কি কৃষাণ, কি মতশ্য জীবী 
'কি ছাত্র, কি কণ্ম্চারী সকলেই ভবিষ্য দুঃখ নিবারণের তথা সুখ 
প্রাপ্তির উপায় সাধন করিতেছে । 

স্থখের জন্য সকলে লালায়়িত হইলেও, কচি ভেদে, প্রক্কতি 
ভেদে ও শিক্ষার তারতম্যে, মানবগণ ভিন্ন ভিন্ন বন্খ্ অনুসরণ 
পূর্বক সুাস্থেণ করিতেছে । আমার যাহাতে সখ, অপরের 


87588 ১৪৩ 


পক্ষে হয়ত তাহা ক্লেশজনক হুইতে পারে । একটা স্থল কথাই 
ধর! যাউক। সংসার মুখ আমাদের সকলেরই আকাঙ্ক্ষার 
জিনিস; কিন্তু শুক দেবের পক্ষে তাহা বিষবত হেয় পদার্থ 
বলিয়! প্রতীত হইয়াছিল। 

মানুষের সুখ ও ছুঃখ তাহার মানসিক ব! শারীরিক অনুভূতি 
মাত্র। স্থৃতরাং মনের বা শরীরের অবস্থার উপর উহা অনেকটা 
নির্ভর করে। উপস্থিত যে কার্যে আমার অপরিসীম স্থুখ, সময়ান্তরে 
মনের ভাবান্তর হইলে, সেই কার্য দাকণ দুঃখ জনক হইতে পারে । 
আবার রুগ্ন ব্যক্তি ব৷ স্থবিরের প্রক্ষে যাহা রলেশকর, এক সুস্থকায় 
ব্যক্তি বা যুবকের পক্ষে তাহ! স্থখজনক হইয়৷ থাকে । 

সংসারের সকলই ক্ষণস্থায়ী । স্তর়াং হুখ-দুঃখও অচির- 
স্থায়ী। আজ যাহাকে 'কীদিতে দেখিয়া বিষণ হই, কাল 
তাহারই প্রীতিপ্রফুল্ বদন নিরীক্ষণ করিয়া আনন্দ লাভ করি। 
ফলতঃ নিরবচ্ছিন্ন সুখী কি দুঃখী লোক জগতে অপ্তি বিরল । 

সুখ বা সুখের আশ। সকলেরই হৃদয়ে কিয়পরিমাণে 
বর্তমান রহিয়াছে । অতি হীন দরিদ্র বিষমণ্বাধিগ্রস্ত র্যক্তি, 
যাহার এজগতে আপনার বলিতে কিছুই নাই তাহাকে দেখিয়! 
মনে করিতে পার, বুঝি, এই ব্যক্তি আপনাব্র ছুঃখময় জীবনের 
'অবসান স্বততই কামন! করিতেছে ; কিন্তু যদি কেহ উহার প্রাণ 
বিনাশে উদ্ধত খডগ হয়, দেখিবে, সে প্রাণপণে প্রাণ রক্ষার 
নিমিত্ত যত্ব করিবে। অবশ্যই কোনও সুখের আশীবন্ধ তাহার 
জীবনের অবলগ্ধ হইয়া রহিয়াছে । 


১৪৪ প্রবন্ধাষ্টক ৷ 


৯ আবার ছুংখান্ভৃতিও আপামর সকলেরই অনৃষ্টে ঘটিয়া 
ধাকে। তোমার দৃহিতে বীহাকে আজন্ম স্তখী দেখিতেছ বিনি 
মর্তো বসিয়! স্বর্গের ভোগ হ্থখ অনুভব করিতেছেন মনে কর, 
সেই অসামান্য সৌভাগ্যশীল ব্যক্তিকেও জিজ্ঞাস! করিলে জানিতে 
পারিবে, কোনবূপ শোক বা ছুঃখের স্মাতি তাহার চিত্ত 
বিক্ষোভিত করিতেছে । 

একটি গল্প বলিতে হইল । কোনও রাজা তদীয সন্তানের 
স্বত্যুতে বডই শোকাকুল হইয়া পড়িয়াছিলেৰ। কোনরূপে 
প্রবোধ দিতে ন৷ পারিয়৷ এক দিনু তাহার স্ুচতুর মন্ত্রী আসিয়া 
₹লিলেন, মহারাজ ! আমার একটা মুক্তার বাগান আছে, ইচ্ছা 
করিলে তাহ! পরিদর্শন করিতে পারেন, কিন্তু প্রাতঃকাল ভিন্ন 
উহা! দেখান যাইতে পারে না। মন্ত্রীর' উদ্ভানে এক সর্ষপ ক্ষেত্র 
ফলিত হইয়াছিল ; হৈমস্তিক প্রভাতে শিশির বিন্দু ক্ষেত্রোপরি 
উপচিত হইয়া " অনতিপ্রখর প্রাতঃ সূর্ধ্ের কিরণপ্রভায় ধলমল 
করিতে করিতে মুক্তাফলের ন্যায় পরিলক্ষিত হইতেছিল। দূর 
হইতে এ শোভা রাজাকে" প্রদর্শন করাইয়। মন্ত্রী বলিলেন, 
মহারাজ, এজন্যে যে ব্যক্তি কখনও কোন শোক ছুঃখের অধীন 
হয় নাই একমাত্র সেট ব্যক্তি উহার সমীপস্থ হইতে কিংবা! এ 
মুক্তা ফল আঁহুরণ করিতে পারিবে । রাজা, এরূপ ব্যন্রি কে 
আছে কিন! রাজ্য মধ্যে ঘোষণা! করিলেও এতদবস্থু কাহাকেও 
পাওয়া গেল না। তখন মন্ত্রী রাজাকে বুঝাইলেন যে, খন 
জগতের সকলেই শোক দুঃখের অধীন, তখন স্বীয় শোককে 


সখ ও হুঃখ। ১৪৫ 


মানব জীবনের অবশ্যন্তাবিনী একটী অবস্থা! ভাবিয়া! উহ! সংবরণ 
করাই মনুত্তের কর্তব্য । রর 

স্থখের অর্জজনও দুঃখের বর্জন জীবের প্রত্যেক কর্মের 
উদ্দেশ্য হইলেও স্বীয় বুদ্ধির ক্রুটিতে ব৷ অসাবধানতার ফলে কৃত 
কম্মের জন্য জীবকে ক্লেশ ভোগ করিতে ছয়। অতএব, সুখ ও 
ছুঃখ অনেকটা নিজ কর্ট্মের কলাকল।' স্ুপথে চলিয়া সতকম্্ম 
করিলে সখ ও কুপথে চলিয়া কুকর্ম্প করিলে ছুঃখ হয়, ইহা অতি 
সাধারণ নীতি সূত্র । এস্থলে ইহাও বক্তব্য যে যাহারা কুপথে 
চলিয়৷ কুকম্দ্ম করে, তাহারা নিজের বিকৃত বুদ্ধিতে এ কর্মে 
সুখ লাভ করিবে ভাবিয়াছিল; কেন না পূর্ব্বেই বল! হইয়াছে, 
ুখ প্রাপ্তিই মানবের সমুদয় ক্রিযার উদ্দেশ্য | বুদ্ধির বিক্ৃতিতে 
জীবের দুঃখ হয়, এতদ্ৃষ্টেই বুঝি বা পাশ্চাত্য পুরাণের “মতে 
বুদ্ধি-বৃক্ষের ফলাম্বাদনে দুঃখের উৎপত্তি বণিত হইয়াছ্ছে ।% 

এঁতদ্-ব্যতীত স্খ-ছুঃখ কিয্্পরিমাণে নিয়তির উপরও 
নির্ভর করে। নিয়তি বা অনৃ্ট কেবল যে প্রাচীন জগতেই 
মান্য হইত এমন নহে; অধুনাতন দার্শনিকগণের মধ্যেও উহার 
প্রভাব দৃষট হয়। অনেক স্থলে দেখা গিয়াছে, সহুদেদশ্যে সৎ- 
কর্শের অনুষ্ঠান হইতেছে, যাহার ফলে কর্্ুকর্তীর ও সাধারণের 
সখ প্র; কিন্ত হঠা সমস্তই ষেন বিপধ্যন্ত হইয়া পডিল, 
প্রাচীনতন প্লাদ কর্তার সঙ্গে বলিতে হইল-__ 


* ধর শাহে পাপ ও পৃগাকেই বথাকমে হখ ও হাঃখের নিদান হলিয়। নিদিষ্ট হইয়াছে 
এরস্থলে এতটিবয়ে ঘিস্তারি জালোচনা নিশ্রায়োজন (যোধ হইল। ্ 


১৪৬ প্রবন্ধাষ্টিক। 


“স্থতের লাগিব! এ ঘর বীধিনু অনলে পড়িয়া! গেল। 
অমিয় সাগরে সিনান করিতে সকলি গরল জেল ॥* 
শাশ্বতিক সুখ লাভ বা! আত্যন্তিক ছুঃখ নিবৃত্তির জন্য যদিও 
আবহমান কাল হইতে মানবগণ নান! উপায় উন্তাবনের চেষ্টা 
পাইতেছে, তথাপি এধাবশ উহার কোন ফ্রুব উপায় কি কৌশল 
আবিষ্কৃত হইল না। চিন্তাশীল দার্শনিকগণ জগতকে ছুঃখময় 
জ্ঞান করিয়া, কিসে স্থুখ, উহা'র তন্বানুসন্ধান করিয়াছেন; ভাবুক 
কবিগণ নানাভাষায় নানাচ্ছন্দে উহারই অনুশীলন করিয়াছেন ; 
এবং পারমার্থিক সাধুগণেরও উহাই সাধনার বিষয় ; কিন্তু যত 
দিন জগতে “ভিন্ন কচিহি লোকঃ*__এই প্রবাদ থাকিবে, তত 
দিন এই সমস্যার সর্বববাদিসন্মত সিদ্ধান্ত স্থদূর-পরাহত। পরস্ত 
জ্ঞান'ও বিজ্ঞানের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে" ষেন স্থখ ও দুঃখের মাত্র! 
বথাক্রমে হ্রাস ও বৃদ্ধি পাইয়া উক্ত প্রছেলিকাকে আরও জটিল 

করিয়া তুলিতেছে । 
এখন প্রকৃত ন্তুখী কে, এই প্রশ্নের কিঞ্চিত আলোচন! করা 
যাউক। একবার বকরূপী ধর্ম কর্তৃক যুধিষ্ঠির মহারাজকে এ 
প্রশ্ন করা হইয়াছিল। উত্তরে যুধিষ্ঠির বলিয়াছিলেন, 
“দিবসন্যাষ্টমে ভাগে শাকং পচতি যো নরঃ। 
অনৃণী চাপ্রবাসী চ স বারিচর মোঙতে ॥৮ 
দিনাস্তে একবার যে ব্যক্তি শাক মাত্র আহার করে অথচ খণ- 
জালে জড়িত হয় না এবং (ধন লোভে) দেশে বিদেশে ভ্রমণ করে 
না, সেই বাক্তিই হুত্বী। ফলতঃ যদি অভাবই ছুঃখের মুল বলিয়! 


বরই ১৪৭ 


ধরা যায় বে যে ব্যক্তির কোন খ অনার বোধ নাই, অর্থাৎ থে 
কোন অবস্থাতেই সন্তটি আছে, সেই ব্যক্তিই প্রকৃত স্থখী। 7 

সখের মূল সন্তোষ ও দুঃখের মূল অভাব। নিদান স্থির হইলে 
ওঁষধ নির্ববাচন কর! অপেক্ষাকৃত সহজ । সন্ত্ষ্তির অনুশীলন ও 
অভাবের হৃস্বীকরণ সখ লাভের ও ছুঃখাপনোদনের প্রকৃষ্ট উপায়। 
ভিন্ন করিয়া! বলিলেও এ দুইটা একই কথা; যেহেতু স্তুখ ও. 
দুঃখ উভয়ের মধ্যে এমনই সম্বন্ধ ষে একের আবির্ডাবে অপরের 
তিরোধান সূচিত হয় । 

আমরা সচরাচর যে সকল' উপভোগের সামগ্রীকে সুখের 
উপাদান বলিয়া মনে করি£ উহারা অনেকেই কিন্ত সম্তোষের 
অন্তরায় ও অভাবের প্রকৃত জনক । উহারা যত প্রশ্রয় লাভ, ' 
করিবে, সন্ভোষ ততই ,দুরুবর্তী হইতে "থাকিবে এবং উহাদের 
অনুবন্ধী নূতন নুতন অভাবের আবির্ভাব হইতে থাকিবে। 
ধাষি শাপে রাজা ঘযাতির অক্গল বাদ্ধক্য হইয়াছিল । একে 
যৌবন কাল তাহাতে আবার বিপুল এশর্য ও অপ্রতিহত ক্ষমত। ; 
রাজার এমন অবস্থায় বার্ধক্যের উদ্য়ে মনে হইল, “হায়, জন্মের 
মত্ত স্থুখভোগ হইতে বঞ্চিত হইলাম; এমন কেহ কি নাই বে 
কিয়দদিন আমার জরাভার বহন্‌ কক্পে ? তাহা! হইলে ইতি মধ্যে 
আমান ভোগন্ুখলালসটা চরিতার্থ করিয়। লইতে পারিতাম ।”, 
কনিষ্ঠ পুত্র পুক যযাতির জরাতার অঙ্গীকার করিলেন। রাজা 
দীর্ঘকাল যৌবনলীলার ্থুখ ভোগ করিলেন, কিন্তু পরিশেষে 


বুঝিলেন-_- 


১৪৮ প্রবন্ধাষ্টক | 


দন জাতু কামং কামানামুপভোগেন শাম্যতি। 
হুবিষা কৃষ্ণবর্তেৰ ভুয়ো ভূয়োহভিবর্ধতে 1” 
স্বতাহুতিতে যেমন অগ্নি উদ্দীপিত হয় মাত্র, নির্ববাপিত হয় না, 
তল্রপ উপভোগ দ্বারা বিষয় লালসা নিবারিত না হইয়! কেবল 
পরিবদ্ধিতই হইয়া থাকে । 
স্থখের জন্য আকাঙক্ষণই সুখ ভোগের অন্তরায়; কারণ 
আকাঙ্ক্ষামাত্রেই অভাব, অর্থা ছঃখের নিদান, জড়িত থাকে । 
সুতরাং ভোগ প্রবৃত্তির প্রশ্রয় দান অপেক্ষা! দমনের অনুশীলনই 
কর্তব্য, ইন্হাতে ভোগ হ্থুখের অভিলাষের মাত্র! ক্রমশঃ হ্রাস হইয়া 
সন্তোষের আবির্ভাব হইয়া থাকে 1৭ এই সন্তোষই ধূতি, তিতিঙ্গণ, 
দম) শম, বৈরাগ্য প্রভৃতি সকলেরই নামান্তর ব| ভাব বিশেষ 
মাত্র $ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় উহার্ই ,অন্শীলনার্থ ভূয়োভূয়ঃ 
উপদেশ দেওয়া হইয়াছে । 
সন্তোষ স্যধনায় সিদ্ধি লাভ করিলে কীদৃশী অবস্থা হয়? 
আমর! উহার কি বলিব, কি বুঝিৰ? যেহেতুঃ আমরা কখন 
স্থখের ভাবে উৎসিক্ত, আবার, কখন ছুঃখের তাডনায় উদ্বেজিত ! 
শুনিয়াছি যেমন পল্পুপত্রে জলবিন্দু পতিত হইলে অচিরেই তাহা! 
পড়িয়া যায়, এক কণাও উচ্থাতে লাগিয়া থাকিতে পারে না, 
এপ ভাবাপন্স ব্যক্তির হৃদয়ে ও তক্মপ দুখোকর ভাব ক্ষণতালের 
জন্যও অধিকার লাভ দূরে থাকুক, প্রবেশ লাভ পর্যন্ত করিতে 
পারে না। 
সন্তোষ, সাধনের আর একটি প্রকৃষ্ট উপায় আছে। ধন 





সুখ শু ছুঃখ। ২৩৯ 


, জন প্রভৃতি সাংসারিক বিষয়ের উপর চিত্তের প্রবণত! জন্মিলে, 
উক্ত নশ্বর বস্তুর ভাবাভাবের উপর জীবের হ্বখ ছুঃখ অনেকটা" 
নির্ভর করিয়া থাকে ৷ পরস্ত, শ্রবিনশ্বর পদার্থ কিছু যদি থাকে 
তত্প্রতি প্রেম জন্মাইতে পারিলে এক চিরস্থায়ী আনন্দের অধিকারী 
হওয়া যায়, ছুঃখ তাহার নিকটে কদাপি আসিতে পারে না । ফলত: 
তগবদাসক্ত-চিত্ত ব্যক্তিগণ যে কি এক অনির্ববচনীয় অবিমিশ্র সুখ 
লাভ করিয়া থাকেন তাহা কেবল তীহাদেরই অনুভূতির বিষয়। 
উপরে সখ লাভ ও ছুঃখোত্পাদনের যে যে উপায় উল্লেখিত 
হুইল, তাহ! কেবল কয়েকটা স্ুলতম কথা মাত্র। পরম্ত্ব উহ্থাতে 
আতান্তর অর্থাত মানসিক প্হুখ ও দুঃখের বিষয়ই আলোচিত 
হইয়াছে, ভৌতিক স্থুখ দুঃখ, অর্থাৎ শারীরিক ভোগ ও ক্রেশ, 
সগ্গন্ধে বিশেষ করিয়া! *ক্ছু বলা হয় নাই। এতৎ সম্বজ্ধ এই 
মাত্র বলিলেই হইবে যে, অন্তর্জগতের সজে বহির্জগতের এমনই 
শ্বনিষ্ঠ সম্পর্ক যে একের অবস্থাস্তরে অপরের স্ববস্থান্তর অবশ্য- 
স্তাবী। যাহারা সাধনা রাজ্যে কিছুমাত্র প্রবেশ লাভ করিয়াছেন, 
তাহারা বলিয়া থাকেন যে; অন্তর্জাগতের সংগ্রামে যিনি অত্যল্প 
পবিমাণে জয়লাভ করিযাছেন, তাহার বাহ প্রকৃতিকে পরাজয় 
করিতে অধিক আবাস করিতে হয়ন্সা। উদ্বেলিত সুখ ও ছুঃখের 
বাহব্বিকাশ হান্য ও ক্রন্দন। জগতের এমনই লীলা, সম্ভোজাতু 
শিশুও এই স্ুখ ছুঃখের অধীন, নতুবা তাহারও হাসি কান্না 
দেখিতে পাইব কেন ? এই স্ভোজাত “সাহিত্য সেবকে” সুতরাং 


৮১০৫ সুখ ও ভুঃখ। 
এ 88 
প্রথষেই এই সখ ভুঃখের কাহিনী গাছিতে হইল। লহ্গঘয় 
শ্রিকর নিকট তজ্জন্য মাঞ্জনা প্রার্থন! করি | 


[সাছিত্য সেবক ১ম খণ্ড ১ম সংখ্যা পৌষ ১৩১২] 


পু